দেশের অর্থনীতির লাইফলাইনখ্যাত ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কসহ বিভাগের কোনও মহাসড়কে চাঁদাবাজি চলবে না বলে জানিয়েছেন হাইওয়ে পুলিশ কুমিল্লা রিজিয়নের পুলিশ সুপার মুহাম্মদ রহমত উল্লাহ। আসন্ন পবিত্র রমজান ও ঈদকে সামনে রেখে বৃহস্পতিবার (৯ মার্চ) আয়োজিত হাইওয়ে পুলিশের অপরাধ পর্যালোচনা সভা শেষে পুলিশ সুপার সাংবাদিকদের এ কথা জানান।
পুলিশ সুপার বলেন, ঢাকা-চট্টগ্রাম, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, কুমিল্লা-সিলেট, ঢাকা-সিলেট, কুমিল্লা-নোয়াখালী, কুমিল্লা-চাঁদপুরসহ চট্টগ্রাম বিভাগের বিভিন্ন জাতীয় ও মহাসড়কে কোনও যানবাহন থেকে হাইওয়ে পুলিশ, পুলিশ, মালিক সমিতি ও শ্রমিক ইউনিয়নের নামে চাঁদাবাজি করতে দেওয়া হবে না। আসন্ন পবিত্র মাহে রমজান কিংবা ঈদকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির সঙ্গে হাইওয়ে পুলিশ অথবা যেই জড়িত থাকুক তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
তিনি বলেন, মহাসড়কে অপরাধের তথ্য উদঘাটনে একাদিক গোয়েন্দা টিম কাজ করছে। এসব গোয়েন্দা টিমের সদস্যরা সড়কে চলাচলকারী বিভিন্ন পণ্যবাহী ও যাত্রীবাহী যানবাহনের চালক-হেলপারদের সঙ্গে কথা বলে চাঁদাবাজির ঘটনা ঘটলে তার রহস্য উদঘাটন করে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।
পুলিশ সুপার আরও বলেন, মহসড়কে যান চলাচল নির্বিঘ্ন রাখতে ৩৪টি মোবাইল পেট্রোল ও ২২টি কুইক রেসপন্স টিম কাজ করবে। দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহন ও হতাহতদের দ্রুত হাসপাতালে পাঠানোর জন্য ৫টি রেকার ও পর্যাপ্ত অ্যাম্বুলেন্স প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সভায় পুলিশ সুপার চট্টগ্রাম বিভাগের দাউদকান্দি থেকে টেকনাফ পর্যন্ত কোনও যানবাহনে যেন চাঁদাবাজি না হয়, সেইসঙ্গে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নির্বিঘ্ন রাখতে রিজিয়নের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, সার্কেল এএসপি ও ২২টি হাইওয়ে থানা, ফাঁড়ির ওসি এবং আইসিদের কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
সভায় হাইওয়ে পুলিশের কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলা হয়, মহাসড়কে চলাচল নিষিদ্ধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। মহাসড়কে চুরি, ডাকাতি, ছিনতাই ও সড়ক দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সবাইকে তৎপর থাকতে হবে। নির্দেশনা প্রতিপালনে শৈথিল্য দেখালে বিভাগীয়সহ প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
হাইওয়ে পুলিশের উদ্দেশে তিনি বলেন, সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া মহাসড়কে চলাচলকারী পণ্যবাহী এবং যাত্রীবাহী কোনও যানবাহন থামানো যাবে না। মহাসড়কে কোনও প্রকার চেকপোস্ট বসানো যাবে না। এ সময় পুলিশ সুপার প্রতিদিন মহাসড়কের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ঘুরে সার্বিক তদারকির ঘোষণা দেন।









