লক্ষ্মীপুরের কমলনগরে এক যুবলীগ নেতাকে পিটিয়ে হাসপাতালে পাঠানোর অভিযোগ উঠেছে চেয়ারম্যান মীর্জা আশরাফুল জামাল রাসেলের বিরুদ্ধে। তিনি উপজেলার তোরাবগঞ্জ ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান।
ভূক্তভোগী ইব্রাহিম খলিল একই ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক এবং স্থানীয় চৌরাস্তা বাজারের মুদি ব্যবসায়ী। তিনি একই এলাকার চৌধুরী মিয়ার ছেলে।
বৃহস্পতিবার (১৮ আগস্ট) সন্ধ্যা ৭টার দিকে কমলনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ইব্রাহিম খলিল বিষয়টি সাংবাদিকদের জানান।
ইব্রাহিম খলিল জানান, বুধবার (১৭ আগস্ট) রাতে তিনি নিজ দোকানে বসেছিলেন। এ সময় চেয়ারম্যান রাসেল পাঁচটি মোটরসাইকেলযোগে লোকজন নিয়ে তার দোকানের সামনে আসেন। রাসেল বলেন, ‘তোকে অনেক দিন ধরে খুঁজছি, কিন্তু পাচ্ছি না। এখন পেয়েছি।’ এ বলেই একটি পাইপ দিয়ে রাসেল তাকে এলোপাতাড়ি পেটাতে থাকেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সাবেক এমপি আবদুল্লাহ আল মামুন, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মেজবাহ উদ্দিন আহমেদ বাপ্পী ও তোরাবগঞ্জের সাবেক চেয়ারম্যান ফয়সল আহমেদ রতনের ছবি ফেসবুকে পোস্ট করার কারণেই তাকে পেটানো হয়েছে।
ইব্রাহিম বলেন, ‘চেয়ারম্যান রাসেল নিজেই আমাকে এলোপাতাড়ি পিটিয়েছে। তার পায়ে ধরলেও পেটানো বন্ধ করেনি। পরে আশপাশের লোকজন এলে তাদেরকেও রাসেল পেটাতে যায়। এ সময় আমি পালিয়ে রক্ষা পাই। বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসিকে জানিয়েছি।’
ইউপি চেয়ারম্যান মীর্জা আশরাফুল জামাল রাসেল বলেন, মাদকদ্রব্য সেবন ও বিক্রিসহ এলাকায় চুরি বেড়ে গেছে। এটি নিয়ন্ত্রণে রাতে বিভিন্ন ওয়ার্ড পরিদর্শনে বের হই। রাত ১টার পর ইব্রাহিমের দোকান খোলা ছিল। দোকান খোলার কারণ জানতে চাইলে ইব্রাহিম তর্ক শুরু করে। তাকে একবারই আঘাত করা হয়েছে। তার করা অভিযোগ সত্য নয়।
কমলনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সোলাইমান বলেন, ঘটনাটি শুনেছি। কেউ এখনও লিখিতভাবে অভিযোগ করেনি।
কমলনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুজ্জামান বলেন, ঘটনাটি আমাকে জানানো হয়েছে। ভুক্তভোগী অভিযোগ দিলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।









