ফেনীর সোনাগাজীতে একটি হত্যা মামলায় জামাই ও শাশুড়ির যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন ফেনীর আদালত। মঙ্গলবার (১১ এপ্রিল) দুপুরে ফেনীর অতিরিক্ত দায়রা জজ সৈয়দ মো. কায়সার মোশাররফ ইউসুফ এ রায় ঘোষণা করেন।
দণ্ডিতরা হলো- উপজেলার চরডুব্বা গ্রামের মমতাজ উদ্দিনের স্ত্রী সফুরা খাতুন (৬০) ও ভোলার চরফ্যাশনের চর আবজাল গ্রামের মো. সেলিম খান (৫০)। তারা সম্পর্কে জামাই ও শাশুড়ি।
আদালতের এপিপি দিজেন্দ্র কুমার কংশ বনিক বলেন, আসামিদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হওয়ায় সফুরাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেন। একই মামলায় অপর আসামি সেলিম খানকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও ৫০ হাজার টাকা অনাদায়ে আরও ছয় মাসের বিনাশ্রমে কারাদণ্ড ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময়ে আসামি সেলিম আদালতে উপস্থিত থাকলেও সফুরা পলাতক ছিলেন। আদালত এ মামলায় ২৯ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে রায় ঘোষণা করেন।
সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে সোনাগাজীর চর গণেশ এলাকার প্রবাসী নুর মোহাম্মদ সোহেলের নিলুফা মঞ্জিলে কাজ করতেন সফুরা। একপর্যায়ে লোভে পড়ে ওই বাসায় রান্না করা খাবারে চেতনানাশক মিশিয়ে ২০১১ সালের ২৯ অক্টোবর গভীর রাতে তার মেয়ের স্বামীসহ ওই ঘরে ডাকাতি করতে প্রবেশ করেন। ঘরের লোকজন বিষয়টি টের পেলে বটি দিয়ে তাদেরকে কুপিয়ে আহত করে। পরে এ ঘটনায় আহত আসমা আক্তার তানিশা চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান।
এ ঘটনায় গৃহকর্তা প্রবাসী সোহেল বাদী হয়ে সোনাগাজী মডেল থানায় পাঁচ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছিলেন। পুলিশ অভিযুক্ত সফুরা ও তদন্তে উঠে আসা সেলিম খানকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
আদালত সূত্রে জানা যায়, আলোচিত মামলাটি তদন্ত শেষে সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক নুরুল ইসলাম ও সোনাগাজী মডেল থানার এসআই শ্রীবাস চন্দ্র দাস ২০১৪ সালে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।









