নোয়াখালীর সদর উপজেলার কাদির হানিফ ইউনিয়নে মিজানুর রহমান মিশু নামে এক ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা মামলায় চার আসামিকে বিভিন্ন মেয়াদে কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড দিয়েছে আদালত। মঙ্গলবার (৯ মঙ্গলবার) দুপুর ১টায় নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক উৎপল চৌধুরী এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন সদর উপজেলার গোপীনাথপুর গ্রামের ছিদ্দিক উল্যার ছেলে আবদুল খালেক, আবদুল মোতালেবের ছেলে আবদুর রাশেদ, দেলোয়ার হোসেন বাচ্চুর ছেলে ইমাম হোসেন মাসুদ এবং শিবপুর গ্রামের শহিদ আলমের ছেলে সামছুল আলম রাব্বি। এদের মধ্যে ইমাম হোসেন মাসুদ ও সামছুল আলম রাব্বি পলাতক রয়েছেন।
দুই আসামির উপস্থিতিতে উভয়পক্ষের শুনানি শেষে বিচারক আসামি আবদুল খালেক ও আবদুর রাশেদকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং দুই হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একইসঙ্গে পলাতক দুই আসামি ইমাম হোসেন মাসুদ ও সামছুল আলম রাব্বিকে ৩ বছরের সশ্রম কারাদণ্ড এবং এক হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন।
রাষ্ট্রপক্ষে মামলা পরিচালনা করেন অ্যাডিশনাল পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. আলতাফ হোসেন। আসামিপক্ষে ছিলেন অ্যাডভোকেট ইসমাইল ফয়েজ উল্যাহ রাসেল ও অ্যাডভোকেট মোহাম্মদ আজিম উদ্দিন।
পিপি আলতাফ হোসেন জানান, ২০১৮ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি রাত সাড়ে ৮টায় অজ্ঞাত ব্যক্তি মোবাইলে ফোনে কল করে নোয়াখালীর সদর উপজেলার গোপীনাথপুর বাটুর মোড়ের স্থানীয় ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান মিশুকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। এরপর মিশু আর বাড়িতে ফিরে আসেনি। পরদিন সকাল সাড়ে ৭টায় স্থানীয় রহমানিয়া মাদ্রাসার উত্তর পাশে ঘাড়, মাথা, মুখ ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম ও রক্তাক্ত অবস্থায় মিশুকে দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতাল ভর্তি করেন। পরে তার পরিবার উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে দীর্ঘ ৬ মাস চিকিৎসা নিয়ে মিজানুর সুস্থ হন।
এ ঘটনার পরদিন ২৬ ফেব্রুয়ারি রাতে মিশুর বাবা আবুল হাসেম বাদী হয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় চার জনকে আসামি করে সুধারাম মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ মামলার এজাহারভুক্ত আসামি আবদুল খালেক ও আবদুর রাশেদকে গ্রেফতার করে।









