ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় রবিবার (৬ মার্চ) দুপুরের পর থেকে পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই পেট্রোল বিক্রি বন্ধ রাখায় সংকট দেখা দিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছেন গ্রাহকরা। পাম্প কর্তৃপক্ষ ও খুচরা বিক্রেতারা বলছেন, চাঁদপুর ও শ্রীমঙ্গল ডিপো থেকে পেট্রোল সরবরাহ বন্ধ থাকায় এই সংকট দেখা দিয়েছে।
ঘাটুরায় মেসার্স জিল্লুর রহমান ফিলিং স্টেশনে পেট্রোল নিতে আসা আবু সাঈদ মোল্লা বলেন, ‘হঠাৎ করে পেট্রোল বন্ধ করে দেওয়ার কারণ বুঝতেছি না। যুদ্ধের অজুহাতে দাম বাড়ানোর কোনও কৌশল কিনা জানি না। তবে দ্রুত সমস্যার সমাধান করা হোক।’
একই পাম্পে পেট্রোল নিতে আসা একটি বেসরকারি সংস্থার কর্মকর্তা দীপঙ্কর বলেন, ‘আমি মোটরসাইকেলে সিলেট থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া পর্যন্ত এসেছি। সিলেটে পেট্রোল সংকট নেই। এখানে এসে দেখি, কোথাও পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। না পাওয়ার কারণ কী, সেটাও সংশ্লিষ্টরা স্পষ্ট করে বলতে পারছেন না।’
শাহনেয়াজ নামে আরেক ক্রেতা জানান, ‘মনে হচ্ছে, পেট্রোলের দাম বাড়ানোর অজুহাত। তাই বিক্রি বন্ধ রেখেছে কোনও সিন্ডিকেট।’
মেসার্স জিল্লুর রহমান ফিলিং স্টেশনের ম্যানেজার জাফর ইমাম হিমেল জানান, চাঁদপুর ও শ্রীমঙ্গল ডিপোতে চাহিদা দিয়েও পেট্রোল পাওয়া যাচ্ছে না। কী কারণে পেট্রোল সংকট, তারা স্পষ্ট করে কিছু জানাতে পারেনি। সরবরাহ বন্ধ থাকায় ক্রেতা এসেছে ঘুরে যাচ্ছেন।
ঘাটুরা এলাকার মেসার্স সোহেল ট্রেডার্সের মালিক মো. হালিম জানান, ‘আমাদের কাছে যত পেট্রোল ছিল সব বিক্রি করে দিয়েছি। এখন অকটেন ও ডিজেল বিক্রি করছি। আমরা চাঁদপুর ও শ্রীমঙ্গল ডিপো থেকে পেট্রোল সংগ্রহ করে থাকি। ডিপো থেকে জানানো হয়েছে, পেট্রোল নেই। এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনও কারণ জানাতে পারেনি তারা।’
বাংলাদেশ সিএনজি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের মহাসচিব ফারহান নূর জানান, এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের দ্রুত হস্তক্ষেপ জরুরি। অন্যথায় এ সংকট আরও ঘনীভূত হবে। গ্রাহক পর্যায়ে অসন্তোষ বাড়বে।
জেলা প্রশাসক শাহগীর আলম জানান, এ বিষয়ে তিনি অবগত আছেন। সংকট নিরসনে খোঁজ-খবর নিয়ে দ্রুত সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।









