ফেনীতে এক ব্যবসায়ী ও তার পরিবারকে অস্ত্রের মুখে তুলে নিয়ে কয়েক কোটি টাকার সম্পত্তি লিখে নেওয়ার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে। রবিবার (২৩ আগস্ট) দুপুরে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ধ্রুব জ্যোতি পালের আদালতে এ মামলা দায়ের করেন ভুক্তভোগী জেলার ফুলগাজী উপজেলার আমজাদ ইউনিয়নের ব্যবসায়ী নজরুল ইসলাম। পরে আদালত মামলাটি সিআইডিকে তদন্তের জন্য নির্দেশ প্রদান করে।
মামলার বাদী পক্ষের আইনজীবী ব্যারিস্টার মহিউদ্দিন হানিফ জানান, বাদী নজরুল ইসলাম একসময় অপর সিঅ্যান্ডএফ ব্যবসায়ী ছাগলনাইয়ার দক্ষিণ সতর এলাকার আরিফিন আজাদ বাদলের ফিল্মফেয়ার লিমিটেড নামে প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন। একসময় নজরুল নিজের নামে একটি সিঅ্যান্ডএফ লাইসেন্স বানিয়ে ব্যবসা শুরু করেন এবং বেশ সফলতাও অর্জন করতে থাকেন। এতে পূর্বের কর্মরত থাকা প্রতিষ্ঠানের মালিক আরিফিন আজাদ বাদল ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েন।
তিনি এক বছর ধরে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ একাধিক প্রভাবশালী মহলকে দিয়ে নজরুল ইসলামকে চাপ দেন যে ব্যবসা করতে হলে মাসিক চাঁদা দিতে হবে। নজরুল তা দিতে অপারগতা প্রকাশ করায় গত ১৭ জুন প্রকাশ্য দিবালোকে আরিফিন আজাদ বাদল, গিয়াস উদ্দিন সুমন, দিল জাহান ও জনপ্রতিনিধি জমির উদ্দিনসহ অজ্ঞাত ৮-১০ জনের সংঘবদ্ধ দল নজরুলের ঘরে প্রবেশ করে তার মা’সহ পরিবারের সবাইকে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে। এ সময় তারা ঘরে থাকা ব্যবসায়িক ও সম্পত্তির দলিল, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, স্বর্ণালংকার, টিভি, ফ্রিজ’সহ মূল্যবান জিনিসপত্র জোরপূর্বক ট্রাকে তুলে নিয়ে যান। অপর একটি দল সেদিনই নজরুলকে একটি কালো গ্লাসের মাইক্রোবাসে অপহরণ করে ঢাকার কেরানীগঞ্জে নিয়ে যান। তারপর নজরুলকে নিজ মালিকানাধীন বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার সাড়ে ৬ কাঠার প্লটটি লিখে দিতে চাপ দেন।
১৮ জুন তারা কেরানীগঞ্জ সাবরেজিস্ট্রি অফিসের আশপাশের একটি ভবনে চোখ বেঁধে আটকে রাখেন নজরুলকে। পরে নজরুল জমি লিখে দিতে রাজি হলে সেদিন দুপুরে তাকে সাবরেজিস্ট্রি অফিসে নিয়ে যান এবং সম্পত্তি লিখে দিতে বাধ্য করান। এ বিষয়ে কারও কাছে মুখ খুললে নজরুল’সহ পরিবারের সবাইকে প্রাণে মেরে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেন অপহরণকারীরা।







