হাটহাজারী থানায় ভাঙচুর ও ভূমি অফিসে অগ্নিসংযোগের মামলায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের আহ্বায়ক কমিটির আমির বাবুনগরীর প্রেস সচিব ইনআমুল হাসান ফারুকী।
রবিবার (৩০ মে) বিকেলে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জিহান সানজিদার আদালতে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।
জেলা পুলিশের আদালত পরিদর্শক হুমায়ুন কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘ভূমি অফিসে অগ্নিসংযোগ মামলায় ইনআমুল হাসান ফারুকী চার দিনের রিমান্ডে ছিলেন। রিমান্ড শেষে আজ তাকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন।’
ইনআমুল হাসান ফারুকী বাবুনগরীর পক্ষে হেফাজতের যাবতীয় বিবৃতি ও প্রেস বিজ্ঞপ্তি পাঠাতেন। তিনি হাটহাজারী উপজেলা হেফাজতের প্রচার সম্পাদক ছিলেন। গত ২১ মে রাতে হাটহাজারী ফতেয়াবাদ এলাকা থেকে র্যাব-৭ এর একটি টিম তাকে গ্রেফতার করে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদ শেষে শনিবার দুপুরে তাকে হাটহাজারী থানা পুলিশের নিকট হস্তান্তর করা হয়। এরপর একই দিন বিকেলে তাকে বিকেলে সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. হেলাল উদ্দিনের আদালত তুলে রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত হাটহাজারী থানার ২৮(০৪)২১ মামলায় ইনআমুল হাসান ফারুকীকে ৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানোর আদেশ দেন। চার দিন রিমান্ড শেষে গত ২৬ মে তাকে পুনরায় আদালতে হাজির করে পুলিশ। ওই আদালতে একই মামলায় ১০ দিন এবং অপর একটি মামলায় আরও ১০ দিনসহ আদালতে ২০ দিনের রিমান্ড আবেদন করে পুলিশ। শুনানি শেষে আদালত এই মামলায় ৪ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। অপর ৫২(০৩)২১ মামলায় আরও ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
গত ২৬ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির আগমনের বিরোধিতা করে হাটহাজারীতে বিক্ষোভ করে হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা। এসময় হাটহাজারী বড় মাদ্রাসা নামে পরিচিত দারুল উলুম ময়নুল ইসলাম মাদ্রাসা থেকে মিছিল বের করে হাটহাজারী থানায় ভাঙচুর চালানো হয়। পাশাপাশি হেফাজতকর্মীরা হাটহাজারী উপজেলা ভূমি অফিস ও সদর ইউনিয়ন ভূমি অফিসে হামলা ও অগ্নিসংযোগ করে। দিনভর পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে চারজন নিহত হন। এই ঘটনার জের ধরে ওই হাটহাজারীতে তাণ্ডব চালায় হেফাজত নেতাকর্মীরা। তারা চট্টগ্রাম-খাগড়াছড়ি সড়ক অবরোধ করে। পাশাপাশি মাদ্রাসার সামনে ইটের দেয়াল তুলে ব্যারিকেডও দেয় হেফাজতের কর্মীরা। এসব ঘটনায় শুরুতে হাটহাজারী থানায় মোট ছয়টি মামলা দায়ের করা হয়। পরে ২২ এপ্রিল হেফাজতের বিলুপ্ত কমিটির আমির জুনাইদ বাবুনগরীকে প্রধান আসামি করে আরও দুইটি মামলাসহ হাটহাজারী থানায় আরও তিনটি দায়ের করা হয়।









