কুমিল্লা নগরজুড়ে বইছে ভোটের হাওয়া। পাঁচ প্রার্থীর ব্যানার-পোস্টারে সাদা রূপ ধারণ করেছে পুরো শহর। প্রত্যাশা আর অভিযোগের মধ্য দিয়ে সোমবার প্রচারণা শেষ হলেও নগরবাসীকে নিজেদের শেষ প্রত্যাশার কথা শুনিয়েছেন প্রধান তিন প্রার্থী।
বিজয়ীকে ফুলের মালা দিয়ে বরণ করবেন রিফাত:
আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের মেয়র প্রার্থী আরফানুল হক রিফাত মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেছেন, জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। পরাজিত হলে যিনি বিজয়ী হবেন ফুলের মালা দিয়ে বরণ করবো। সে রকম মানসিকতা নিয়ে নির্বাচন করতে এসেছি। এই শিক্ষা পেয়েছি প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনা ও কুমিল্লার অভিভাবক জননেতা আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহার এমপির কাছ থেকে।
তিনি আরও বলেন, কালো টাকা দিয়ে নির্বাচন করছেন অনেকে। তবে কুমিল্লার মানুষ সবই বোঝে। কাকে ভোট দিতে হবে তা তারা ভোট দানের মাধ্যমেই বোঝাবে।
ইসি জনগণকে যেন না ঠকায়: সাক্কু
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মনিরুল হক সাক্কু বলেছেন, ইসির ওপর আস্থা রেখে জনগণের ইচ্ছায় নির্বাচন করছি। আশা রাখছি, ইসি আমাদের সুষ্ঠু নির্বাচন উপহার দেবেন। তারপরও আমি বলি ইসি যেন জনগণকে না ঠকায়। ভোটের সময় আইন প্রয়োগ করলে সুষ্ঠু ভোট হবে। তবে এই আইন যদি প্রয়োগ না করে শুধুই দেখানো হয়, তাহলে সুষ্ঠু ভোট হবে না।
এ সময় তিনি সাংবাদিকদের বলেন, যাইহোক আপনারা তো মাঠে থাকবেন। দেখবেন বহিরাগত কে বা কারা আসে। যদি এক্ষেত্রে ইসি ব্যর্থ হয় তবে ইসির ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।
কালো টাকার বিষয়ে এই প্রার্থী বলেন, আমার কালো টাকা নাকি সাদা, এটা দেখবে প্রশাসন। রিফাত ভাই অথবা বাহার ভাই কেন এগুলো বলবেন। আর কালো টাকা থাকলে সেগুলো কই আছে? কুমিল্লার মানুষ কালো টাকার মালিক চেনেন। তারা আমাকে ভালোবাসেন, তাই আবারও আমার সঙ্গে থাকবেন।
ভোটার উপস্থিতি কম হলে ইসি দায়ী: কায়সার
স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী নিজাম উদ্দীন কায়সার বলেছেন, কুমিল্লার মানুষ পরিবর্তনের পক্ষে। তারা স্থানীয় সংসদ সদস্যের লুটেরা শ্রেণি থেকে মুক্তি চায়। তাই বুধবার তারা ঘোড়া মার্কায় ভোট দিয়ে তাদের ইচ্ছাপূরণ করবেন। কিন্তু আমি খবর পেয়েছি, স্থানীয় সংসদ সদস্য আ ক ম বাহাউদ্দিন বাহারের কুমিল্লায় অবস্থান সম্পর্কে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের হতাশার বক্তব্যে আমার নির্বাচনি এলাকার ভোটাররা হতাশ হয়েছেন। তারা ভোট দিতে আস্থা হারিয়ে ফেলেছেন। তবু আমি ভোটারদের বলবো, আপনারা ভোট দিতে যাবেন। ভোট দিয়ে আপনাদের প্রার্থীকে সেবক বানাবেন।
তিনি আরও বলেন, আমি হলফনামায় যা উল্লেখ করেছি, তাই খরচ করেছি। আমার কোনও কালো টাকা নেই। খরচের দরকারও নেই। আমি বলার আগে আমার পক্ষে কাজ করা শুরু করে দিয়েছেন জনতা।
হরিণ প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী কামরুল আহসান বাবুল বলেন, ভোট সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।
হাতপাখা প্রতীকের প্রার্থী রাশেদুল ইসলাম জানিয়েছেন, এই নির্বাচন নতুন ইসির জন্য পরীক্ষা। সুষ্ঠু ভোট হলে আমি জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী।









