রবিউল ইসলাম (২৭)। সীতাকুণ্ডের বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে গিয়ে নিখোঁজ হন। এখনও তার লাশের হদিস পায়নি স্বজনরা। নওগাঁ জেলার চকপাথুরিয়া মহল্লার পূর্বপাড়ার খাদেমুল ইসলামের ছেলে রবিউল। এক বছর ধরে রবিউলকে হারানোর শূন্যতা বয়ে বেড়াচ্ছেন স্বজনরা।
রবিউলের পরিবার জানায়, এসএসসি পাস করার পর ২০২০ সালের নভেম্বরে ফায়ার সার্ভিসের চাকরিতে যোগ দেন। চট্টগ্রামে প্রশিক্ষণ শেষে ফায়ার ফাইটার হিসেবে যোগ দেন প্রথম কর্মস্থল সীতাকুণ্ডের ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে। গত বছরের ৪ জুন রাতে বিএম কনটেইনার ডিপোতে আগুন নেভাতে গিয়ে আর ফিরে আসেননি রবিউল। পাওয়া যায়নি তার লাশও।
রবিউলের বাবা খাদেমুল ইসলাম বলেন, ‘আমার দুই ছেলে, এক মেয়ে। রবিউল ছিল সবার বড়। ছোট ছেলে রনি আহমেদ নওগাঁর একটি কলেজে অনার্সে পড়ছেন। মেয়ে নওমি আক্তার রিমঝিমের বয়স ৯ বছর। অনেক কষ্ট করে রবিউলের চাকরি হয়েছিল। চাকরিতে যোগ দেওয়ার ১৭ মাসের মধ্যে তাকে হারিয়ে ফেলেছি। ছেলের লাশটিও পাইনি।’
তিনি বলেন, ‘আমি নানা রোগে আক্রান্ত। ঘটনার পর বলেছিল যারা মারা গেছেন তাদের পরিবারের একজন সদস্যকে চাকরি দেওয়া হবে। চাকরি তো দূরের কথা আমরা কেমন আছি সে খবরও কেউ নেয়নি। আমার পরিবারে উপার্জন করার মতো কেউ নেই। আমার অনার্স পড়ুয়া ছোট ছেলের জন্য চাকরি চাই।’
রবিউলের চাচা নাজিম উদ্দিন বলেন, ‘চাকরি পাওয়ার পর রবিউলের অনেক স্বপ্ন ছিল। তারা নতুন করে আলাদা বাড়ি করবে। তার বিয়ের জন্য পাত্রী খোঁজা হচ্ছিল। কয়েকটি মেয়ে দেখেছিলাম। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাস সব স্বপ্নকে চাপা দিয়ে রবিউলই আমাদের ছেলে চলে গেছে।’
তিনি বলেন, ‘কেন আগুন নেভাতে গিয়ে রবিউলের মতো ১৩টি তাজা প্রাণ অকালে জীবন হারাবে। সেখানে কী এমন ছিল যা এখনও প্রকাশ পায়নি। যার কারণে তারা মারা গেছে। এতগুলো প্রাণ চলে যাওয়ার পেছনে কি কারও দায় ছিল না? তাদের বিরুদ্ধে কি কোনও ব্যবস্থা নেওয়া হবে না? রবিউলের লাশটি পর্যন্ত আমাদের বুঝিয়ে দিতে পারেনি। ডিএনএ টেস্টেও নাকি মেলেনি। তাহলে রবিউলের লাশটি গেল কোথায়?’
সীতাকুণ্ডের সিনিয়র ফায়ার স্টেশন কর্মকর্তা নূরুল আলম দুলাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বিএম কনটেইনার ডিপোতে দুর্ঘটনায় ফায়ার সার্ভিসের ১৩ জন মারা গেছেন। এরমধ্যে সীতাকুণ্ডের ফায়ার স্টেশনের ফায়ার ফাইটার রবিউল ইসলামসহ তিন জনের লাশ শনাক্ত হয়নি। এমনকি পরবর্তীতে ডিএনএ রিপোর্টেও তাদের লাশ শনাক্ত হয়নি।’









