কুমিল্লার দেবীদ্বারে তল্লাশি চালিয়ে মাদক উদ্ধার করতে গিয়ে কখনও ডিবি, সিআইডির লোক আবার কখনও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের লোক দাবি করায় ভুয়া ভেবে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ছয় সদস্যকে পিটিয়েছে সাধারণ জনগণ। গণধোলাই খেয়ে তিনজন পালিয়ে গেলেও স্থানীয়রা বাকি তিনজনকে আটক করে। পরে দেবীদ্বার থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের তিন সদস্যকে উদ্ধার করে।
বুধবার (১৯ মে) দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ গোমতী নদীর ভেরীবাঁধ সংলগ্ন গোদারাঘাট মীর বাড়ির মৃত বজলু মিয়ার বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর কুমিল্লা কার্যালয়ের পরিদর্শক আবু বকর ছিদ্দিক, গাড়ি চালক মো. রফিকুল ইসলাম, সিপাই মো. শরিফুল ইসলাম, সহকারী উপ-পরিদর্শক উত্তম বরন দেবনাথ, আবুল কাসেম, সিপাই মিঠুন চন্দ্র রবি দাসসহ ৬ সদস্যের একটি দল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের স্টিকার লাগানো একটি জিপ নিয়ে জাফরগঞ্জ বাজারে যায়। পরে তারা জাফরগঞ্জ গোমতী নদীর ভেরীবাঁধ সংলগ্ন গোদারাঘাট মীরবাড়ির মৃত বজলু মিয়ার বাড়িতে গিয়ে বজলু মিয়ার ছেলে মো. রাসেল ইসলামকে (২৭) খোঁজ করেন। পরে তাকে না পেয়ে তার বৃদ্ধা মা রাফিয়া বেগম (৬৫) ও তার বোন ময়না আক্তারকে (২৯) চাপ দিতে থাকেন রাসেলকে উদ্ধার না করে দিলে তাদেরকেই ধরে নিয়ে যাবে। ঘরে মাদক আছে সন্দেহে তল্লাশি চালান। এক পর্যায়ে ঘরে কয়েক বোতল মদ ও কিছু ইয়াবা খুঁজে পান। ওই অভিযানের সংবাদে কয়েকশ লোক বাড়ির আশপাশে ভিড় করতে থাকে। উপস্থিত লোকজন তাদের ভুয়া ডিবির লোক মনে করে বেধড়ক মারধর করতে থাকেন। এসময় তিনজন পালিয়ে যান। স্থানীয় কিছু লোক এসে জনরোষ থেকে বাকি ৩ জনকে উদ্ধার করে জাফরগঞ্জ গ্রামের পুলিশের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বাড়িতে নিয়ে যান।
দেবীদ্বার থানা পুলিশ বিষয়টি জানতে পেরে দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেল এএসপি মো. আমিরুল্লাহ ও দেবীদ্বার থানার ওসি মো. আরিফুর রহমানের নেতৃত্বে একদল পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে আটককৃতদের হেফাজতে নিয়ে যান।
দেবীদ্বার-ব্রাহ্মণপাড়া সার্কেল অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. আমিরুল্লাহ বলেন, কুমিল্লা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ৬ সদস্যের একটি টিম দেবীদ্বার উপজেলার জাফরগঞ্জ এলাকায় মাদক উদ্ধার অভিযানে আসেন। রাসেলের বাড়ি থেকে কিছু মাদকও উদ্ধার করেন। স্থানীয়দের সঙ্গে ভুল বুঝাবুঝিতে এ ঘটনা ঘটে। রাসেলের পরিবারের লোকজন বলছেন, ওদের ওখানে মাদক ছিল না বরং তাদের কাছ থেকে ৬ হাজার টাকা নিয়ে আসেন। তাদের দেওয়া টাকার বর্ণনা অনুযায়ী মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের একজনের মানিব্যাগে থাকা ২টি এক হাজার টাকার নোট ও ৮টি পাঁচশত টাকার নোট পাওয়া গেলেও তার সঙ্গে আরও টাকা ছিল। তাই সত্যটা নিরূপণ করা কঠিন। বিষয়টি মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের অবগত করা হয়েছে।








