চাঁদপুরের কচুয়া থানার এসআই মামুনুর রশিদকে পিটিয়ে হত্যা ও ফরিদগঞ্জে বিক্ষুব্ধরা থানায় হামলার চেষ্টাকালে পুলিশের গুলিতে শাহাদাত (২০) নামে এক ছাত্রনেতা নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া চাঁদপুর জেলার বেশিরভাগ থানায় হামলা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। সোমবার (৫ আগস্ট) বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এসব ঘটনা ঘটে।
পুলিশ সূত্র জানায়, কচুয়া থানার এসআই মামুনুর রশিদ উল্লাসের সময় বের হলে তাকে কচুয়া বঙ্গবন্ধু ডিগ্রি কলেজের সামনে পিটিয়ে হত্যা করে বিক্ষুব্ধ জনতা। পরে তার লাশ উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়।
এই বিষয়ে বক্তব্যের জন্য কচুয়া থানার ওসি মিজানুর রহমানকে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
এদিকে আওয়ামী লীগ সরকারে পতনের পর ফরিদগঞ্জ উপজেলা সদরে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করে। বিকালে একটি বিক্ষোভ মিছিল থানায় প্রবেশের চেষ্টাকালে গেট ভেঙে ফেললে পুলিশ আত্মরক্ষার্থে গুলি চালালো শাহাদাত ও এমরান হোসেন (৩৮) নামে দুই জন গুলিবিদ্ধ হয়। এতে মিছিলটি ছত্রভঙ্গ হয়ে যায়। আহতের দ্রুত ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে দ্রুত চাঁদপুর রেফার্ড করলে পথেই শাহাদাতের মৃত্যু হয়। অন্যদিকে এমরান চিকিৎসাধীন রয়েছে।
নিহতের বাড়ি পার্শ্ববর্তী রায়পুর উপজেলায় এবং আহতের বাড়ি ফরিদগঞ্জের গুপ্টি পশ্চিম ইউনিয়নের আদর্শ গ্রামে।
ফরিদগঞ্জ স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ইউএইচএফপিও ডা. আসাদুজ্জামান জুয়েল জানান, গুলিবিদ্ধ দুই জনকে হাসপাতালে নিয়ে আসার পর একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় রেফার্ড করা হয়েছে। অন্যজন চিকিৎসাধীন রয়েছে।
চাঁদপুর ২৫০ শয্যার সরকারি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিক্যাল অফিসার ডা. আসিবুল ইসলাম বলেন, ফরিদগঞ্জ হাসপাতালে একজনকে আনা হয়েছিল। তিনি গুলিতে নিহত। বর্তমানে তার লাশ হাসপাতালে রয়েছে।
এ বিষয়ে চাঁদপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সুদীপ্ত রায় জানিয়েছেন, চাঁদপুরের মতলব দক্ষিণ থানা, মতলব উত্তর থানা, হাইমচর থানা, চাঁদপুর সদরের নতুন বাজার ফাঁড়ি, কচুয়া থানা, ফরিদগঞ্জ থানায় আক্রমণ হয়েছে। এসব ঘটনায় আহত কতজন হয়েছেন তা তিনি নিশ্চিত নন।
এদিকে, চাঁদপুর সদর উপজেলার লক্ষ্মীপুর মডেল ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) আলোচিত চেয়ারম্যান সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খান পিটুনিতে নিহত হয়েছেন। জানা গেছে, সোমবার (৫ আগস্ট) বিকালে নিজ এলাকা থেকে পালিয়ে যাওয়ার সময় বালিয়া ইউনিয়নের ফরক্কাবাদ বাজারে এসে জনরোষে পড়েন। সেখানে নিজের পিস্তল থেকে গুলি করে নিজেদের আত্মরক্ষা করতে পারলেও পার্শ্ববর্তী বাগাড়া বাজারে এসে জনতার মুখোমুখি হন। সেখানেই জনতার পিটুনিতে নিহত হয় সেলিম খান ও তার ছেলে চিত্রনায়ক শান্ত খান।









