ফাহিমকে তার প্রতিবেশী আরিফ হত্যা করেছে উল্লেখ করে নগর পুলিশের উপ-কমিশনার (দক্ষিণ) মেহেদি হাসান জানান, আরিফের স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলায় সে পূর্ব পরিকল্পনা অনুযায়ী এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। আরিফকে ভোলা সদর থানাধীন রতনপুর এলাকা থেকে গ্রেফতারের পর পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে সে এসব কথা জানিয়েছে। বুধবার (২৮ আগস্ট) দুপুর ১টার দিকে উপ-কমিশনারের (দক্ষিণ) কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলন তিনি এসব কথা জানান।
তিনি আরও জানান, আরিফ গত ২০ আগস্ট রাত আনুমানিক সাড়ে ৮টার দিকে প্রথমে শাহাবউদ্দিন নামে একজনের মোবাইল ফোন থেকে ফাহিমকে অড্ডা দেওয়ার জন্য ডাকে। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করার পর না আসায় শাহজাহান নামে আরেকজনের ফোন থেকে আবার কল দেয়। ১০ মিনিট পর ফাহিম এলে তাকে আড্ডার কথা বলে পরিত্যক্ত ওই ট্যাংকের কাছে নিয়ে যায়। সেখানে যাওয়ার পর প্রথমে ছুরি দিয়ে তার গলায় পোচ দেয়। এতে তার শ্বাসনালি কেটে যায়। এরপর মৃত্যু নিশ্চিত করতে ফাহিমের বুক, পিঠ ও পেটে এলোপাতাড়ি ছুরিকাঘাত করে। পরে তার লাশ ট্যাংকে ফেলে দেয়।’
আরিফ (২২) নগরীর ডিসি রোডের শহিদ কমিশনার গলির কাশেম সাহেবের বাড়ির মো. খোকন প্রকাশ হেনজার ছেলে। বর্তমানে তার পরিবার চকবাজার থানাধীন আবু কলোনির আবুল কাশেমের বাসার নিচতলায় ভাড়া থাকে। সে তার বাবার সঙ্গে মাছের ব্যবসা করতো।
মেহেদি হাসান বলেন,‘গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আরিফ জানিয়েছে, সে ফাহিমের সঙ্গে প্রায়ই আড্ডা দিতো। তার স্ত্রী চাকরিতে গেলে ফাহিম তাদের বাসায় এসে আড্ডা দিতো। তারা মাঝে মাঝে ইয়াবাও সেবন করতো। ফাহিম আড্ডার ফাঁকে ফাঁকে আরিফ ও তার স্ত্রীকে নিয়ে বাজে কথা বলতো। ঘটনার দুই দিন আগেও একটি বাজে কথা বলায় তার খুব রাগ হয়। তখনই আরিফ তাকে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয়। সেই প্ল্যান অনুযায়ী সে ফাহিমকে হত্যার জন্য ২০ আগস্ট সকালে ছুরি ও একটি পাতলা কাথা ওই ট্যাংকের কাছে রেখে আসে। পরে পরিকল্পনা অনুযায়ী ফাহিমকে সেখানে ডেকে নিয়ে হত্যার পর লাশ কাঁথা দিয়ে মুড়িয়ে আবুল কাশেমের দোতলা ভবনের পরিত্যক্ত পানির ট্যাংক ফেলে দেয়।
প্রসঙ্গত, গত ২৩ আগস্ট দুপুর দেড়টার দিকে চকবাজার এলাকার আবুল কাশেমের দোতলা ভবনের পরিত্যক্ত পানির ট্যাংক থেকে পুলিশ ফাহিমের গলিত মরদেহ উদ্ধার করে। ফাহিম পটিয়া উপজেলার আজিমপুর গ্রামের আনোয়ার হোসেনের ছেলে। সে নগরীতে একটি সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট হিসেবে কাজ করতেন। এর আগে গত ২০ আগস্ট থেকে ফাহিম নিখোঁজ ছিল। পরে ওই ট্যাংক থেকে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়লে এর কারণ খুঁজতে গিয়ে স্থানীয়রা ট্যাংকে তার মরদেহ দেখতে পায়। খবর পেয়ে পুলিশ গিয়ে ফাহিমের মরদেহ উদ্ধার করে।








