খাগড়াছড়ি জেলার ৯ উপজেলায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে ৪২৫টি। এর মধ্যে ৮৩টি বিদ্যালয় ভবন জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। ক্লাসরুম সংকটের কারণে জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ এসব ভবনে চলছে পাঠদান। তবে এসব ভবনের সংস্কার বা পুনর্নিমাণের উদ্যোগ নেই কর্তৃপক্ষের।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, খাগড়াছড়ি জেলার ৯ উপজেলার ৩৮ ইউনিয়নের মধ্যে ৮৩ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছে। ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর মধ্যে খাগড়াছড়ি সদর উপজেলায় ২৪টি, মাটিরাঙা উপজেলায় ১৮টি, পানছড়ি উপজেলায় ১১টি, মহালছড়ি উপজেলায় ১৫টি, রামগড় উপজেলায় ৭টি, লক্ষ্মীছড়ি উপজেলায় ৪টি, দীঘিনালা উপজেলায় ৫টি এবং মানিকছড়ি উপজেলায় ১০টি প্রাথমিক বিদ্যালয় জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে।
খাগড়াছড়ি সদর উপজেলার কমলছড়িমুখ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সিরাজুল ইসলাম বলেন, ক্লাস সংকটের কারণে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে প্রথম, তৃতীয় শ্রেণিসহ অফিসকক্ষ রয়েছে। দুই শ্রেণিতে ৬০ জন শিক্ষার্থী ও ১০জন শিক্ষক নিয়মিত কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। গত ১০ বছরে চিঠি লিখেও কোনও সমাধান হয়নি।
খাগড়াছড়ি জেলা শিক্ষক সমিতির সাধারণ সম্পাদক নুরুল আবছার বলেন, অনেক বিদ্যালয় কয়েক বছর আগে জাতীয়করণ করা হয়েছে। ফলে অনেক স্কুলই এখনও পাকা ভবন পায়নি। বেশিরভাগ স্কুল টিনশেড। এসব বিদ্যালয়ের পাশাপাশি অনেক পাকা ভবনও ঝুঁকিপূর্ণ। আশঙ্কা ও আতঙ্কের মধ্যে মানসম্মত পাঠদান হয় না। এসব ভবন দ্রুত পুনর্নির্মাণের দাবি জানান তিনি।
মাটিরাঙা উপজেলা শিক্ষা অফিসার কৃষ্ণ লাল দেবনাথ বলেন, মাটিরাঙার যেসব বিদ্যালয় জাতীয়করণ করা হয়েছে সেগুলোর বেশিরভাগই জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ। বেশিরভাগ স্কুলই টিনশেড ও বাঁশের বেড়ার তৈরি। ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখন পর্যন্ত সেগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। ঝুঁকিপূর্ণ ১৮ স্কুলের মেরামতের জন্য ৪০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ দিয়েছে মন্ত্রণালয়। আর যেসব স্কুল পাকা কিন্তু সংস্কার প্রয়োজন এমন ১৬টি স্কুলের জন্য দেড় লাখ টাকা করে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার ফাতেমা মেহের ইয়াসমিন বলেন, গত বছর ২৭ নভেম্বর জরাজীর্ণ ও ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলোর তালিকা তৈরি করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকের কাছে চিঠি পাঠিয়েছেন। সেই চিঠির কপি একই অধিদফতরের পরিচালকের (পরিকল্পনা ও উন্নয়ন) কাছে পাঠানো হলেও এখন পর্যন্ত কোনও সিদ্ধান্ত পাওয়া যায়নি।
খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কংজরী চৌধুরী বলেন, তিনি মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠিয়েছেন। যদি ভালো সাড়া না পান তবে পার্বত্য জেলা পরিষদ ছোট ছোট স্কিমের মাধ্যমে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনগুলো ভেঙে নতুন ভবন তৈরি করবে। বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে প্রাথমিক শিক্ষাকে আরও জনবান্ধব করা হবে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।








