কুমিল্লার গোমতী নদীর অন্তত ১৩টি স্থান থেকে একটি চক্র অবৈধভাবে বালু উত্তোলনসহ নদীর বাঁধসংলগ্ন এলাকা থেকে মাটি কেটে বিক্রি করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে আদর্শ সদর উপজেলা এলাকায় নদীর প্রতিরক্ষা বাঁধ ও ৩টি ব্রিজ হুমকির মুখে পড়েছে।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর নজরুল এভিনিউ এলাকার মডার্ণ কমিউনিটি সেন্টারে সাংবাদিক সম্মেলন করে এসব অভিযোগ করেন গোমতী নদীর পাঁচটি বালু মহালের ইজারাদার মাহাবুবুর রহমান।
লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা জেলা প্রশাসন থেকে গত ১১ জুন গোমতী নদীর বালু মহাল ইজারা বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করলে মাহাবুবুর রহমানের মেসার্স এম. রহমান ও মেসার্স রিফাত কনস্ট্রাকশনসহ (ভূতপূর্ব ইজারাদার) মোট পাঁচটি প্রতিষ্ঠান দরপত্রে অংশগ্রহণ করে। এতে ১ কোটি ৫০ লাখ টাকায় সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় মেসার্স এম. রহমান প্রতিষ্ঠানটি নদীর পাঁচটি বালু মহালের ইজারা পায়।
দরপত্রে অংশগ্রহণকারী মেসার্স রিফাত কনস্ট্রাকশনসহ অন্যরা দরপত্রের শর্তানুযায়ী জেলা প্রশাসনে আবেদন দাখিল করে ৬ জুলাই দরপত্র জামানতের পে-অর্ডারের টাকা তুলে নেয়। পরদিন ৭ জুলাই টাকা পরিশোধের পর জেলা প্রশাসন কর্তৃক সাইনবোর্ড টানিয়ে মেসার্স এম. রহমানকে পাঁচটি বালু মহালের দখল বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
মেসার্স এম. রহমানের স্বত্ত্বাধিকারী মাহবুবুর রহমান অভিযোগ করে বলেন, প্রশাসন কর্তৃক তাকে পাঁচটি বালু মহালের দখল বুঝিয়ে দেওয়ার পরও ইজারাদারের লোকজন নদীর অন্তত ১৩টি পয়েন্টে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। ইতিপূর্বে প্রশাসন থেকে একাধিকবার অভিযান চালিয়ে বালু উত্তোলন ও মাটি কাটার সরঞ্জামাদি ভেঙে ফেলা হলেও পুনরায় বালু উত্তোলন অব্যাহত রয়েছে। অবৈধভাবে বালু উত্তোলন ও মাটি কেটে বিক্রির কারণে নদীর বাঁধ ও ব্রিজ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
এর প্রতিবাদ করায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলনকারী চক্রটি বৈধ ইজারাদার মাহবুবুর রহমান ও তার লোকজনকে প্রাণনাশসহ নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। এরই মধ্যে এ চক্রটি প্রায় ৩ কোটি টাকার বালু অবৈধভাবে উত্তোলন করে নিয়েছে। তাই এসব বালু ও বালু উত্তোলনের সরঞ্জামাদি বাজেয়াপ্ত করাসহ প্রশাসন কর্তৃক কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তিনি।
সাংবাদিক সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর আলম বাবুল, আওয়ামী লীগ নেতা মনির হোসেন, মাসুদুর রহমান, মোশারফ হোসেন শামীম, রাশেদ মিনহাজ, জাহেদুল আলম, আলী আক্কাছ, মো. সেলিম, শাহরিয়ার মাহমুদ, মনিরুল হক ভূঁইয়া প্রমুখ।








