ঝুঁকিপূর্ণ সাঁকোতে ২০ গ্রামের বাসিন্দাদের পারাপার

রফিকুল ইসলাম, ফেনী
০১ জুলাই ২০১৯, ১৮:০১আপডেট : ০১ জুলাই ২০১৯, ২০:০২

ছোট ফেনী নদীর ওপর বাঁশের সাঁকো ফেনীর দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের উত্তর কৈখালীর কাছে ছোট ফেনী নদীর ওপর সেতু নেই। নদীর ওপর নির্মিত বাঁশের একটি সাঁকোই তিন উপজেলার ২০ গ্রামের লাখো মানুষের ভরসা।

স্থানীয়রা জানান, প্রায় ২০ বছর ধরে এলাকাবাসীর চাঁদায় নির্মিত বাঁশের সাঁকো দিয়ে ২০ গ্রামের মানুষকে যাতায়াত করতে হচ্ছে। প্রতিদিন এ পথে দাগনভূঞা উপজেলার সিন্দুরপুর ইউনিয়নের উত্তর কৈখালী, দক্ষিণ কৈখালী, কৌশল্যা, নারায়ণপুর, সাদেকপুর, সেকান্দরপুর, ফেনী সদর উপজেলার শর্শদী ইউনিয়নের উত্তর আবুপুর, দক্ষিণ আবুপুর, এলাহীগঞ্জ, কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার আলকরা ইউনিয়নের বাকগ্রাম, দক্ষিণ বান্দেরজলা, উত্তর বান্দেরজলা, আলকরা, ধোপাখিলা, নারায়ণকুরি এবং গুণবতী ইউনিয়নের আকদিয়া, চাঁপালিয়া পাড়া, বৈধড়া, খাডরা, গুণবতী গ্রামের মানুষ ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন।

দক্ষিণ কৈখালী গ্রামের জলিল আহমেদ বলেন, নির্বাচন এলেই এলাকার জনপ্রতিনিধিরা এখানে সেতু নির্মাণের প্রতিশ্রুতি দেন। ভোটে জয়ের পর আর প্রতিশ্রুতির কথা মনে থাকে না তাদের।

উত্তর বান্দেরজলার সাহাব উদ্দিন বলেন, সাঁকোর জায়গায় সেতু নির্মাণ করা হলে কুমিল্লার নাঙ্গলকোটের বক্সগঞ্জ এলাকার মানুষও সেতুটি ব্যবহার করে সহজে ফেনীতে যাতায়াত করতে পারবেন।

সাদেকপুর গ্রামের কবির হোসেন বলেন, বর্ষার সময় পাহাড়ি ঢলে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো ভেসে যায়। বর্ষা শেষে আবার গ্রামের লোকজন চাঁদা তুলে সাঁকো নির্মাণ করেন। এভাবেই চলছে যুগের পর যুগ।

কলেজছাত্র জহির খান বলেন, সাঁকোর দিয়ে অনেকে ভয়ে চলাচল না করে নৌকায় নদী পার হয়। নদী পারাপারে জনপ্রতি দিতে হয় পাঁচ টাকা করে। গরিব লোকজন বাধ্য হয়ে সাঁকো ব্যবহার করেন।

স্থানীয় সিন্দুরপুর ইউনিয় পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মো. নুর নবী বলেন, ওখানে সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বরাবরে কয়েকবার আবেদন করা হয়েছে। কিন্তু কোনও কাজ হয়নি। গত বর্ষায় সাঁকো থেকে পড়ে সেকান্দরপুর ও উত্তর কৈখালী গ্রামের দু’টি শিশু মারা গেছে।

দাগনভূঞা উপজেলা চেয়ারম্যান দিদারুল কবির রতন বলেন, তিনি বিষয়টি স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের কাছে শুনেছেন। জেলা পরিষদ ও স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সেখানে সেতু নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে।

/টিটি/এমওএফ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
প্রায় দ্বিগুণ হচ্ছে বিমানের ছয় হাজার কর্মীর ভাতা
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
পুলিশের পোশাকে ‘ধর্ষককে’ নেওয়া হলো থানায়, ১৩ দিনে আদালতে অভিযোগপত্র
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
ইরানি ইসলামি শাসনবিরোধী শিল্পী মারজান সাত্রাপির প্রয়াণ
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
হজে গিয়ে পাসপোর্ট হারালে যা করবেন
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী