আ.লীগের মনোনয়ন

কপাল পুড়তে পারে চট্টগ্রামের ৭ এমপির

নাসির উদ্দিন রকি, চট্টগ্রাম
২৩ নভেম্বর ২০২৩, ১৩:২৭আপডেট : ২৩ নভেম্বর ২০২৩, ১৩:২৭

তফসিল ঘোষণার পর প্রার্থী হতে তৎপরতা শুরু করেছেন চট্টগ্রামে আওয়ামী লীগ ও সমমনা দলের বর্তমানের ১৬টি সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্যরা। তারা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আবারও দলীয় প্রতীকে মনোনয়ন চাচ্ছেন। ইতোমধ্যে যে যার মতো শুরু করেছেন তদবির-লবিং। পুরাতনদের সঙ্গে টেক্কা দিয়ে আওয়ামী লীগের টিকিট পেতে চান প্রতিটি আসনে একাধিক নতুন মুখ। যার মধ্যে অনেকেই চট্টগ্রাম আওয়ামী লীগে ত্যাগী নেতা হিসেবে পরিচিত।

এবার চট্টগ্রামে ১৪ জন আওয়ামী লীগ দলীয় সংসদ সদস্যের মধ্যে অন্তত সাতটি আসনে নতুন মুখ আসতে পারে এমন গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে দলীয় নেতাকর্মীদের মুখে। ওই সাত এমপির বিরুদ্ধে কেন্দ্রে জমেছে অভিযোগের স্তূপ।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, চট্টগ্রামের প্রতিটি আসনে বর্তমান সংসদ সদস্যদের পাশাপাশি আওয়ামী লীগের একাধিক নতুন মুখ সংসদ নির্বাচনে প্রার্থী হতে আগ্রহী। জেলার ১৬টি সংসদীয় আসনে বিতর্কিত ও সমালোচিত সংসদ সদস্যদের বাদ দিয়ে দলের ত্যাগীদের প্রার্থী করার দাবি তুলেছেন আওয়ামী লীগের তৃণমূলের নেতাকর্মীরা।

এদিকে, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক চট্টগ্রাম মহানগর আওয়ামী লীগের এক নেতা বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘১৬টি সংসদীয় আসনের মধ্যে জাতীয় পার্টির সঙ্গে জোট হলে চট্টগ্রাম-৫ হাটহাজারী আসন জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে। চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি আসনটি এবার কাকে দেওয়া হচ্ছে সেটা এখনও অনিশ্চিত। কেননা সেখানে আগে তরিকত ফেডারেশনের প্রার্থী সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারীকে ছেড়ে দেওয়া হয়। এবার আসনটি চাইবে বাংলাদেশ সুপ্রিম পার্টির প্রতিষ্ঠাতা সৈয়দ সাইফুদ্দীন আহমদ আল হাসানী। ফলে আওয়ামী লীগ থেকে পাচ্ছে নাকি শরিকদের দেওয়া হচ্ছে তা নির্ভর করছে দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সিদ্ধান্তের ওপর।’

এই নেতা বলেন, ‘অপর যে ১৪ জন আওয়ামী লীগের দলীয় সংসদ সদস্য রয়েছে তাদের মধ্যে অনেকেই গত পাঁচ বছরে বিতর্কিত নানা কর্মকাণ্ডের কারণে তারা এলাকায় সমালোচিত। অনেক সংসদ সদস্য জনগণ তথা দলীয় নেতাকর্মীদের সুখ-দুঃখে ছিলেন না। তারা এবার মনোনয়ন পাচ্ছে না বলে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন বঞ্চিত হতে পারে চট্টগ্রামে এমন সংসদ সদস্যের সংখ্যা অন্তত সাত জন।’

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুফিজুর রহমান বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘দলীয় মনোনয়নপত্র বিতরণ ও জমা শেষ হয়েছে। দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী নিজেই প্রার্থীদের সাক্ষাৎ নেবেন। আমার চাওয়া থাকবে- জনগণ তথা দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে যাদের সম্পর্ক আছে এবং নির্বাচনে জেতার সক্ষমতা আছে এমন ব্যক্তিকে মনোনয়ন দেওয়া হোক। পাশাপাশি বিগত সময়ে যারা দলীয় এমপি হয়ে নানা কর্মকাণ্ডের কারণে বিতর্কিত ও সমালোচিত হয়েছেন তাদের যেন বাদ দেওয়া হয়। কেননা তাদের জন্য দলের সুনাম ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি এম এ সালাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘সাতটি সংসদীয় আসন আছে চট্টগ্রাম উত্তর জেলায়। এর মধ্যে দুটি আসন হাটহাজারী ও ফটিকছড়ি শরিক দলকে ছেড়ে দেওয়া হয়। একটিতে জাতীয় পার্টি আরেকটিতে মাইজভান্ডারী আছেন।’

তিনি বলেন, ‘এবার এ দুটি আসনে আমরা দলীয় প্রার্থী চাই। দলীয় প্রার্থী না থাকায় এ দুই উপজেলায় আওয়ামী লীগের সংগঠন মজবুত করা যাচ্ছে না। দলীয় প্রার্থী থাকলে নেতাকর্মীরা অনেক বেশি উৎসাহিত হয়। দলীয় প্রার্থীর পাশাপাশি উত্তর জেলার সাত আসনে বিতর্কিত সংসদ সদস্যদের যাতে বাদ দেওয়া হয়। বিতর্কিত ও সমালোচিত সংসদ সদস্যদের স্থলে যাতে দলের ত্যাগীদের মনোনয়ন দেওয়া হয়।’

চট্টগ্রাম মহানগর যুবলীগের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও বর্তমান আওয়ামী লীগ নেতা ফরিদ মাহমুদ বলেন, ‘আমি চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর,ডবলমুরিং) আসনে দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশী। গত কয়েকবার আমি এ আসনে মনোনয়ন চেয়ে আসছি। আশা করছি আমার অতীত সব রেকর্ড পর্যালোচনা করে আমাকেই প্রার্থিতা দেওয়া হবে। সর্বশেষ নেত্রী যে সিদ্ধান্ত দেবেন আমরা সেভাবে কাজ করবো।’

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ পালিত বলেন, ‘আমিও এবার চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসন থেকে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করেছি। নেত্রী আমাকে যোগ্য মনে করলে নির্বাচন করবো। আমার সঙ্গে রাউজানের জনগণ তথা দলের নেতাকর্মীদের যোগাযোগও নিবিড়। আশা করছি আমাকে মনোনয়ন দিলে আমি জয়ী হয়ে আসতে পারবো।’

তিনি বলেন, ‘দলের নেতাকর্মীদের যারা খোঁজ-খবর রাখে জনগণের সঙ্গে যাদের সম্পৃক্ততা আছে তাদেরকেই দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হোক। পাশাপাশি অসামাজিক কর্মকাণ্ডে জড়িত এমন ব্যক্তিকে যাতে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া না হয়। সংসদ সদস্য হওয়ার পর যারা দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পর্ক রাখেনি, নির্যাতন-নিপীড়ন করেছে এ ধরনের বিতর্কিত-সমালোচিত ব্যক্তিদেরকেও যাতে দলীয় মনোনয়ন দেওয়া না হয়।’

সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা ফরহাদুল ইসলাম রিন্টু বলেন, ‘সংসদ সদস্য প্রার্থীকে অবশ্যই গ্রহণযোগ্য, জনগণ ও কর্মীবান্ধব হতে হবে। এলাকার উন্নয়নে যাদের চিন্তা-চেতনা আছে তাদেরকেই যেন প্রার্থী করা হোক।’

সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা এবং বর্তমান উত্তর জেলা যুবলীগের পরিবেশ বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার মোহাম্মদ হাসান মুরাদ বলেন, ‘আমাদের দলের সভানেত্রী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ওপর আস্থা আছে। তিনি যাকে প্রার্থী দেবেন আমরা তার হয়ে কাজ করবো। অবশ্যই এমন কাউকে যাতে প্রার্থী না করা হয়, যাদের এলাকায় গ্রহণযোগ্যতা ও দলের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সম্পৃক্ততা নেই। পাশাপাশি যেসব সংসদ সদস্য গত পাঁচ বছর দলীয় কর্মকাণ্ডে তথা জনগণকে সময় দেননি তাদের যাতে এবার প্রার্থী করা না হয়।’

এই জেলায় বর্তমানে সংসদ সদস্য হিসেবে আছেন- চট্টগ্রাম-১ (মীরসরাই) আসনে ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন, চট্টগ্রাম-২ (ফটিকছড়ি) আসনে সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী, চট্টগ্রাম-৩ (সন্দ্বীপ) আসনে মাহফুজুর রহমান, চট্টগ্রাম-৪ (সীতাকুণ্ড) আসনে দিদারুল আলম, চট্টগ্রাম-৫ (হাটহাজারী) আসনে আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৬ (রাউজান) আসনে এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-৭ (রাঙ্গুনিয়া) আসনে ড. হাছান মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৮ (বোয়ালখালী-চান্দগাঁও) আসনে নোমান আল মাহমুদ, চট্টগ্রাম-৯ (কোতোয়ালি) আসনে মহিবুল হাসান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১০ (হালিশহর,ডবলমুরিং) আসনে মহিউদ্দিন বাচ্চু, চট্টগ্রাম-১১ (বন্দর-পতেঙ্গা) আসনে এম আবদুল লতিফ, চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনে সামছুল হক চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৩ (আনোয়ারা) আসনে সাইফুজ্জামান চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৪ (চন্দনাইশ) আসনে মো. নজরুল ইসলাম চৌধুরী, চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া,লোহাগাড়া) আসনে আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামউদ্দিন নদভী ও চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী) আসনে মোস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী।

/এফআর/
সম্পর্কিত
বাসায় ফিরে বিএনপি সরকারকে ধন্যবাদ জানালেন আ.লীগের আইভী
মুক্তি পেলেন সাবেক মেয়র আইভী
রাজধানীতে আওয়ামী মৎস্যজীবী লীগ নেতা গ্রেফতার
সর্বশেষ খবর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
বিএনপির কর্মী খুন, জামায়াত নেতাসহ ১২ জনের বাড়িতে হামলা-ভাঙচুর
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
মন্ত্রিত্ব ছাড়া দীপেন দেওয়ান লিখলেন ‘বিএনপি আমার শেষ ঠিকানা’
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
গৃহবধূকে ধর্ষণ, ছাত্রদল নেতা গ্রেফতার
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
রাতে মেট্রোরেল চলাচলের সময় বাড়ছে
সর্বাধিক পঠিত
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
ইউএনজিএ’র সভাপতি হিসেবে কী সুবিধা পাবেন খলিলুর রহমান, দায়িত্ব কী  
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
করদাতাদের জন্য ‘মাস্টারপ্ল্যান’, ২০৩১ পর্যন্ত করমুক্ত আয়ের সীমা কত হচ্ছে জানুন
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
খাবার মুখে দেওয়ার সময় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর চামচে ফুঁ দেওয়া লোকটি কে
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
ইউনিটপ্রতি কত বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম
বাড়লো বিদ্যুতের দাম