চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলার তপু মালাকারকে (২৫) হত্যা করে লাশ পুকুরে ফেলে দিয়েছিল তারই তিন বন্ধু। পাওনা টাকা না দেওয়ায় এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে। হত্যায় জড়িত দুই বন্ধুকে গ্রেফতারের পর পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) এসব তথ্য জানিয়েছে তারা। রবিবার (১১ ডিসেম্বর) তপু হত্যায় ব্যবহৃত গাছের ডাল উদ্ধার করেছে পিবিআই।
পিবিআই জানায়, ২০২১ সালের ১ জানুয়ারি নিখোঁজ হন রাঙ্গুনিয়ার পারুয়া ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের পনব মালাকারের ছেলে তপু মালাকার। নিখোঁজের চার দিন পর ৫ জানুয়ারি সকাল সাড়ে ৮টায় মুকুন্দ চেয়ারম্যান বাড়ির পেছনের পুকুর থেকে তপুর লাশ উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানায় অপমৃত্যু মামলা করে পুলিশ। পরে ময়নাতদন্তে উঠে আসে তপুর মৃত্যু স্বাভাবিক নয়, তাকে হত্যা করা হয়েছে। এ ঘটনায় রাঙ্গুনিয়া থানার এসআই মো. আলাউদ্দিন সাকিল বাদী হয়ে অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। প্রথমে রাঙ্গুনিয়া থানা পুলিশ মামলাটি তদন্ত করে। পরে মামলার তদন্তভার যায় জেলা গোয়েন্দা পুলিশের কাছে। জেলা গোয়েন্দা পুলিশের পরিদর্শক মো. আবদুল মজিদ মামলাটি তদন্ত করেন। কিন্তু তপু হত্যার রহস্য উদঘাটন করতে না পেরে গত ৩১ জুলাই আদালতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা। আদালত মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য গত ২৪ সেপ্টেম্বর পিবিআইকে নির্দেশ দেন। পিবিআই চট্টগ্রাম জেলার পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলামকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়।
পিবিআইয়ের পরিদর্শক মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘ক্লু-লেস মামলার তদন্তভার পেয়ে প্রযুক্তি সহায়তা নেওয়াসহ দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নানাভাবে তদন্ত শুরু করি। গত ৭ ডিসেম্বর বসু কুমার নম (৩৩) নামে সন্দেহভাজন একজনকে আটক করা হয়। পরে তাকে রিমান্ডে নেওয়া হয়। রিমান্ডে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দেয় বসু কুমার। তার দেওয়া তথ্যে গত শুক্রবার (৯ ডিসেম্বর) রাতে মৌলভীবাজার থেকে সুবল মালাকার (২৭) ও রাঙ্গুনিয়ার বাড়ি থেকে বাপ্পা চৌধুরীকে (৩২) গ্রেফতার করা হয়। শনিবার (১০ ডিসেম্বর) আদালতে সোপর্দ করে তাদের সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। আদালত তাদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।’
রিমান্ডে তপুকে হত্যার কথা স্বীকার করেছে সুবল মালাকার ও বাপ্পা চৌধুরী এমন দাবি করে তদন্ত কর্মকর্তা সিরাজুল ইসলাম বলেন, ‘তাদের সঙ্গে জনি মালাকার নামে আরেক বন্ধু হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল। তারা তিন জন মিলে তপুকে হত্যা করেছে বলে স্বীকার করেছে।’
সুবল মালাকার ও বাপ্পা চৌধুরীর দেওয়া স্বীকারোক্তির বরাত দিয়ে পিবিআইয়ের এই কর্মকর্তা বলেন, ‘সুবল মালাকার, বাপ্পা চৌধুরী, জনি মালাকার ও তপু মালাকার একে-অপরের বন্ধু। একসঙ্গে ইয়াবা সেবনের পাশাপাশি বিক্রি করতো। তপুর কাছে ৩৩ হাজার টাকা পাওনা ছিল জনি মালাকার। ওই টাকার জন্য ঘটনার দিন ফোন করে তপুকে পুকুর পাড়ে ডেকে নেয় অপর তিন বন্ধু। তপু পুকুর পাড়ে এলে জনি টাকা দাবি করে। তপু টাকা দিতে অপারগতা জানায়। তখন গাছের ডাল দিয়ে তপুর মাথায় আঘাত করে জনি। এতে তপু মাটিতে পড়ে যায়। এ সুযোগে তপুকে শ্বাসরোধে হত্যা করে সুবল, বাপ্পা ও জনি। পরে লাশ পুকুরে ফেলে দেয় তারা।’
সিরাজুল ইসলাম আরও বলেন, ‘রিমান্ডে দেওয়া দুই আসামির তথ্যের ভিত্তিতে তপু হত্যায় ব্যবহৃত গাছের ডাল রবিবার রাঙ্গুনিয়া উপজেলার পারুয়া ইউনিয়নের পুকুর থেকে উদ্ধার করেছি আমরা। জনি মালাকারকে গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’








