কক্সবাজার-১ আসনের সংসদ সদস্য জাফর আলমের ভাতিজা ও ভাগিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগের দুই নেতার ওপর হামলা ও মাথায় পিস্তল ঠেকিয়ে হত্যার হুমকির অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (৮ নভেম্বর) কক্সবাজার প্রেসক্লাবের সম্মেলন কক্ষে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন জেলার মাতামুহুরী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মহসিন বাবুল।
হামলার শিকার দুই নেতা হলেন- মাতামুহুরী থানা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাহারবিল ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহসিন বাবুল (৬০) ও সাংগঠনিক সম্পাদক ইকবাল দরবেশী (৪০)।
মহসিন বাবুলের অভিযোগ, মঙ্গলবার চকরিয়া আদালতের আইনজীবীর চেম্বারে দিনদুপুরে সন্ত্রাসীদের হামলায় এ দুই আওয়ামী লীগ নেতা হামলার শিকার হন। হামলার ঘটনায় শাস্তি চেয়ে কক্সবাজার জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ সিআইপি সাংবাদিক সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন।
এ দুই নেতাকে এমপি জাফরের ভাতিজা জিয়াবুল ও ভাগিনা মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে হামলা করে সন্ত্রাসীরা। এ সময় স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে তারা পালিয়ে যায়। পরে আহতদের উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন- চকরিয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন চৌধুরী, সাবেক সহ-সভাপতি সরওয়ার আলম, পৌর আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক প্রফেসর এ কে এম গিয়াস উদ্দিন, সাবেক সহ-সভাপতি মোসলেম উদ্দিন মানিক, সাবেক কক্সবাজার পৌরসভার চেয়ারম্যান নুরুল আবছার, আওয়ামী লীগ নেতা শফিউল আলম বাহার, আলমগীর হোসেন ও ফয়জুল কবির।
সংবাদ সম্মেলন পাঠ করেন হামলার শিকার মহসিন বাবুল। এ সময় ইকবাল দরবেশী উপস্থিত ছিলেন।
সংবাদ সম্মেলনে মহসিন বাবুল বলেন, মঙ্গলবার দুপুর দেড়টার ইকবাল দরবেশীকে নিয়ে কিছু পুরোনো মামলার বিষয়ে অ্যাডভোকেট শহীদুল্লাহ চৌধুরীর চেম্বারে অবস্থান করি। শহীদুল্লাহ চৌধুরী আদালতে থাকায় তার জন্য অপেক্ষা করি চেম্বারে। ওই সময় স্থানীয় এমপি জাফর আলমের ভাতিজা জিয়াবুল হক, ভাগিনা মিজানুর রহমান ও স্থানীয় যুবলীগ কর্মী শওকত ওসমানের নেতৃত্বে ৪-৫ জন অস্ত্রধারী অতর্কিতভাবে আইনজীবীর চেম্বারে প্রবেশ করে। অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে গালিগালাজ করতে থাকে সন্ত্রাসীরা। তাদের হুমকি-ধমকিতে অসহায় হয়ে পড়ি। এ সময় জিয়াবুল, মিজান ও শওকত সম্প্রতি জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সালাহউদ্দিন আহমেদ সিআইপির নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন সভা সমাবেশে কেন যাচ্ছি তা জানতে চান। এসময় তারা অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করতে থাকে। একপর্যায়ে অস্ত্র উঁচিয়ে মারধর করে।
মহসিন বাবুল আরও বলেন, তারা প্রথমে ইকবাল দরবেশীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে। হামলায় আহত হয়ে ইকবাল মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। ইকবালকে উদ্ধারে এগিয়ে এলে এমপি জাফরের ভাগিনা মিজান আমাকে সিলভার কালারের একটি পিস্তল দিয়ে গুলি করার হুমকি দেয়। একপর্যায়ে মিজান আমাকে মারধর ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করে। শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। সন্ত্রাসীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে মুহূর্তের মধ্যে সটকে পড়ে। পরে আমাদেরকে উদ্ধার করে চকরিয়া সরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। ইকবালের বাম চোখে মারাত্মকভাবে আঘাত করা হয়।
সালাহউদ্দিন আহমেদ সিআইপি বলেন, আমি এ আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে তিনবার নির্বাচন করেছি। প্রতিবার ভোটই বেড়েছে। এখন মানুষ এমপি জাফর ও তার লোকজনের অত্যাচারে অসহায় হয়ে পড়েছে। চিংড়ির ঘেরে চাঁদাবাজি, দখল-বেদখলে মানুষ অতিষ্ঠ। সবখানে ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে। এখন আওয়ামী লীগের নেতাদের ওপর হামলা ও মারধর করছে। আমরা বিষয়টি দলের হাইকমান্ডে জানিয়েছি। দলের নেতা মহসিন বাবুল প্রধানমন্ত্রীর জনসভা সফল করতে মাঠে ময়দানে কাজ করেছেন। এ সময়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। আইনের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে। আগামী নির্বাচনে বর্তমান এমপি জাফরকে মনোনয়ন না দেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছেন বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা।
এ বিষয়ে এমপি জাফর আলমের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।









