চট্টগ্রামের বাঁশখালীর চাম্বল ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক চৌধুরীকে শোকজ করা হয়েছে। নির্বাচন নিয়ে তার বিতর্কিত বক্তব্যের ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার (৩০ মে) বিকালে তাকে শোকজের চিঠি দেওয়া হয়। বাঁশখালী উপজেলা রিটার্নিং কর্মকর্তা রকর চাকমা জানিয়েছেন, আগামী দুই কার্যদিবসের মধ্যে শোকজের সন্তোষজনক জবাব দেওয়ার জন্য চিঠিতে বলা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩১ মে) সকালে রিটার্নিং কর্মকর্তা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘নির্বাচনি প্রচারণায় চাম্বল ইউনিয়নের চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক চৌধুরীর ভিডিও বক্তব্য আমরা পেয়েছি। বিষয়টি নজরে আসার পরম মঙ্গলবার বিকালে এ বক্তব্যের জন্য তাকে শোকজ করা হয়েছে। দুই দিনের মধ্যে অর্থাৎ বুধবারের মধ্যে তাকে শোকজের জবাব দিতে বলা হয়েছে। এতে যদি সন্তোষজনক বক্তব্য দিতে না পারেন তাহলে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
জানা গেছে, গত শনিবার বিকালে বাঁশখালী উপজেলার চাম্বল ইউনিয়নের বাংলাবাজার ১ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারণা চালান চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক চৌধুরী। সে সময় হ্যান্ডমাইকে দেওয়া বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘রিকশায় করে বা যেভাবে পারেন এসে ভোট দিন। কারণ ইভিএমে ভোট। ইভিএম না হলে সব সিল আমিই মেরে দিতাম, কাউকে খুঁজতাম না। কথা বোঝেননি, ইভিএমে আইডি কার্ড না ঢুকালে ভোট হয় না। হলে ভোট আমি রাতেই নিয়ে নিতাম। তাই আপনাদের কষ্ট করে সেটা (জাতীয় পরিচয়পত্র) নিয়ে যেতে হবে। মেশিনে ফিঙ্গার প্রিন্ট দিতে হবে। আপনারা কষ্ট করে ভোটকেন্দ্রে যাবেন। আঙুলের ছাপ দিয়ে ভোট দেবেন। ছাপ দিতে না পারলে সেখানে আমি ছাপ দেওয়ার মানুষ রাখবো। আপনারা আমার জন্য দোয়া করবেন।’
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিও এডিট করা বলে দাবি করেছেন চেয়ারম্যান প্রার্থী মজিবুল হক চৌধুরী। তিনি বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছে। আমি এ ধরনের বক্তব্য কোথাও দিইনি। আমার প্রতিপক্ষ এটা এডিট করে ছেড়েছে। আগেও আমার দুটি বক্তব্য এডিট করে তারা ছেড়েছে। তারা বুঝতে পেরেছে, আমার যে জনপ্রিয়তা, তাতে আমার সঙ্গে তাদের জয়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই। এ কারণে তারা অসৎ উপায় অবলম্বন করছে।’
আগামী ১৫ জুন বাঁশখালী উপজেলার ১৪টি ইউনিয়নে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
আরও খবর: ইভিএম না হলে ভোট রাতেই নিয়ে নিতাম: চেয়ারম্যান প্রার্থী









