স্যার হাংরি হাংরি বলে চিৎকার করছিলেন ট্রাকে ভিড়ের মধ্যে থাকা রোহিঙ্গা যুবক নুর হাফেজ। উদ্দেশ্য দৃষ্টি আকর্ষণ করে যদি কিছু খেতে পাওয়া যায়। ট্রলারে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে, ৫৮ দিন সমুদ্রে কেটেছে বিপন্ন জীবন। খাওয়া তো দূরের কথা বেঁচে থাকাই দায়।
বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে সমুদ্রপথে মালয়েশিয়া যাওয়ার চেষ্টা করে ফেরত আসে একদল রোহিঙ্গা। ফিরে আসে ৩৯৬ রোহিঙ্গাদের ১৬ এপ্রিল জাতিসংঘের শরণার্থী বিষয়ক সংস্থা ইউএনএইচসিআরের কাছে হস্তান্তর করা হয়। সেখানে এক কর্মকর্তাকে দেখে ক্ষুধার কথা এভাবেই চিৎকার করে জানায় নুর হাফেজ।
নুর হাফেজ গন্তব্যহীন যাত্রার বিপন্নকাহিনী তুলে ধরতে গিয়ে কাঁদতে কাঁদতে বলেন, 'প্রায় দুই মাস সাগরে উপাসে দিন কেটেছে। প্রথমে এক মাস কোনও মতে ভাত খেয়েছি। পরে মাসের শুধু এক বেলা পানি। কোনও রকমে জীবন রক্ষা করতাম। এই নিয়ে অনেকবার ট্রলার ক্রুদের সঙ্গে ঝগড়াও হয়েছিল। এতে অনেকবার লাঠির আঘাত পেয়েছি। সাগরে অভুক্ত অনেকের চোখেমুখে বেঁচে থাকার আকুল আকুতি ছিল। কিন্তু দূভাগ্য অনহারে মৃত্যু হয়েছে তাঁদের।'
টেকনাফ স্টেশন কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তা লে. কমান্ডার এম. সোহেল রানা জানান, থাই-মালয় ও মিয়ানমার সীমান্তে ব্যর্থ হওয়া প্রায় ৪০০ রোহিঙ্গাকে বুধবার (১৫ এপ্রিল) রাতে টেকনাফ সৈকতের জাহাজপুরা ঘাট থেকে উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃতদের মধ্যে শিশু ৬৪, নারী ১৮২ ও পুরুষ ১৫০ জন ছিল। এদের মধ্যে অর্ধশতাধিক অসুস্থ হয়ে পড়ে খাবারের অভাবে। আরও ৩০ জন যাত্রী সমুদ্রে অনাহারে মারা গেছে বলে জানিয়েছে যাত্রীরা। এর আগে গত ফেব্রয়ারিতে ১৩৮ জন যাত্রী নিয়ে মালয়েশিয়া যাওয়ার পথে সেন্টমার্টিনের পশ্চিমে একটি ট্রলার ডুবে যায়। ওই ঘটনায় ৭২ জনকে জীবিত উদ্ধারের পাশাপাশি ১৬ জনের মৃতদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় বেশ কয়েকজন রোহিঙ্গা নিখোঁজ রয়েছেন।
প্রসঙ্গত, এর আগে ২০১৫ সালের মে মাসে মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ড কর্তৃপক্ষের অভিযানে ওয়াং বার্মা এবং ওয়াং পেরাহ পার্বত্য এলাকায় ২৮টি মানবপাচার শিবির ও ১৩৯টি গণকবরের সন্ধান পাওয়া গিয়েছিল। সেখান থেকে বাংলাদেশি ও মিয়ানমারের শতাধিক রোহিঙ্গা অভিবাসীর লাশ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় বিশ্বজুড়ে তোলপাড় সৃষ্টি হয়।








