বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘শেখ হাসিনা আমেরিকা থেকে উইড়া আসছে খালি হাতে। তারা আবারও আগের রাতে ভোট করার পাঁয়তারা করেছে। তারা (আমেরিকা) কি সাড়া দিছে? দেয়নি। আজ সব গণতান্ত্রিক শক্তি একজোট হয়েছে। কথা পরিষ্কার, নির্বাচন হবে নির্দলীয় নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে। আজকে তারা ভয় দেখায়। ভয়ে কোনও কাজ হবে না।’
বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) এক দফা দাবিতে কুমিল্লা-চট্টগ্রাম রোডমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজকে ডিমের ডজন ১৫০টাকা, বাচ্চাদের খাওয়াতে পারি না। আজকে লুটপাটের সরকার আমাদের বুকের ওপর বসে আছে। আজ খালেদা জিয়াকে বিদেশে চিকিৎসার জন্য যেতে দিচ্ছে না। তারা জানে খালেদা জিয়া সুস্থ হয়ে ফিরলেই তারা শেষ। বাংলাদেশের গণতন্ত্র থাকবে কী থাকবে না এবার নির্ধারণ হবে। তারা নাকি উন্নয়ন করছে। তারা আজ রূপপুরে ইউরেনিয়াম নিয়ে আসছে। ইউরেনিয়ামের কারণে মাইলের পর মাইল ধ্বংস হয়ে যাবে। কোনও নিরাপত্তা বিধান না করে আজ দুর্নীতির করার জন্যই এমন প্রকল্প নিয়ে আসছে সরকার।’
তিনি বলেন, ‘তারা আমাদের কথা বলতে দেয় না, কথা বললেই মামলা। তারা আন্দোলনে ২২ জনকে গুলি করে মেরেছে, ৭০০ মানুষকে গুম করেছে, সহস্র মানুষকে হত্যা করেছে। আমাদের দাবি একটাই, আমরা ভোট দিতে চাই। শেখ হাসিনার অপর নাম কী? ভোট চোর। এই রোড মার্চের মাধ্যমে সরকারকে জানিয়ে দিচ্ছি, আপনি পদত্যাগ করতে হবে। নাহলে জনগণ জানে আপনাদের কীভাবে ক্ষমতা থেকে সরাতে হবে।’
নেতাকর্মীদের উদ্দেশ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘লাফিয়ে লাফিয়ে স্লোগান দিলে হবে না, রাজপথ দখলে রাখতে হবে। বন্ধুরা, বাবারা, ছোট ছোট ভাইয়েরা আমাদের জেগে উঠতে হবে। রাজপথ দখল করে সরকার হটাতে হবে।’
কুমিল্লা শেষে রোডমার্চটি যাবে চৌদ্দগ্রাম। ক্রমান্বয়ে তা ফেনী মীরসরাই হয়ে চট্টগ্রাম গিয়ে শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। সমাবেশে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, কেন্দ্রীয় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (কুমিল্লা বিভাগ) মোস্তাক মিয়া, কেন্দ্রীয় বিএনপির প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, বিএনপির কর্মসংস্থান বিষয়ক সম্পাদক জাকারিয়া তাহের সুমন, বিএনপির শিল্প বিষয়ক সম্পাদক আবুল কালাম। সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন কুমিল্লা জেলা বিএনপির আহ্বায়ক ও কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রান ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক হাজী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন।









