চট্টগ্রাম নগরীর জামালখানে দেয়ালে স্থাপিত জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ছবি ভাঙচুর করা হয়েছে। আওয়ামী লীগের অভিযোগ, বিএনপির অঙ্গ সংগঠন যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরা এ ভাঙচুর চালিয়েছে।
বুধবার (১৪ জুন) বিকালে কাজির দেউড়ি মোড়ে বিএনপির ‘তারুণ্যের সমাবেশ’-এ যাওয়ার সময় এ ভাঙচুর চালানো হয়, এমন অভিযোগ এনে এর প্রতিবাদে সন্ধ্যায় নগরীতে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেছে আওয়ামী লীগ।
বিক্ষোভ মিছিলের আগে সমাবেশে চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেছেন, কোনও বিদেশি প্রভুর প্রেসক্রিপশনে নয়, ক্ষমতায় কে আসবে বা কে যাবে; তা এদেশের জনগণ তাদের ভোটাধিকারের মাধ্যমে নির্ধারণ করে দেবে। ক্ষমতাধর বিদেশি রাষ্ট্রগুলোর মনে রাখা উচিৎ বাংলাদেশ একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম রাষ্ট্র। দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে কোনও বিদেশি শক্তির নাক গলানোর সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘ক্ষমতাধর একটি দেশ বাংলাদেশের উন্নয়ন ও অগ্রগতি দেখে হতবাক। এটা তাদের সহ্য হচ্ছে না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার ক্ষমতায় থাকুক ওই দেশটি চায় না। ক্ষমতা দেশটির চরিত্র ও ভূমিকা কারও অজানা নয়। ১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধের বিজয়ের দ্বারপ্রান্তে ওই দেশটি পাকিস্তানের পক্ষে বঙ্গপোসাগরে সপ্তম নৌবহর পাঠিয়েছিল। বৈশ্বিক প্রতিবাদ ও নিন্দার মুখে ওই সপ্তম নৌবহরকে ফিরে যেতে বাধ্য করা হয়েছিল। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে ও পাকিস্তানের পক্ষে ভেটো দিয়েছিল।
মুক্তিযুদ্ধ ও বাংলাদেশের পক্ষে তৎকালীন সোভিয়েত ইউনিয়ন পাল্টা ভেটো প্রদান করায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থ হাসিল হয়নি এবং তারা পরাজিত হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এছাড়াও পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে এরা স্বাধীন বাংলাদেশের বঙ্গবন্ধু সরকারের বিরুদ্ধে পরাজিত পাকিস্তানের সঙ্গে ষড়যন্ত্র করে। ১৯৭৩ সালে নগদ মূল্যে আমেরিকা থেকে বাংলাদেশ খাদ্য সামগ্রী কিনেছিল। বাংলাদেশে একটি কৃত্রিম দুর্ভিক্ষ সৃষ্টি কুমতলবে আমেরিকা খাদ্যবাহী জাহাজটিকে ফিরিয়ে নেয় এবং প্রচার করে যে বাংলাদেশে দুর্ভিক্ষে লাখ লাখ লোক মারা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই সাময়িক দুর্ভিক্ষ বঙ্গবন্ধু মোকাবিলা করে সফলতার সঙ্গে বাংলাদেশকে উন্নয়নের পথে নিয়ে যাচ্ছিল। সৌভাগ্যবশত সে বছর বাম্পার ফসল উৎপাদিত হয়। এটাও তাদের সহ্য হয়নি। তাই ১৯৭৫ সালে মার্কিনি গোয়েন্দা সংস্থা সিআই ও পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার পরিকল্পনায় ১৫ আগস্ট বঙ্গবন্ধুকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়।’
এসময় আরও বক্তব্য দেন, চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক চৌধুরী হাসান মাহমুদ হাসনী, বন ও পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক মসিউর রহমান চৌধুরী, উপ-দফতর সম্পাদক কাউন্সিলর জহর লাল হাজারী, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগ নেতা হেলাল আকবর চৌধুরী বাবর, ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের মিথুন বড়ুয়া, ওয়ার্ড কাউন্সিলর শৈবাল দাশ সুমন, আব্দুস সালাম মাসুম, নুর মোস্তফা টিনু, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি দেবাশীষ নাথ দেবু, সাখাওয়াত হোসেন সাকু ও আব্দুল্লাহ আল মামুন প্রমুখ।









