নানা আয়োজনের মধ্যদিয়ে শনিবার কক্সবাজার সৈকতে শেষ হলো ‘মেগা বিচ কার্নিভাল’। জনপ্রিয় শিল্পীদের সুরের মুর্ছনায় আর লাখো মানুষের অংশ নিয়েছিলেন কার্নিভালে। প্রথম দিন থেকে দেশীয় পর্যটকদের ঢল নামলেও ছিল না কোনও বিদেশি পর্যটক। অথচ ২০১৬ সালকে ‘পর্যটন বর্ষ’ ঘোষাণা করে দেশে ১০ লাখ বিদেশি পর্যটক আনার পরিকল্পনা ছিল কার্নিভাল আয়োজকদের। তবে আয়োজন সফল হলেও বিদেশি পর্যটকদের কার্নিভালমুখী করতে পারেনি আয়োজকরা।
বিচ কার্নিভালের আয়োজনকে ঘিরে বুধবার থেকে শনিবার পর্যন্ত কক্সবাজার মুখর ছিল পর্যটকদের পদচারণায়। যাদের বেশিরভাগই দেশি। এই চারদিনে পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত কক্সবাজার যেনও রূপ নিয়েছিল ‘উৎসবের নগরীতে’। সৈকতের লাবণী পয়েন্ট থেকে শুরু করে কলাতলী পয়েন্ট পর্যন্ত দুই কিলোমিটার এলাকা জুড়ে এ আয়োজন করা হয়।
শনিবার কার্নিভালের শেষ দিন গান পরিবেশন করেন শিল্পী নিশীতা, ঝিলিক, আতিক হাসান, রাজীব, বারী সিদ্দিকী, মিলা ও জনপ্রিয় গানের দল ‘জলের গান’। আর ‘জলের গানের’ শিল্পীদের গান দিয়ে শেষ হয় ‘মেগা বিচ কার্নিভাল।’ এ কার্নিভাল এবারই প্রথম আয়োজন করা হলো।
রাজধানী ঢাকার মিরপুর থেকে কার্নিভাল উপভোগ করতে আসা ফাহিম রেজা বলেন, ‘খুবই মজা করেছি। দেশীয় ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরে এ ধরনের আয়োজন পর্যটকদের আকৃষ্ট করবে।’
চট্টগ্রামের হালিশহর থেকে আসা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘থার্টি ফার্স্ট নাইটে তো এমনিতেই সৈকতে পর্যটকদের আগমন ঘটে। অন্য বছর যে হারে পর্যটক আসতো, এবছরও এর কোনও ব্যতিক্রম ঘটেনি।’
বেসামরিক বিমান ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিব খোরশেদ আলম চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, ‘কক্সবাজারবাসী ও পর্যটকরা এ রকম আন্তরিকতাপূর্ণ সহযোগিতা করবে তা আমাদের কাছে অকল্পনীয়। এজন্য তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি।’
তিনি বলেন, ‘বাঙালি উৎসব প্রিয় জাতি। উৎসব বাঙালির প্রাণ। বাংলাদেশ অসাম্প্রদায়িক ও শান্তির দেশ। জাতি-ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে উৎসবে অংশগ্রহণ বাঙালি অসাম্প্রদায়িক সংস্কৃতির অবিচ্ছেদ্য অংশ। কক্সবাজারকে বিশ্বের কাছে নতুন রূপে পরিচিত করতে এ ধরনের আয়োজন প্রতিবছরই করা হবে।’
কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. আলী হোসেন জানান, কার্নিভাল ও থার্টি ফার্স্ট নাইটকে ঘিরে গত কয়েক দিনে কক্সবাজার হয়ে উঠেছিল ‘উৎসবের নগরী।’ কক্সবাজারের সাড়ে ৪ শতাধিক হোটেল-মোটেল কানায় কানায় ভরপুর ছিল। সেই সঙ্গে কক্সবাজারের পর্যটন ও বিনোদন কেন্দ্রগুলোতেও আনাগোনা ঘটে বিপুল সংখ্যক পর্যটকের। ‘মেগা বিচ কার্নিভাল’ কোনও অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই শেষ করতে পারায় সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি তিনি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, পর্যটক আকর্ষণের জন্য মেগা বিচ কার্নিভালের মতো নানান আয়োজন কক্সবাজারে করার পরিকল্পনা চলছে।
বিচ কার্নিভালসহ টানা এক সপ্তাহে সমুদ্র সৈকতের ডায়াবেটিকস পয়েন্ট, লাবনী পয়েন্ট ও সি-ইন পয়েন্ট থেকে শুরু করে সৈকতের বালুচরে ময়লা আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে গত তিনদিনে সৈকতে লাখো পর্যটকের সমাগম হওয়ায় এ অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। বিচ পরিস্কার পরিচ্ছন্ন রাখতে বিচ ম্যানেজম্যান কমিটি সেখানে বিচ কর্মী নিয়োগ দিলেও সৈকত পরিস্কার করার মতো কোনও কর্মী চোখে পড়েনি।
/জেবি/এসটি/







