চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে (চমেক) ছাত্রলীগের দুই পক্ষের সংঘর্ষের ঘটনায় নগরীর পাঁচলাইশ থানায় প্রতিপক্ষের ১৬ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। শনিবার (৩০ অক্টোবর) রাতে কলেজের পঞ্চম বর্ষের শিক্ষার্থী তৌফিকুর রহমান মামলাটি করেন।
পাঁচলাইশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহিদুল কবির এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজে দুই পক্ষের মারামারির ঘটনায় তৌফিকুর রহমান নামে এক শিক্ষার্থী থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ১৬ জনকে আসামি করা হয়।’ তবে তিনি আসামিদের নাম-পরিচয় জানাতে পারেননি।
গতকাল শুক্রবার রাত ১২টার দিকে চমেকের প্রধান ছাত্রাবাসে ছাত্রলীগের দুই পক্ষের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার জেরে শনিবার সকালে আবারও দুই পক্ষ সংঘর্ষে জড়ায়।
বিবদমান দুটি পক্ষের একপক্ষ শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেলের অনুসারী হিসেবে ক্যাম্পাসে পরিচিত। অন্য পক্ষ নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে পরিচিত।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে নওফেলের অনুসারীরা আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীদের ওপর হামলা চালায়। হামলায় নাছিরের অনুসারী পক্ষের চমেকের ৬১ ব্যাচের মাহফুজুল হক ও ৬২ ব্যাচের নাইমুল ইসলাম আহত হন।
ওই ঘটনার জেরে শনিবার সকাল ৯টায় শিক্ষা উপমন্ত্রীর অনুসারী আকব হোসেনকে মারধর করে আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারীরা। এরপর দুই পক্ষ পুনরায় সংঘর্ষে জড়ায়। এ সময় দফায় দফায় ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। একপর্যায়ে উপমন্ত্রীর অনুসারীদের ধাওয়া খেয়ে চমেক প্রিন্সিপালের রুমে ঢুকে পড়ে নাছিরের অনুসারীরা। দুপুর ১টা পর্যন্ত সেখানেই অবরুদ্ধ ছিল তারা। পরে পুলিশ পাহারায় সেখান থেকে বের হয়ে আসে।
এ ঘটনায় বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে মেডিক্যাল কলেজ অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করে কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি সন্ধ্যার মধ্যে হোস্টেল ছেড়ে যেতে ছাত্রদের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্দেশ অনুযায়ী সন্ধ্যায় আবাসিক হোস্টেল ছেড়ে যান সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
এদিকে, হঠাৎ হোস্টেল ছেড়ে যেতে বলায় বিপাকে পড়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। বিশেষ করে যাদের গ্রামে বাড়ি তারা ভোগান্তিতে পড়েন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে কলেজের ৩য় বর্ষের শিক্ষার্থী আরমান হোসেন বলেন, আমার বাড়ি লক্ষ্মীপুর জেলায়, শহরে থাকার মতো আত্মীয় নেই। এই রাতে গ্রামের বাড়িতে কীভাবে যাব?
তিনি আরও বলেন, আমরা পড়াশোনা করতে এখানে এসেছি। আমরা চাই না মারামারির কারণে কলেজ বন্ধ হোক। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের সংঘর্ষ না ঘটে, সে জন্য কর্তৃপক্ষ যেন কঠোর প্রদক্ষেপ নেয়।









