বৈধ পাসপোর্ট থাকার পরও গোপাল চক্রবর্তী নামে এক ভারতীয় নাগরিককে ফেরত নেয়নি ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিএসএফ। ভারতের দক্ষিণ ত্রিপুরার ওই নাগরিক বুধবার (১৩ মার্চ) খাগড়াছড়ির রামগড় সীমান্ত দিয়ে নিজ দেশে প্রবেশ করতে চাইলে বিএসএফ তাকে বাধা দেয়। এ নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ (বার্ডার গার্ড বাংলাদেশ) পতাকা বৈঠক করেও কোনও লাভ হয়নি। পরে গোপাল চক্রবর্তীকে রামগড় থানা পুলিশে হস্তান্তর করে বিজিবি।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, বুধবার (১৩ মে) দুপুর সাড়ে ১২টায় খাগড়াছড়ির রামগড় ব্যাটালিয়ন (৪৩ বিজিবি) এর অধীন লাচারীপাড়া বিওপি’র দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত পিলার ২২১৮/৬-আরবি এলাকায় ফেনী নদী দিয়ে ভারতে প্রবেশের চেষ্টা করেন গোপাল চক্রবর্তী। এ সময় তার পাসপোর্ট সঙ্গে ছিল। পাসপোর্ট নম্বর: আর-৫৮৪৪০৯৮। পিতা-দেবেন্দ্র চক্রবর্তী, মাতা-চন্দ্রবাসী চক্রবর্তী। ঠিকানা—মানিকগড়, সাবরুম, দক্ষিণ ত্রিপুরা, ভারত। বিএসএফ তাকে ভারতে প্রবেশে বাধা দিলে এ নিয়ে বিজিবি-বিএসএফ এর ব্যাটালিয়ন কমান্ডার পর্যায়ে একটি স্পট পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে বিএসএফকে তাদের দেশের নাগরিককে ফেরত নেওয়ার অনুরোধ জানায় বিজিবি। ওই ব্যক্তির ভারতীয় নাগরিক হিসেবে সব কাগজপত্র (ভারতীয় পাসপোর্ট ও ভিসা) থাকার পরও তাকে নেয়নি বিএসএফ।
ভারতীয় নাগরিক গোপাল চক্রবর্তী বলেন, 'গত ২৬ ফেব্রুয়ারি ভারতের মহুরীঘাট এলআইসিপি এবং বাংলাদেশের বিলোনিয়া ল্যান্ড পোর্ট ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে আমি বাংলাদেশে প্রবেশ করি। আমি একজন ব্রাহ্মণ। বিভিন্ন জায়গায় পূজা করানোর জন্য বাংলাদেশে আসি। এখানে নোয়াখালীতে আমার এক আত্মীয়ের বাড়ি (স্ত্রীর বড় বোনের বাড়ি) অবস্থান করেছিলাম। আজ নিজ দেশ ভারতে প্রবেশ করতে গিয়ে বিএসএফের বাধায় পারলাম না।'
রামগড় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শামসুজ্জামান জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির এখনও পাসপোর্টের মেয়াদ আছে। এখনও কিছুদিন বাংলাদেশে থাকতে পারবেন। করোনা পরিস্থিতিতে ইমিগ্রেশন বন্ধ থাকায় তিনি আজ রামগড় সীমান্ত দিয়ে নিজ দেশে ফেরত যাওয়ার চেষ্টা করছিলেন। তবে বিএসএফ তাকে ফেরত নেয়নি। এমতাবস্থায় তাকে বিলোনিয়া ল্যান্ড পোর্ট ইমিগ্রেশন চেকপোস্ট দিয়ে ভারতে ফেরত পাঠানোর কার্যক্রম চলমান রয়েছে।







