চট্টগ্রামের লোহাগাড়ায় আসামি ধরতে যাওয়া পুলিশ সদস্যের কবজি বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া কবির আহাম্মদ (৪৩) একজন পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। এলাকায় জমি দখল ও মারামারিসহ বিভিন্ন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত কবির। তার বিরুদ্ধে মারামারি ও হত্যাচেষ্টাসহ ছয়টি মামলা আছে। শুক্রবার (২০ মে) বেলা সাড়ে ১১টায় সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানায় র্যাব-৭।
এর আগে বৃহস্পতিবার (১৯ মে) রাত ১০টার দিকে উপজেলার বড় হাতিয়া পাহাড়ি এলাকা থেকে কবিরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার এক সহযোগীকেও গ্রেফতার করা হয়।
এ নিয়ে শুক্রবার নগরীর চান্দগাঁও র্যাব কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এতে ব্রিফিং করেন র্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন। এ সময় উপস্থিতি ছিলেন র্যাব-৭-এর অধিনায়ক লে. কর্নেল এম এ ইউসুফ।
সংবাদ সম্মেলনে র্যাব জানায়, কফিল উদ্দিন নামে এক সহযোগীসহ কবিরকে লোহাগাড়ার পাহাড়ি এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। অভিযান চলাকালে র্যাব সদস্যদের গুলি ছুড়ে কবির। এতে এক র্যাব সদস্য আহত হন। তখন র্যাব পাল্টা গুলি চালায়। পরবর্তী সময়ে ঘটনাস্থল থেকে কবিরকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। সেই সঙ্গে পুলিশ সদস্য মো. জনি খানকে জখমে ব্যবহৃত দা উদ্ধার করা হয়। পাশাপাশি একটি ওয়ান শুটার গান, তিন রাউন্ড গুলির খোসা, তিন রাউন্ড তাজা গুলি, দুটি হাঁসুয়া, একটি ছুরি, ১৮০ পিস ইয়াবা, দুটি মোবাইল ও দুটি সিম কার্ড উদ্ধার করা হয়েছে।
খন্দকার আল মঈন বলেন, গ্রেফতার কফিলও একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী। বিভিন্ন সময় সে পাশের দেশ থেকে মাদক এনে চট্টগ্রাম ও তার আশপাশের এলাকায় সরবরাহের সিন্ডিকেট পরিচালনা করতো। সে গ্রেফতারকৃত কবিরের বিভিন্ন অপরাধ কর্মকাণ্ডের সহযোগী ও প্রশ্রয়দাতা। সে এলাকায় বিভিন্ন মাদক ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।
পুলিশ জানায়, গত ১৫ মে সকালে লোহাগাড়া উপজেলার পদুয়া ইউনিয়নের লালাখিল এলাকায় কবির আহাম্মদ নামে এক আসামিকে গ্রেফতারে গ্রামের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে নেতৃত্ব দেন লোহাগাড়া থানার এসআই ভক্ত চন্দ্র দত্ত। এ সময় তার সঙ্গে ছিলেন এএসআই মজিবুর রহমান, কনস্টেবল মো. জনি খান ও শাহাদাত হোসেন। পুলিশ পিকআপে অভিযান চালায়। কবির গ্রেফতার এড়াতে কনস্টেবল জনি খানকে দা দিয়ে কোপ দেয়। এতে তার বাম হাতের কবজি বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এরপর কবির পালিয়ে যায়। জনিকে প্রথমে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এরপর উন্নত চিকিৎসার জন্য হেলিকপ্টারে ঢাকায় পাঠানো হয়। পরে তাকে ঢাকার মোহাম্মদপুরে আল মানার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ১৬ মে হাসপাতালের চিকিৎসক সাজেদুল রেজা ফারুকীর দীর্ঘ ৯ ঘণ্টা ৪০ মিনিট সফল অপারেশনের মাধ্যমে বিচ্ছিন্ন কবজিটি জোড়া লাগানো হয়। এ ঘটনায় তিন জনকে আসামি করে রবিবার (১৫ মে) রাতে লোহাগাড়া থানার এএসআই মজিবুর রহমান বাদী হয়ে মামলা করেন।
মামলায় কবির আহাম্মদ, তার স্ত্রী রুবি আকতার এবং তার মা মোস্তফা বেগমকে আসামি করা হয়েছে। এর মধ্যে মামলার দুই নম্বর আসামি রুবিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
সাতকানিয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শিবলী নোমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত মূল আসামিকে র্যাব গুলিবিদ্ধ অবস্থায় এক সহযোগীসহ গ্রেফতার করেছে। তাকে এখনও থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হয়নি। বর্তমানে গ্রেফতার কবির চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।’








