গোপনে এক কলেজ ছাত্রী ও তার মায়ের পোশাক পরিবর্তনের ভিডিও ধারণ করে ওই ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকির ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। ভিকটিম ওই কলেজ ছাত্রীর কাছ থেকে অভিযোগ পেয়ে নগর পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিটের সদস্যরা নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন প্রবর্তক সংঘ এলাকা থেকে অভিযুক্তদের একজনকে গ্রেফতার করে। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অন্যজনকে নগরীর নন্দনকানন এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়।
নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট) আসিফ মহিউদ্দিন এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
গ্রেফতার দুইজন হলেন কোতোয়ালী থানাধীন সৈকত সেন শর্মা টিপুর বাড়ির মৃত টিংকু সেন শর্মার ছেলে অভিষেক সেন শর্মা (২১) ও একই থানাধীন লুম্ভিনি ভবনের পাশে মহিম হেরিটেজের বাসিন্দা সমর বড়ুয়ার ছেলে সুতনু সব্যসাচী প্রকাশ আদিত্য (১৮)।
আসিফ মহিউদ্দিন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ভিকটিম কলেজ ছাত্রী ও তার মা আমাদের কাছে অভিযোগ করেন, কে বা কারা তাদের বাসার রুমের জানালা দিয়ে গোপনে তাদের পোশাক পরিবর্তনের স্পর্শকাতর নগ্ন ভিডিও ধারণ করে ফেসবুকের একটি ফেইক আইডির মাধ্যমে আপলোড করে তাদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নেওয়ার হুমকি দিচ্ছে। অভিযোগ পেয়ে আমাদের একটি টিম অভিযোগ অনুসন্ধান করে এ ঘটনার সঙ্গে অভিষেক সেন শর্মার সম্পৃক্ততার প্রমাণ পাই। পরে তাকে নগরীর পাঁচলাইশ থানাধীন প্রবর্তক সংঘ এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। তার মোবাইলে গোপনে ধারণ করা নগ্ন ভিডিওটি সংরক্ষিত ছিল। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর নন্দনকানন এলাকা থেকে আদিত্যকে গ্রেফতার করা হয়। আদিত্য ফেসবুকের ফেক আইডি ব্যবহার করে ভিডিওটি আপলোড দিয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে দুইজন স্বীকার করে ভিকটিমের বাসার রুমের জানালার ফাঁক দিয়ে কৌশলে ভিডিও ক্যামেরা স্থাপন করে তারা ওই আপত্তিকর ভিডিওটি ধারণ করে। পরে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি তৈরি করে এই ভিডিও অনলাইনের বিভিন্ন পর্ন সাইটে প্রকাশ করার হুমকি দিয়ে টাকা দাবি করে। গ্রেফতার দুইজনের বিরুদ্ধে পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইন-২০১২ ধারায় পাঁচলাইশ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। এই ঘটনায় আরও যারা জড়িত আছে তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত আছে।








