চুক্তির ২৬ বছরেও পাহাড়ে সংঘাত থামেনি, ফেরেনি শান্তি

নজরুল ইসলাম (টিটু), বান্দরবান
০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১১আপডেট : ০২ ডিসেম্বর ২০২৩, ১০:১১

আজ ২ ডিসেম্বর, পার্বত্য শান্তি চুক্তির ২৬ বছর পূর্তি। এই চুক্তির পর পাহাড়ে উন্নয়নের ধারা বয়ে গেলেও এখনও কাঙ্ক্ষিত শান্তি ফেরেনি। হানাহানি আর রক্তক্ষয়ী সংঘাতে এখনও অশান্ত পার্বত্য চট্টগ্রাম। চুক্তি বাস্তবায়ন নিয়ে একে অপরের প্রতি অভিযোগ ও পাল্টা অভিযো‌গে ব্যস্ত চুক্তি সম্পাদনকারী দুই পক্ষই। আর সংবিধানের সঙ্গে সাংঘর্ষিক কতিপয় ধারা সংশোধন করে পার্বত্য চুক্তি পুনঃমূল্যায়নের দাবি তুলছেন স্থানীয়রা।

জানা গেছে, এক দশমাংশ পার্বত্য চট্টগ্রামে দুই দশকের বেশি সময় ধ‌রে চলে রক্তক্ষয়ী সংঘাত। ১৯৯৭ সালের ২ ডিসেম্বর আওয়ামী লীগ সরকার আর পার্বত্য চট্টগ্রামের জনসংহতি সমিতির (জেএসএস) মধ্যে সম্পাদিত হয় পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি। এটি শান্তি চুক্তি নামেই বেশি পরিচিত। তৎকালীন সরকারের পক্ষে সংসদের চিফ হুইপ আবুল হাসনাত আব্দুল্লাহ ও পাহাড়িদের পক্ষে পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির চেয়ারম্যান জ্যোতিরিন্দ্র বোধিপ্রিয় ওরফে সন্তু লারমা চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

এই চুক্তির লক্ষ্য ছিল পাহাড়ে স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা করা। চুক্তির পর কেটে যায় ২৬ বছর। পাহাড়ে উন্নয়ন ত্বরান্বিত হলেও কাঙ্ক্ষিত শান্তির দেখা পাননি পার্বত্যবাসী। অস্ত্র সমর্পণ করে চুক্তি সম্পাদন করা হলেও পাহাড়ে এখনও অবৈধ অস্ত্র নিয়ে বিচরণ করছে পাহাড়িদের অন্তত ছয়টি গ্রুপ। অবৈধ অস্ত্রের ব্যবহার, অপহরণ, খুন ও চাঁদাবাজির কারণে অস্থির পার্বত্য চট্টগ্রাম। ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত সাত সেনা সদস্যসহ শুধুমাত্র বান্দরবা‌নেই খুন হয়েছে ৪১ জন।

চুক্তির ৭২টি ধারার মধ্য অধিকাংশ বাস্তবায়ন হয়েছে দাবি করে পার্বত্য জলা পরিষদ সদস্য ও জেলা আওয়ামী লী‌গের সাধারণ সম্পাদক লক্ষ্মীপদ দাশ বলেন, পাহাড়ের মানুষ চুক্তির সুফল পে‌তে শুরু করেছে। চুক্তির পর উন্নয়নে পাল্টে গেছে পার্বত্য এলাকার দৃশ্যপট।

পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর নেতা (জেএসএস সমর্থিত) লেলুং খুমী বলেন, সরকারের আন্তরিকতার অভাবে ২৬ বছরেও পার্বত্য চুক্তি পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন হচ্ছে না। চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন না হওয়ায় এখনও পাহাড়ে প্রকৃত শান্তি ফি‌রে আসেনি।

বান্দরবান সদর উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি এ কে এম জাহাঙ্গীর মনে করেন, চুক্তি‌তে সুফল যেমন রয়ে‌ছে এবং তেমনি জটিলতাও রয়েছে। চুক্তির পরও পাহাড়ে অস্ত্রের ঝনঝনানি থা‌মে‌নি। ফলে উন্নয়ন কাজে পাহাড়ের প্রতি‌টি স্তরে চাঁদা দি‌তে হচ্ছে। এদিকে চুক্তির পর পাহাড়ে উন্নয়নের ধারা অব্যাহত আছে।

পার্বত্য চুক্তিতে সাংবিধানিক অধিকার খর্ব করা হয়েছে বলে অভিযোগ পার্বত্য চট্টগ্রাম নাগরিক পরিষদের কেন্দ্রীয় কমিটির চেয়ারম‌্যান কাজী মো. মজিবুর রহমানের। তি‌নি বলেন, শান্তি চুক্তি হচ্ছে পার্বত্য এলাকার জন্য এক‌টি কা‌লো চুক্তি। এ চুক্তির ফলে এক পক্ষ লাভবান ও অন্যপক্ষ ক্ষতিগ্রস্ত হ‌য়ে‌ছে। কিছু ধারা পাহাড়ি-বাঙালি‌দের মধ্যে সাংঘ‌র্ষিক বলেও তি‌নি দাবি করেন।

স্থানীয়দের ধারণা, পাহাড়ে প্রকৃত শান্তি ফিরিয়ে আনতে হলে অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করে সন্ত্রাসী‌দের আইনের আওতায় আনতে হবে এবং চাঁদাবাজি বন্ধ করতে হবে।

/এফআর/
সম্পর্কিত
খাগড়াছড়িতে ব্যাপক পর্যটক সমাগম, খুশি ব্যবসায়ীরা
দীপেন দেওয়ানের পদত্যাগপত্র প্রত্যাহারের দাবিতে রাঙামাটিতে বিক্ষোভ
পার্বত্য চট্টগ্রামের উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার নির্দেশ
সর্বশেষ খবর
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
বিশ্বের সেরা ১০০ উপন্যাস : বাছাই ও বির্তক
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
ঢাকায় পৌঁছেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান 
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পুলিশের নজরবন্দি আইভী
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
পদোন্নতি না পাওয়ায় পদত্যাগ করলেন সিআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান 
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
আপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি
সংবাদ সম্মেলনে ইউএনও মুনমুন নাহার আশাআপা ডাকায় নয়, বাসি মিষ্টি পাওয়ায় জরিমানা করেছি