বান্দরবানের রোয়াংছড়ির তারাছা ইউনিয়নের ছাইঙ্গ্যা এলাকায় সরকারি খাস জমিতে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ফোরকান নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি এ ঘটনা ঘটান। তার বিরুদ্ধে নির্মাণ শ্রমিকদের হুমকি দেওয়া ও সিমেন্টসহ বিভিন্ন সরঞ্জামাদিতে পানি ঢেলে নষ্ট করারও অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়রা জানান, ফোরকান প্রধানমন্ত্রীর উপহারের বাড়ি নির্মাণের বর্তমান স্থান থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে ছাইগ্যাউ মারমার কাছ থেকে দেড় একর জমি কেনেন। বর্তমানে ওই জমির কাগজ ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের জন্য নির্ধারিত স্থান ও পাশের বন বিভাগের জায়গাকে নিজের বলে দাবি করছেন।
তবে জায়গা বিক্রেতা ছাইগ্যাউ মারমা বলেন, ফোরকান আমার থেকে দেড় একর দ্বিতীয় শ্রেণির জায়গা কিনেছেন। সেখানে ছাইঙ্গ্যার ফারুক কন্ট্রাকটরের গোদারপাড় থেকে এক কিলোমিটার পায়ে হেঁটে যেতে হয়। প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর নির্মাণের জায়গায় আমি কোনও জায়গা বিক্রি করিনি। সেখানে আমার কোনও জায়গাও নেই।
এ বিষয়ে তেঁতুলিয়া পাড়ার কারবারি কেনুমং মারমা বলেন, ফোরকান জায়গা কিনেছেন আমার তেঁতুলিয়া পাড়া থেকে আরও দেড় কিলোমিটার দূরে। বর্তমানে প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘরের জমি থেকে ওই জায়গা প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে। তবে সে প্রভাবশালী হওয়ায় কেনা জমির কাগজ দেখিয়ে একই ইউনিয়নের অন্য সরকারি জমি দখলে নিচ্ছে। তার ভয়ে কেউ কথাও বলছে না।
বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. এনামুল হক বলেন, ফোরকান যে জায়গা নিজের বলে দাবি করছেন, তা আমাদের জায়গা। এদিকে ফোরকানের কোনও জায়গা নেই। কাগজ থাকলেও সেটি ভুয়া। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান তিনি।
তারাছার ১ নম্বর ওয়ার্ড মেম্বার মো. মোরশেদ বলেন, ফোরকান অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি। আশপাশের কেউ তার ভয়ে কথা বলতে পারে না। কথা বললেই মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করে।
এদিক ঘর নির্মাণে বাধা দেওয়া ও নির্মাণ সামগ্রী নষ্টের খবর পেয়ে গত রবিবার (১৬ অক্টোবর) বিকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন রোয়াংছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. খোরশেদ আলম। এ সময় তিনি ফোরকানকে ঘটনাস্থলে আসার জন্য খবর পাঠালে তিনি পালিয়ে যান।
পরিদর্শনের সময় ইউএনও’র সঙ্গে রোয়াংছড়ি উপজেলার কানুনগো আতিকুল ইসলাম আনসারি, পিআইও মো. আসাদুজ্জামান, তারাছার হেডম্যান উনিহ্লা, স্থানীয় ওয়ার্ড মেম্বার মো. মোরশেদ, পাড়া কারবারি কেনুমং মারমা, উচ্চমান সহকারী মো. আমজাদ হোসেনসহ বন বিভাগের কর্মকর্তা, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ইউএনও খোরশেদ আলম বলেন, আমি ফোরকানের বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে সত্যতা পেয়েছি। ফোরকান দেড় একর দ্বিতীয় শ্রেণির যে জায়গাটি দাবি করছে তা ঘটনাস্থল থেকে আরও তিন কিলোমিটার দূরে। তার কাগজের সঙ্গে বর্তমান জায়গার আংশিক মিল থাকায় সে সরকারি খাস এবং বন বিভাগের জমি নিজের বলে দাবি করছে। তদন্তে এসে আমি আশপাশে থোয়াইছাইর কোনও বন্দোবস্তি জায়গা খুঁজে পাইনি। এতেই স্পষ্ট হয় ফোরকান সরকারি খাস জায়গা ও বন বিভাগের জায়গা জবর দখলের চেষ্টা করছে। তার বিরুদ্ধে আইন ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।









