কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে ‘পীর সাহেব নামধারী বদমাশ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন নোয়াখালী-৪ (সদর ও সুবর্ণচর) আসনের সংসদ সদস্য একরামুল করিম চৌধুরী। বৃহস্পতিবার (৫ আগস্ট) বেলা ১২টায় জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়ে শেখ কামালের ৭২তম জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া ও আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সাহেব আমাকে নিরপেক্ষভাবে একটা দিন সময় দেন। আমি তার (কাদের মির্জার) জিহ্বা টেনে ছিঁড়ে ফেলবো। কারণ, এ বদমাশ (কাদের মির্জা) ভাইয়ের নাম করে আবার ভাইকেই অপমান করে।’
দল ছাড়ার ইঙ্গিত দিয়ে জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি অধ্যক্ষ এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিমকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আমি থাকবো না ঠিক আছে। তবে কোনও ছেলেকে নিয়ে রাজনীতি করবেন না। ভালো ও ভদ্র মানুষ তৈরি করেন। আর ভুলেও ওই বদমাশের (কাদের মির্জা) এর কাছে যাবেন না।’
এ এইচ এম খায়রুল আনম চৌধুরী সেলিম বলেন, ‘আমরা দলের জন্য কাজ করবো। আমরা ব্যক্তি কেউ কিছু না। সবাই মিলে কাজ করলে আওয়ামী লীগের জন্য কাজ হবে। শেখ হাসিনার হাত শক্তিশালী হবে। শিগগিরই জেলা আওয়ামী লীগের কমিটি নিয়ে সকল জল্পনা-কল্পনার অবসান হবে।’
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন- জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ও সদর উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান কে এম শামছুদ্দিন জেহান, আবদুল মোমিন বিএসসি, সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আতাউর রহমান নাছের, নোয়াখালী আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট গুলজার হোসেন জুয়েল, জেলা যুবলীগের আহ্বায়ক ইমন ভট্ট, জেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান আরমান ও সাধারণ সম্পাদক আবুল হাসনাত আদনান।
আলোচনা সভা শেষে শেখ কামাল ও বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সবার জন্য দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
এদিকে, ওই অনুষ্ঠানে একরামুল করিম চৌধুরীর দেওয়া বক্তব্যের একটি একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। যেখানে তিনি দল ছাড়ার ঘোষণা দেন। সেখানে তাকে বলতে শোনা যায়, তিনি ও তার ছেলে সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে থাকবেন না। সেটা জেলা হোক আর কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগ হোক।
তবে বিকাল পৌনে ৩টায় একরামুল করিম চৌধুরী নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে লাইভে এসে দাবি করেন, তার বক্তব্যকে ভুল ব্যাখ্যা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘যারা একবার আওয়ামী লীগ করে, তারা কখনও আওয়ামী লীগ ছাড়তে পারে না। আমি আওয়ামী লীগকে ভালোবাসি। দল যতদিন মনে করে, আমি থাকা দরকার, ততদিন থাকবো। দলের কাজে নিজেকে বিসর্জন দেবো।’









