কুমিল্লার মুরাদনগরে একজন ইউপি সদস্যের বাড়ি থেকে সরকারি বনায়নের বিপুল পরিমাণ কাঠ উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। সোমবার (৩১ আগস্ট) জেলার মুরাদনগর উপজেলার বাঙ্গরা বাজার থানার পূর্বধইর পশ্চিম ইউনিয়নের দৈলবাড়ি গ্রামের মেম্বার মামুন মিয়ার বাড়ি থেকে ওই কাঠ উদ্ধার করা হয়। অভিযুক্ত মেম্বার ৩ নং ওয়ার্ডের দৈলবাড়ি গ্রামের মৃত আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে।
প্রত্যক্ষদর্শী দৈলবাড়ি গ্রামের বিল্লাল হোসেনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, হাটাশ-দৈলবাড়ি সড়কের দু’পাশে ২০০৫ সালে সরকারিভাবে বনায়ন করা হয়। খৈয়াখালী গ্রামের শাহ আলম দলবল নিয়ে ইউপি সদস্য মামুন মিয়ার নির্দেশে গত ২৫ ও ২৬ আগস্ট গাছগুলো যখন কাটছিল, তখন তাদের নিষেধ কার হয়। সরকারি গাছ বলার পরও সড়কের দু’পাশের অর্ধশতাধিক গাছ কাটে তারা। যার বাজার মূল্য ৯-১০ লাখ টাকা। পরে বন বিভাগের লোকজন খবর পেয়ে মামুন মিয়ার বাড়ি থেকে বিপুল পরিমাণ কাঠ উদ্ধার করেন উপজেলা বন কর্মকর্তারা। উদ্ধারকৃত কাঠগুলো কদমতলী গ্রামের মোখলেছুর রহমান বাদল মাস্টারের জিম্মায় রেখে যান তারা।
হাটাশ-দৈলবাড়ি সড়ক বনায়ন কমিটির সভাপতি মোখলেছুর রহমান বাদল মাস্টার বলেন, ‘বন কর্মকর্তা বলাই চন্দ্র মেম্বার মামুন মিয়ার বাড়ি থেকে কাঠগুলো উদ্ধার করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান কাজী ময়নাল হোসেনসহ এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতিতে আমার জিম্ময় রেখে যান।’
অভিযুক্ত শাহ আলম বলেন, ‘আমি বনায়ন কমিটির সদস্য। তাই কিছু গাছ ও ডালপালা কেটেছি। এ রকম ঘটনা এ অঞ্চলে অহরহ হচ্ছে। অন্য কারও কিছু হচ্ছে না। কিন্তু আমার শত্রুরা বন কর্মকর্তাকে দিয়ে আমাকে হয়রানি করার পায়তারা করছে।’
তবে অভিযুক্ত ইউপি সদস্যকে যোগাযোগ করে পাওয়া যায়নি।
মুরাদনগর উপজেলার ভারপ্রাপ্ত বন কর্মকর্তা বলাই চন্দ্র বলেন, ‘মেম্বার মামুন মিয়ার বাড়ি থেকে কাঠগুলো উদ্ধার করা হয়েছে। জানতে পারি, দৈলবাড়ি গ্রামের শাহ আলম গাছগুলো কেটে নিয়ে মামুন মিয়ার কাছে বিক্রি করেছে। উভয়েই ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আদালতে মামলার প্রস্তুতি চলছে।’







