X
শনিবার, ২০ এপ্রিল ২০২৪
৬ বৈশাখ ১৪৩১

‘এমপি হলে বরাদ্দের ২৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করবো’

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি
৩০ ডিসেম্বর ২০২৩, ১৯:১২আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ১৮:১২

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-১ (নাসিরনগর) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে কলার ছড়ি প্রতীকে নির্বাচন করছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের সাবেক উপদেষ্টা সৈয়দ এ কে একরামুজ্জামান। ভোটকে সামনে রেখে গণসংযোগ ও প্রচারণায় ব্যস্ত সময় পার করছেন তিনি। ভোটার মাঠের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে বাংলা ট্রিবিউনকে নিজের মতামত জানিয়েছেন এই প্রার্থী।

একরামুজ্জামান বিএনপির চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ছিলেন। তিনি নাসিরনগর উপজেলার চাপরতলা গ্রামের বাসিন্দা এবং আরএকে সিরামিকসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক। এবারের নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় তাকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। এর আগে ২০০১ সালের নির্বাচনে এই আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে অংশ নিয়ে পরাজিত হন একরামুজ্জামান। একই আসনে ২০০৮ ও ২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচন করে পরাজিত হন। ১৯৯৬ সাল থেকে প্রতিটি সংসদ নির্বাচনে এখানে আওয়ামী লীগের প্রার্থী জয়ী হন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন বর্তমান সংসদ সদস্য বি এম ফরহাদ হোসেন। এবার তার সঙ্গে একরামুজ্জামানের লড়াইয়ের কথা বলছেন ভোটাররা।

বাংলা ট্রিবিউন: ভোটের মাঠ কেমন দেখছেন?

এ কে একরামুজ্জামান: নাসিরনগরের ১৩টি ইউনিয়ন নিয়ে এই আসন গঠিত। ভোটের মাঠে শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় আছে। নির্বাচনি পরিবেশও ভালো। এখানে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ভোট হবে বলে আশা করছি।

বাংলা ট্রিবিউন: আগে দলীয় প্রতীকে নির্বাচন করেছেন, এখন স্বতন্ত্র; কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

এ কে একরামুজ্জামান: একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীকে নির্বাচন করেছিলাম। তখন দলের লোকজন সঙ্গে ছিলেন। এখন যে নেই, তা নয়। এবার আমার সঙ্গে আওয়ামী লীগ, বিএনপি, জাতীয় পার্টির নেতাকর্মী রয়েছেন। বিশেষ করে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী আমাকে সমর্থন দিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। প্রার্থীদের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের কাছ থেকে ভালো সাড়া পাচ্ছি।

বাংলা ট্রিবিউন: কোনও ধরনের হুমকি-ধমকি পাচ্ছেন কিনা?

এ কে একরামুজ্জামান: শুরু থেকেই হুমকি-ধমকি পাচ্ছি। এর মধ্যে যেগুলো জরুরি মনে করছি, সেগুলোর বিষয়ে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করছি। কিছু কিছু আমলে নিচ্ছি না। কারণ অনেক বিষয় আমলে নেওয়া যায় না। সবচেয়ে বড় বিষয় হলো ভোটারদের ভয় দেখানো হচ্ছে। কেউ কেউ ভোটারদের বলে বেড়ান, যেখানেই ভোট দেবে, ফল তার পক্ষে যাবে। এটা ভোটারদের জন্য বড় হুমকি। তখন আমি ভোটারদের বলি, আপনারা এগুলোতে কান দেবেন না। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা নিশ্চয়তা দিয়েছেন, ভোট সুষ্ঠু হবে।

বাংলা ট্রিবিউন: আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কেমন?

এ কে একরামুজ্জামান: পুলিশ, নির্বাচন কমিশন ও বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা অত্যন্ত ভালো। এজন্য ভোটের মাঠের পরিস্থিতি স্বাভাবিক। তবে শেষ পর্যন্ত কী হয়, তা এখন বলতে পারছি না।

বাংলা ট্রিবিউন: অন্যান্য রাজনৈতিক দলের কেমন সাড়া পাচ্ছেন?

এ কে একরামুজ্জামান: দলগতভাবে বিএনপির নেতাকর্মীরা বিমুখ আছেন। তবে ৮০ শতাংশ বিএনপির নেতাকর্মী আমার সঙ্গে আছেন। আওয়ামী লীগের ৭০ শতাংশ লোক আমার পাশে আছেন। জাতীয় পার্টির সবাই আমার ভোট করছেন। আমি এখন আর একা নই। আমি জনতার প্রার্থী; স্বতন্ত্র নই। সুষ্ঠু ভোট হলে জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী।

সৈয়দ একরামুজ্জামানের ১০টি প্রতিশ্রুতি

বাংলা ট্রিবিউন: ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে কোনও দাবি-দাওয়া কিংবা অভিযোগ পেয়েছেন কিনা?

এ কে একরামুজ্জামান: ভোটারদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে মনে হয়েছে, নাসিরনগরের মানুষজন জেলখানায় বন্দি রয়েছেন—এমন একটা পরিবেশ তৈরি হয়েছে। এখন মানুষ এই জেলখানা থেকে বের হতে চায়। তারা নিরাপদ নাসিরনগর তৈরি করার জন্য আমাকে সহযোগিতা করবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন।

বাংলা ট্রিবিউন: এলাকার উন্নয়নে যেসব ভূমিকা রাখতে চান?

এ কে একরামুজ্জামান: আমার নির্বাচনি এলাকার মানুষের বড় একটা অংশ প্রান্তিক পর্যায়ের। জেলে পরিবারের সংখ্যা বেশি। হাওরের বড় একটা অংশ জেলে পরিবার। তাদের জন্য জলমহাল ইজারামুক্ত রাখবো। জেলেদের যেসব দাবি-দাওয়া ও অধিকার আছে, সেগুলো পূরণ করবো। এখানে জেলেদের ওপর ছড়ি ঘুরিয়ে একশ্রেণির লোক ফায়দা লুটছে। “জাল যার, জলা তার” এবার এমপি হলে এটি নিশ্চিত করবো।

বাংলা ট্রিবিউন: আপনি শিল্প উদ্যোক্তা, এলাকার উন্নয়নে বড় কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা?

এ কে একরামুজ্জামান: সব জায়গায় শিল্পাঞ্চল তৈরির একটা উপযোগিতা থাকা লাগে। এজন্য চাইলেও সব জায়গায় শিল্পকারখানা গড়ে তোলা যায় না। তবে যে ধরনের শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ার জন্য আমার এলাকা উপযোগী—যেমন ক্ষুদ্র ও কুটির শিল্প খাতে বিনিয়োগের চিন্তাভাবনা আছে। নাসিরনগর উপজেলায় দুই হাজারের বেশি ক্ষুদ্র শিল্প উদ্যোক্তা রয়েছেন, তারা ঢাকায় ব্যবসা করেন। তাদের নিয়ে নিজ এলাকায় শিল্প খাতকে বিকশিত করতে চাই।

বাংলা ট্রিবিউন: শিক্ষার দিক দিয়ে নাসিরনগর অন্য উপজেলার চেয়ে তুলনামূলকভাবে পিছিয়ে, এ ব্যাপারে কোনও পরিকল্পনা আছে কিনা?

এ কে একরামুজ্জামান: শিক্ষা প্রসারের চেয়ে শিক্ষার মানোন্নয়ন জরুরি। এজন্য এখানের স্কুলগুলোর শিক্ষা কার্যক্রমের মানোন্নয়নের চেষ্টা করবো। এমপি হলে বাজেটের ২৫ শতাংশ শিক্ষা খাতে ব্যয় করবো। কারণ পিছিয়ে পড়া নাসিরনগর থেকে যারা পাস করে জাতীয় পর্যায়ে যাচ্ছেন, বিভিন্ন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন। কিন্তু ভালো কিছু করতে পারছেন না; আমি তাদের পাশে দাঁড়াবো। নাসিরনগর সরকারি কলেজটিতে স্নাতক এবং স্নাতকোত্তর পর্যায়ে কয়েকটি প্রোগ্রাম চালুর উদ্যোগ নেবো। তাহলে আমাদের ছেলেমেয়েরা এখানে সব বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করতে পারবে। এছাড়া নাসিরনগরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন আছে আমার।

 

/এএম/
সম্পর্কিত
সার্বিক অগ্রগতির পথে প্রধান বাধা বিএনপি: ওবায়দুল কাদের
জনগণের সেবা করলে ভোটের চিন্তা থাকবে না: প্রধানমন্ত্রী
‘নির্বাচনে কে কত প্রভাবশালী, তা আমরা দেখবো না’
সর্বশেষ খবর
দাবদাহে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের তরল খাদ্য দিচ্ছে ডিএমপি
দাবদাহে ট্রাফিক পুলিশ সদস্যদের তরল খাদ্য দিচ্ছে ডিএমপি
জাপানি ছবির দৃশ্য নিয়ে কানের অফিসিয়াল পোস্টার
কান উৎসব ২০২৪জাপানি ছবির দৃশ্য নিয়ে কানের অফিসিয়াল পোস্টার
ড্যান্ডি সেবন থেকে পথশিশুদের বাঁচাবে কারা?
ড্যান্ডি সেবন থেকে পথশিশুদের বাঁচাবে কারা?
লখনউর কাছে হারলো চেন্নাই
লখনউর কাছে হারলো চেন্নাই
সর্বাধিক পঠিত
বাড়ছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি, নতুন যোগ হচ্ছে স্বাধীনতা দিবসের ভাতা
বাড়ছে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সম্মানি, নতুন যোগ হচ্ছে স্বাধীনতা দিবসের ভাতা
ইরান ও ইসরায়েলের বক্তব্য অযৌক্তিক: এরদোয়ান
ইস্পাহানে হামলাইরান ও ইসরায়েলের বক্তব্য অযৌক্তিক: এরদোয়ান
উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অপহরণের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী
উপজেলা চেয়ারম্যান প্রার্থীকে অপহরণের ঘটনায় ক্ষমা চাইলেন প্রতিমন্ত্রী
ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল!
ইরানে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল!
সংঘাত বাড়াতে চায় না ইরান, ইসরায়েলকে জানিয়েছে রাশিয়া
সংঘাত বাড়াতে চায় না ইরান, ইসরায়েলকে জানিয়েছে রাশিয়া