নিজ কন্যা সন্তানকে বিদ্যালয়ে ভর্তিতে বাবার পরিচয়পত্রের দাবিতে এবং সাবেক স্বামীর দেওয়া অপবাদের বিচার চেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয় ও আদালত ভবনের প্রধান ফটকের সামনে আমরণ অনশন করছেন নাটোরের জয়িতা নারী মরিময় খাতুন। সোমবার (১০ জানুয়ারি) দুপুর থেকে তিনি তার সন্তান এবং এক স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে এই অনশন কর্মসূচি পালন করছেন। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।
কর্মসূচি চলাকালে ভুক্তভোগী নারী মরিয়ম বলেন, ‘তার বাড়ি নাটোর জেলার বড়াই গ্রামে। গত ২০০৮ সালের ২৯ আগস্ট পাবনা জেলার আটঘরিয়া থানার মো. শাহ আলমের সঙ্গে তার বিয়ে হয়। তাদের ঘরে এক কন্যা সন্তান আসে। কন্যার বয়স যখন ৬ মাস তখন মরিয়মের বিরুদ্ধে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের অভিযোগ তুলে তালাক দেন স্বামী মো. শাহআলম। পরে মরিয়মের ঠাঁই হয় বাপের ভিটায়। ব্যক্তিগত জীবনে অনেক ত্যাগ শিকার করে মাস্টার্স পাস করা মরিময় একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরির সুযোগ পান। চাকরির পাশাপাশি সফল জয়িতা নারী হিসেবে সরকারি বিভিন্ন দফতর থেকে পুরস্কার পান তিনি। বর্তমানে তার কন্যা শিশুর বয়স ৯ বছর। সে এ বছর পঞ্চম শ্রেণি থেকে ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে উঠেছে। এ অবস্থায় স্কুলে ভর্তির জন্যে প্রয়োজন হয় পিতার জাতীয় পরিচয়পত্রের। কিন্তু কীভাবে পাবেন পরিচয়পত্র, সেই নিয়ে শঙ্কায় মরিয়ম। পরে খোঁজ নিয়ে জানতে পারেন সাবেক স্বামী বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা এলাকায় পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে লাইনম্যান হিসেবে কর্মরত আছেন। পরে কন্যাসহ নিকট স্বজনকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি আনার জন্যে স্বামী শাহআলমের দারস্থ হন মরিয়ম। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি না দিয়ে তাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করে তাড়িয়ে দেন শাহআলম।’
পরে দুপুর থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসক কার্যালয় এবং আদালত ভবনের প্রধান ফটকের সামনে মেয়েকে নিয়ে সাবেক স্বামী শাহআলমের বিচার দাবিতে আমরণ অনশন শুরু করেন মরিয়ম।
মরিমন আরও জানান, তার স্বামী নারী শিশু নির্যাতন মামলার আসামি। মানবপাচার মামলার আসামি। তিনি তার গ্রেফতারসহ দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন। এ সময় তিনি প্রধানমন্ত্রী, বিদ্যুৎমন্ত্রী, আইন মন্ত্রী,পল্লী বিদ্যুৎ বোর্ডের চেয়ারম্যানের সহযোগিতা চান।
মরিয়মের নিকট স্বজন ও বাংলাদেশ নারী মুক্তি আন্দোলনের সদস্য রুপালী খাতুন বলেন, আমার ফুফু (মরিয়ম) বিয়ের পর অনেক অত্যাচার নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। ওনার স্বামী তাকে তালাক দেওয়ার পর দেনমোহরের টাকা দিয়ে দেন। মেয়ের বিষয়ে মামলার রায় দিয়েছে এক হাজার টাকা। বর্তমানে এক হাজার টাকায় কিছুই হয় না। তারপরেও উনি সে টাকাটাও দেন না। ওনার মেয়ে এখন ৬ষ্ঠ শ্রেণিতে ভর্তি হতে গেলে বাবার পরিচয়পত্র লাগে। জানুয়ারি মাস চলে গেছে এখনও মেয়েটি স্কুলে ভর্তি হতে পারেনি। আমরা সেই নাটোর থেকে এসেছি। ওনাকে অনেক বুঝিয়েছি তার পরেও তিনি ন্যাশনাল আইডি কার্ডের কোনও কপি দেননি।
তবে এ বিষয়ে স্বামী মো. শাহআলমের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তার ব্যক্তিগত মোবাইলফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়।









