ফেনীর সোনাগাজী ইসলামিয়া সিনিয়র ফাজিল মাদ্রাসার ছাত্রী নুসরাত জাহান রাফিকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার মামলায় আরও ছয়জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেছেন আদালত। বুধবার (২৪ জুলাই) ২০তম দিনের মতো ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ সোনাগাজী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ ও উপাধ্যক্ষসহ ছয়জনের সাক্ষ্য নেন।
এসব তথ্য নিশ্চিত করে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী (পিপি) হাফেজ আহাম্মদ জানান, এপর্যন্ত এই মামলার ৯২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৪৭ জনের সাক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।
পিপি হাফেজ আহাম্মদ বলেন, ‘সাক্ষ্যদানকালে সোনাগাজী সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ মহি উদ্দিন চৌধুরী জানান, ২০ এপ্রিল দুপুরে তাদের সামনে আসামি জুবায়ের হত্যাকাণ্ডের সময় নিজের পরিহিত বোরকা দেখিয়ে দেয়। পরে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) তদন্ত দল সোনাগাজী সরকারি কলেজের দক্ষিণ-পূর্ব পাশে ডাঙ্গিখাল থেকে বোরকাটি উদ্ধার করে। এসময় জোবায়ের পিবিআইয়ের তদন্ত দলকে জানায়, নুসরাতের গায়ে আগুন দেওয়ার পর পরই সে বোরকাটি এখানে খুলে পালিয়ে যায়।’
পিপি আরও জানান, এর আগে সাক্ষ্যদানকালে মামলার ৪৩ নম্বর সাক্ষী হাফেজ মোবারক হোসেন, ৪৪ নম্বর সাক্ষী মোহাম্মদ ইব্রাহিম, ৪৫ নম্বর সাক্ষী রেজা মোহাম্মদ এনামুল হক চৌধুরী আদালতকে একই কথা জানান।
তিনি আরও বলেন, ‘সাক্ষ্যদানকালে ভূঞা বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি মো. নুর উদ্দিন আদালতকে জানান, ২৪ এপ্রিল সন্ধ্যায় আসামি শাহাদাত হোসেন শামীমকে নিয়ে মুদি দোকানি লিটনের দোকানে যায় পিবিআই। তারা সেখান থেকে মাঝারি আকারের পুরাতন একটি প্লাস্টিকের চোঙা, হাতলযুক্ত টিনের পাত্র, কালো পলিথিন, কেরোসিন মাপার পাত্র ও কেরোসিন রাখার ড্রাম জব্দ করেন। তিনি জব্দ তালিকায় স্বাক্ষর করেন।’
বাদীপক্ষের আইনজীবী এম শাহজাহান সাজু জানান, আজ (বুধবার) সকাল সাড়ে ১১টায় কঠোর নিরাপত্তার মধ্যদিয়ে মামলার ১৬ আসামিকে আদালতে আনা হয়। এরপর রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী চার সাক্ষীকে আদালতে হাজির করেন। মামলার ৪৮ নম্বর সাক্ষী এমদাদ হোসেন পিংকেল, ৪৯ নম্বর মো. শাহজাহান, ৫০ নম্বর সাক্ষী মোহাম্মদ আবুল কাশেম, ৫০ নম্বর সাক্ষী সেলিম উর রেজার সাক্ষ্যগ্রহণের জন্য আদালত আগামীকাল বৃহস্পতিবার দিন ধার্য করেছেন বলেও জানান এম শাহজাহান সাজু।
এর আগে, ২৭ ও ৩০ জুন মামলার বাদী ও নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমানকে জেরার মধ্যদিয়ে এই মামলার বিচারকাজ শুরু হয়।
২৯ মে আদালতে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ১৬ জনকে অভিযুক্ত করে ৮০৮ পৃষ্ঠার অভিযোগপত্র দাখিল করে। ৩০ মে মামলাটি ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে স্থানান্তর হয়। ১০ জুন আদালত মামলাটি আমলে নিলে শুনানি শুরু হয়। ২০ জুন অভিযুক্ত ১৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন বিচারিক আদালত।
উল্লেখ্য, নুসরাত সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার আলিম পরীক্ষার্থী ছিলেন। ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ সিরাজউদ্দৌলার বিরুদ্ধে তিনি যৌন নিপীড়নের অভিযোগ করেন। নুসরাতের মা শিরিন আক্তার বাদী হয়ে ২৭ মার্চ সোনাগাজী থানায় মামলা দায়ের করেন। এরপর অধ্যক্ষকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পরে মামলা তুলে নিতে বিভিন্নভাবে নুসরাতের পরিবারকে হুমকি দেওয়া হয়। ৬ এপ্রিল সকাল ৯টার দিকে আলিম পর্যায়ের আরবি প্রথমপত্রের পরীক্ষা দিতে সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসা কেন্দ্রে যান নুসরাত। এসময় তাকে কৌশলে পাশের বহুতল ভবনের ছাদে ডেকে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। সেখানে তার গায়ে কেরোসিন ঢেলে আগুন দেওয়া হয়। ১০ এপ্রিল রাত সাড়ে ৯টায় ঢামেক হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে নুসরাত মারা যান। এই ঘটনায় নুসরাতের বড় ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান বাদী হয়ে ৮ এপ্রিল সোনাগাজী মডেল থানায় মামলা দায়ের করেন।








