কুমিল্লার নগর উদ্যানে বসে থাকা দুই কিশোর-কিশোরীর ভিডিও ধারণ করে তা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় গোয়েন্দা পুলিশের দুই সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৪ এপ্রিল) রাতে ওই দুই সদস্যকে বরখাস্ত করা হয়।
শুক্রবার বিকালে কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদ বলেন, ‘ভিডিওটি ফেসবুকে দেখেছি। এর আগে আমাকে কয়েকজন মৌখিকভাবেও জানিয়েছেন। পরে বৃহস্পতিবার বিকালে ওই দুই পুলিশ সদস্যকে চিহ্নিত করা হয়। রাতেই তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। এ ছাড়াও তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
বরখাস্ত হওয়া দুই সদস্য হলেন- পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কুমিল্লা শাখার কনস্টেবল নজরুল ইসলাম ও রোমান হাবিব রবিন।
কুমিল্লা ডিবি পুলিশের ওসি সত্যজিৎ বড়ুয়া বলেন, ‘শুনেছি তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে এখনও কোনও কাগজপত্র হাতে আসেনি।’
এদিকে, ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট ১০ সেকেন্ডের ভিডিওতে দেখা গেছে, নববর্ষের দিন কুমিল্লা ধর্মসাগর পাড়ের নগর উদ্যানে বসে গল্প করছিল দুই কিশোর-কিশোরী। এ সময় পেছন থেকে ভিডিও ধারণ করতে করতে তাদের সামনে গিয়ে পরিচয় জানতে চান ডিবি পুলিশের এক সদস্য। তাদের দাঁড় করিয়ে একের পর এক প্রশ্ন করতে থাকেন। এ সময় কিশোরীর মাস্ক খোলার জন্য বলতে গিয়ে পাশে থাকা আরেক সদস্য (ডিবি) ‘তুই’ করে সম্বোধন করেন। এরপরই পরিচয় জানতে যাওয়া পুলিশ সদস্য ওই কিশোরকে ক্ষিপ্ত হয়ে বলেন, ‘মুড়াইয়া ছাতনা ছিরালামু একবারে’।
ডিবি সদস্যরা কিশোরীর বাবার মোবাইল ফোন নম্বর চাইলে তারা ভয়ে মাফ চাইতে থাকে এবং বাবা বিদেশ থাকেন বলে জানায় ছেলেটি। তখন পাশ থেকে ডিবির অপর সদস্য বলেন, ‘বিদেশ থেকে (কিশোরীর বাবা) আইবো এখন, নইলে অফিসে নিয়া যামু। অফিস থেকে অভিভাবক আইসা নিয়া যাবে’।
সচেতন নাগরিক কমিটির (সনাক) সভাপতি রোকেয়া বেগম শেফালী বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘এটা একেবারেই উচিৎ হয়নি। এরা ছোট মানুষ। আর যথেষ্ট ভদ্রতার সঙ্গে বসেছে। তাদের এভাবে হেনস্তা করতে পারেন না তিনি যেই হোক।’








