গাছের চারা বিক্রি করে মেডিক্যালে চান্স, ভর্তি নিয়ে দুশ্চিন্তা

আবদুল্লাহ আল মারুফ, কুমিল্লা
০৯ এপ্রিল ২০২২, ২১:৩৬আপডেট : ০৯ এপ্রিল ২০২২, ২২:২০

মায়ের স্বপ্ন ছিল তাজগীরকে চিকিৎসক বানাবেন। কিন্তু স্বপ্নপূরণের আগেই মারা গেছেন মা। এ অবস্থায় ধৈর্য ধরে পরিশ্রম করে মায়ের স্বপ্নপূরণের পথে এগিয়েছেন। ভ্যানগাড়িতে গাছের চারা বিক্রি করেছেন। পাশাপাশি টিউশনি করে লেখাপড়ার খরচ চালিয়েছেন। অনেক সংগ্রাম করে এবার খুলনা সরকারি মেডিক্যাল কলেজে ভর্তির সুযোগ পেয়েছেন। কিন্তু স্বপ্ন নাগালে এলেও ভর্তি ও পড়াশোনার খরচ নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছেন তাজগীর।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কুমিল্লার লাকসাম উপজেলার কান্দিরপাড় ইউনিয়নের খুন্তা গ্রামের নানার বাড়িতে থেকে বড় হয়েছেন তাজগীর। লেখাপড়া চালিয়ে যেতে তাকে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষকরা সহায়তা করেছেন। লাকসাম উপজেলার বরইগাঁও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে  সমাপনী পরীক্ষায় জিপিএ-৫, জ্যোতিঃপাল মহাথের বৌদ্ধ অনাথ আশ্রম উচ্চ বিদ্যালয় থেকে জেএসসি পরীক্ষায় এ গ্রেড, একই প্রতিষ্ঠান থেকে এসএসসি পরীক্ষায় বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৪.৯৪ এবং লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজ থেকে বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পান। 

তাজগীর হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘মা বলতেন ভিক্ষা করে হলেও পড়াবেন। আমাকে চিকিৎসক বানাবেন। কিন্তু হলো না। অনেক আগে মা আমাকে ছেড়ে চলে গেছেন। প্রতিরাতে মায়ের কথা মনে হলে কান্না করি। এখন মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছি। মা বেঁচে থাকলে অনেক খুশি হতেন। এখন বড় দুশ্চিন্তা হলো, কীভাবে ভর্তি হবো। এ পর্যন্ত অনেক কষ্ট করে লেখাপড়া চালিয়েছি। টিউশনি ও রাস্তায় গাছের চারা বিক্রি করেছি।’

তিনি বলেন, ‘আমরা দুই ভাই নানার বাড়িতে থাকি। অর্থাভাবে ছোট ভাইয়ের লেখাপড়া বন্ধ। অপর দুই ভাইকে নিয়ে বাবা চৌদ্দগ্রাম উপজেলার উজিরপুর ইউনিয়নের কইয়া গ্রামে থাকেন। বাবার আর্থিক অবস্থা ভালো না। নানার বাড়িতে থাকলেও মামাদের আর্থিক অবস্থা করুণ। মামারা ভ্যানগাড়ি চালিয়ে সংসার চালান। তাই এখন মেডিক্যালে ভর্তি, বই ও অন্যান্য খরচ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সবার সহযোগিতা চাই।’

লাকসাম নওয়াব ফয়জুন্নেছা সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মিতা সফিনাজ বলেন, ‘তাজগীরের সংগ্রামী জীবন আমাদের মুগ্ধ করে। তার জন্য অনেক শুভকামনা। ছেলেটি মেডিক্যালে ভর্তির সুযোগ পেয়েছে। তাকে সহযোগিতা করা দরকার। আমরা চেষ্টা করছি, তাকে সহায়তা করার।’

লাকসাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা একেএম সাইফুল আলম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি তার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। জেলা প্রশাসককে বিষয়টি জানিয়েছি। তিনি বলেছেন তাকে নিয়ে যেতে। একটা ব্যবস্থা করবেন জেলা প্রশাসক। আশা করছি, তার মেডিক্যালে ভর্তিতে সমস্যা হবে না।’

কুমিল্লা জেলা প্রশাসক মো. কামরুল হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে খবর পেয়েছি। ছেলেটি অদম্য মেধাবী। ইউএনওকে বলেছি তাকে নিয়ে আসতে। তার ভর্তির একটা ব্যবস্থা করবো।’

/এএম/
সম্পর্কিত
খুলনা মেডিক্যালে আগুন: সরিয়ে নেওয়ার সময় আইসিইউয়ের রোগীর মৃত্যু
খুলনা মেডিক্যালে হাম ওয়ার্ডে ভর্তি রোগীর ৯০ শতাংশই টিকা নেয়নি
শিক্ষার্থীকে গুলি: মেডিক্যাল কলেজের প্রভাষকের ২১ বছরের কারাদণ্ড
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম