রাঙামাটিতে ভারী বর্ষণের পূর্বাভাসে পাহাড় ধসের আশঙ্কা করছে জেলা প্রশাসন। এ পরিস্থিতিতে রাঙামাটি শহরে ২১টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। যেকোনও ধরণের দুর্ঘটনা এড়াতে পাহাড়ের পাদদেশ ও কাপ্তাই হ্রদের তীরবর্তী স্থানে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসরতদের সতর্ক থাকা ও আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে। শনিবার (৭ জুলাই) বিকালে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে এক জরুরি সভায় এসব তথ্য জানান জেলা প্রশাসক একেএম মামুনুর রশীদ।
জেলা প্রশাসক জানান, যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় ফায়ার সার্ভিস, বিদ্যুৎ বিভাগ ও রেড ক্রিসেন্ট সোসাটিসহ সব সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আশ্রয় কেন্দ্রে যারা আসবেন, তাদের জন্য খাবারের ব্যবস্থা করা হবে। পাহাড় ধসে প্রাণহানি ঠেকাতে এ বছর রাঙামাটি শহরের ৩৩টি স্থানকে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় মাইকিং করে ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় বসবাসরতদের আশ্রয়কেন্দ্র আসতে বলা হয়েছে।’
মামুনুর রশীদের সভাপতিত্বে সেখানে আরও উপস্থিত ছিলেন—অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) এসএম শফি কামাল, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী সবুজ কান্তি মজুমদার, জেলা প্রশাসনের এনডিসি উত্তম কুমার দাশ ও প্যানেল মেয়র জামাল উদ্দীনসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তারা।
প্রসঙ্গত, ২০১৭ সালের ১৩ জুন রাঙামাটিতে প্রবল বর্ষণের পর পাহাড় ধসের ঘটনায় পাঁচ সেনা সদস্যসহ ১২০ জনের প্রাণহানি ঘটে। এ সময় আহত হন আরও দুই শতাধিক মানুষ। এর এক বছর পার না হতেই ২০১৮ সালের ১২ জুন রাঙামাটির নানিয়ারচর উপজেলায় প্রবল বর্ষণে পাহাড় ধসের ঘটনায় মৃত্যু হয় ১১ জনের। ঝুঁকির কথা জেনেও এসব এলাকায় বসবাস করছে অন্তত ৬২৯টি পরিবার।







