৭ দফা দাবিতে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের রোডমার্চ শুরু 

নিজস্ব  প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
০৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১৮:৫২আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৩, ১৯:০৯

২০১৮ সালের নির্বাচনি ইশতেহারে সরকারি দলের প্রতিশ্রুত সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়নসহ সাত দফা দাবিতে রাজধানী অভিমুখে রোডমার্চ কর্মসূচি শুরু করেছে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টানঐক্য পরিষদ। 

শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) বিকাল সাড়ে ৩টায় চট্টগ্রাম ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট মিলনায়তন থেকে এই কর্মসূচি শুরু হয়। কর্মসূচির উদ্বোধন করেছেন পার্বত্য চট্টগ্রাম আঞ্চলিক পরিষদের চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা (সন্তু লারমা)।

প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এ এইচ এম শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক। আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের কেন্দ্রীয় সভাপতি নিমচন্দ্র ভৌমিক এবং প্রধান বক্তা ছিলেন কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট রানা দাশগুপ্ত। 

শামসুদ্দিন চৌধুরী মানিক বলেন, ‘ধর্ম নিরপেক্ষ রাষ্ট্র বাংলাদেশ সৃষ্টির জন্য আমরা যুদ্ধ করেছিলাম। বঙ্গবন্ধু বলেছিলেন, ধর্মভিত্তিক রাজনীতি দেশে চলবে না। আজ বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে আমরা অনেক দূরে চলে গেছি। এই চট্টগ্রামের কুখ্যাত রাজাকার সাকা চৌধুরীর ছেলে বললো, প্রধানমন্ত্রীকে নাকি ক্ষমা চাইতে হবে। সাকাপুত্র তুমি এখান থেকে চলে যাও। এই দেশ তোমার না। নওগাঁর জেলা জজ হাসান মাহমুদুল ইসলাম বলেছেন, মালাউনরা ভাগলে আমি খুশি হই। অবিশ্বাস্য। প্রশাসন পুলিশ নিম্ন আদালতে রাজাকার আলবদরে ভরে গেছে। অনেককে সরকার সরিয়ে দিয়েছে। অন্যদেরও সরাতে হবে। বিশ্বের অনেক দেশের চাপ থাকার পরও সাকার ফাঁসি হয়েছিল। এজন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ। আমি নিজেও বিশ্বাস করতে পারিনি সাকার ফাঁসি হবে। যুক্তরাষ্ট্র, জাতিসংঘ, তুরস্ক কোথা থেকে চাপ আসেনি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জিয়াউর রহমান গোলাম আযমকে পাকিস্তান থেকে এনে প্রতিষ্ঠিত করেছিল। জিয়ার পর এরশাদ, আর তারপর জিয়ার স্ত্রী ২৫ বছরে এদেশে ধর্মান্ধতা প্রতিষ্ঠা করে। বেগম খালেদা জিয়া বললেন, আওয়ামী লীগ ভোটে জিতলে মসজিদে আজান হবে না, হবে উলুধ্বনি। এর থেকে বড় সাম্প্রদায়িক উক্তি আর নেই। ওয়াজকারীরা ধর্মীয় সম্প্রীতির কথা বলছেন না। নারীদের বিরুদ্ধে বিষাদগার করছেন। কিন্তু সরকার কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।’

উদ্বোধনী বক্তব্যে জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় লারমা বলেন, ‘বিগত বছর থেকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আন্দোলনের সর্বশেষ যে কর্মসূচি তা বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সমাজ নানাভাবে নানা ক্ষেত্রে শোষিত-বঞ্চিত ও প্রতারিত হয়ে আসছে। আধিবাসী সমাজ, সংখ্যালঘু সমাজ তারা তাদের অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি পালন করতে যাচ্ছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এই কর্মসূচি শুধু একটা আনুষ্ঠানিকতা নয়, এই আনুষ্ঠানিকতার মধ্যে দিয়ে আমি মনে করি অধিকার আদায়ের লক্ষ্যে আমাদের নেতৃত্বকে আরও সুসংগঠিত ও সংগ্রামী করতে হবে। আমি সে ধরনের নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠার সংগ্রামে আহ্বান জানাচ্ছি। সাত দফা দাবি আদায় ও বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আমাদের বাংলাদেশে সংখ্যালঘুরা যে যেখানে থাকেন না কেন এগিয়ে আসবেন। এসব দাবি পূরণের মধ্যে দিয়ে সংখ্যালঘুদের বঞ্চনা-শোষণের অবসান ঘটবে।’

চট্টগ্রাম থেকে শুরু হওয়া রোড মার্চ শনিবার (৭ জানুয়ারি) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে জড়ো হবে। এরপর পদযাত্রাসহ প্রধানমন্ত্রী বরাবর তার কার্যালয়ে গিয়ে স্মারকলিপি দেবেন সংগঠনের নেতারা। এতে ধর্মীয়-জাতিগত সংখ্যালঘু ও আদীবাসী জনগোষ্ঠীর স্বার্থ ও অধিকার রক্ষায় ২০১৮ সালের সরকারি দলের নির্বাচনি ইশতেহারের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নের আহ্বান জানানো হবে।

সাত দফা দাবির মধ্যে সংখ্যালঘু সুরক্ষা আইন প্রণয়ন, জাতীয় সংখ্যালঘু কমিশন গঠন, বৈষম্য বিলোপ আইন প্রণয়ন, দেবোত্তর সম্পত্তি সংরক্ষণ আইন প্রণয়ন, অর্পিত সম্পত্তি প্রত্যর্পণ আইন, পার্বত্য শান্তিচুক্তি ও পার্বত্য ভূমি কমিশন আইনের যথাযথ বাস্তবায়ন, সমতলের আদিবাসীদের জন্য পৃথক ভূমি কমিশন গঠন ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য।

রোডমার্চ কর্মসূচি শুরুর আগে শুক্রবার সকালে ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউট চট্টগ্রাম মিলনায়তনে হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ চট্টগ্রাম মহানগর শাখার ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।

/এসএইচ/
সম্পর্কিত
সর্বশেষ খবর
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
কথা বলার সময় স্মার্টফোন দ্রুত গরম হয়ে যায়? কারণ ও প্রতীকারের উপায়
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
ট্রাম্পকে বড় ধাক্কা: মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাস
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
কিছু টিপস মেনে চললেই গরমে ত্বক সুন্দর রাখা যায়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সত্যি কি বাংলাদেশের শ্রমিকদের জোরপূর্বক কাজ করানো হয়
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের
অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম দুই ওয়ানডের দল ঘোষণা বাংলাদেশের