ঘুষের নগদ টাকা ও চেকসহ চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ের এক কর্মচারীকে আটক করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। তার নাম মো. নজরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (৭ নভেম্বর) বিকাল ৪টার দিকে নগরীর ষোলশহরস্থ শপিং কমপ্লেক্সের একটি দোকান থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়।
দুদক সমন্বিত কার্যালয় চট্টগ্রাম-২ এর সহকারী পরিচালক রতন কুমার দাশ এ তথ্য জানিয়েছেন। একই ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের অফিস সহকারী তসলীম উদ্দিনকে আটক করা হয়েছে বলে তিনি জানান।
নজরুল বর্তমানে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ে চেইনম্যান (শিকল বাহক) হিসেবে কর্মরত রয়েছেন। এর আগে তিনি জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের এলএ শাখায় কর্মরত ছিলেন। তিন বছর আগে অনিয়মের অভিযোগে তাকে ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে বদলি করা হয়।
রতন কুমার দাশ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘শপিং কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলার আনুকা নামক একটি পোশাকের দোকানে ১০ লাখ টাকার মতো ঘুষ লেনদেন হচ্ছে এমন সংবাদ পেয়ে আমরা ওই দোকানে অভিযান চালাই। পরে ওই দোকানে তল্লাশি করে নগদ সাড়ে ৭ লাখ টাকা এবং সাড়ে ৯০ লাখ টাকার ৮টি চেক পাই। এছাড়া দোকান থেকে জমি অধিগ্রহণ সম্পর্কিত বেশ কিছু কাগজপত্র পেয়েছি। নগদ টাকার বৈধ কোনও কাগজপত্র দেখাতে পারেননি নজরুল। দোকানে আজ কোনও বেচাকেনাও ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘চেকগুলো জমি অধিগ্রহণের টাকা উত্তোলন করে দেওয়ার কথা বলে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে ঘুষ বাবদ অগ্রিম নেওয়া হয়েছিল। এ ঘটনায় আমরা আনুকা দোকানের মালিক ফটিকছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে কর্মরত নজরুল ইসলামকে গ্রেফতার করি। অভিযানের সময় ওই দোকানে জেলা প্রশাসন কার্যালয়ের অফিস সহকারী তসলিম উদ্দিনকে দেখতে পাই। আমরা ধারণা করছি, এই ঘটনার সঙ্গে তার কোনও সম্পৃক্ততা থাকতে পারে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আমরা তাকে আটক করেছি।’








