নোয়াখালীতে শনিবার (২৭ জুলাই) বিকাল ৪টা পর্যন্ত ১৪ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে। তাদের জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। সদর হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ শনাক্তের ব্যবস্থা না থাকায় ভোগান্তিতে পড়েছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
হাসপাতাল সূত্র জানায়, আক্রান্ত ১৪ জনের মধ্যে ৯ জন নোয়াখালী ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতাল, চারজন প্রাইম হাসপাতাল ও একজন গুড হিল হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন। জেনারেল হাসপাতালে যে ৯ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন, তাদের একজন নোয়াখালী সদরের, একজন লক্ষ্মীপুর সদরের, দুজন নোয়খালীর সেনবাগের, দুজন বেগমগঞ্জের, দুজন সোনাইমুড়ীর ও একজন সুবর্ণচরের চরজব্বর গ্রামের বাসিন্দা।
জানা যায়, নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালসহ জেলার কোনও সরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগ পরীক্ষার ব্যবস্থা নেই। নিরুপায় হয়ে রোগীদের ছুটতে হচ্ছে বেসরকারি হাসপাতালে। এই সুযোগে হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগ শনাক্তকরণ পরীক্ষার নামে রোগীদের কাছ থেকে হাতিয়ে নিচ্ছে বিপুল পরিমাণ অর্থ। এমনকি ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার জন্য নেই বিশেষ ব্যবস্থাপনা। সাধারণ রোগীদের সঙ্গেই চলছে ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসা। তাদের কোনও আলাদা রুম বা বেড দেওয়া হচ্ছে না। এতে অন্য রোগীরা ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন।
ডেঙ্গু রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে ভর্তি হয়েও বাইরে থেকে কিনে আনতে হচ্ছে অধিকাংশ ওষুধ।
নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসকরা ডেঙ্গু রোগীদের বিষয়ে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকার কথা স্বীকার করেন। মেডিক্যাল অফিসার ডা. সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, গত চার দিনে ডেঙ্গুর জীবাণু নিয়ে ৯ জন রোগী এই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। তারা সবাই ঢাকায় আক্রান্ত হয়ে জ্বর নিয়ে এই হাসপাতালে ভর্তি হন। ভর্তি রোগীদের বেশিরভাগই ভালো আছেন। হাসপাতালে অতিরিক্ত রোগী থাকার কারণে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কর্নার করা সম্ভব হয়নি। কিছুদিনের মধ্যে তাদের জন্য আলাদা ওয়ার্ড করার পরিকল্পনা রয়েছে।
এই চিকিৎসক আরও জানান, ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা দুই-এক দিনের মধ্যেই আসবে। তখন এই হাসপাতালেই এ রোগ শনাক্ত করা সম্ভব হবে।








