কুমিল্লার গোমতীপাড়ের বাসিন্দাদের নির্ঘুম রাত কাটছে। তাদের আতঙ্ক কখন নদীর বাঁধ ভেঙে বাড়িঘরে পানি ঢুকবে। এরই মধ্যে পানিবন্দি অবস্থায় দিন কাটছে কুমিল্লার বিভিন্ন উপজেলার ১০ লক্ষাধিক মানুষের। তিন দিন ধরেই চরম সংকটে দিন কাটছে তাদের। অনেকে এখনও পাননি ত্রাণ সহায়তা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত বাড়ছিল কুমিল্লার গোমতী নদীর পানি। ফলে আদর্শ সদর, বুড়িচং, ব্রাহ্মণপাড়া, দেবিদ্বার, মুরাদনগর ও দাউদকান্দি উপজেলার গোমতীর তীরবর্তী মানুষজন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন। কখন বাঁধ ভেঙে যায়, সে আতঙ্কে আছেন তারা।
আদর্শ সদর উপজেলার জালুয়াপাড়া, টিক্কারচর, চাঁনপুর, বানাশুয়া, বুড়িচং উপজেলার কামারখাড়া, ভান্তি, মিথিলাপুর, গোবিন্দপুর এলাকায় ঘুরে দেখা যায়, পানি বেড়ে গোমতীর তীর ছুঁই ছুঁই করছে। নদীর তীরবর্তী দুই পাড়ের মানুষজন নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বেড়িবাঁধে অবস্থান করছেন। অনেকের বাড়িঘর ডুবে গেছে।
বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত বুড়িচং উপজেলার কামারখাড়া ব্রিজের পশ্চিম পাশে সেচের জন্য তৈরি করা নালা দিয়ে গোমতী থেকে পানি প্রবাহিত হচ্ছিল। এ সময় শতাধিক স্থানীয় মানুষের সঙ্গে অর্ধশত স্বেচ্ছাসেবী পানি নির্গতের জায়গাটিকে বাঁধ দিয়ে রাখার চেষ্টা চালান। অপরদিকে গোমতীর পাড়ে বাঁধ মেরামত, খাবার বিতরণ ও উদ্ধারকাজে জেলা প্রশাসন, বিজিবি, ফায়ার সার্ভিস, বিএনপিসহ বিভিন্ন সংগঠনের কার্যক্রম দেখা গেছে।
কুমিল্লা পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আবদুল লতিফ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘গোমতীর পানি বিপদসীমার ১ দশমিক ২ মিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। যেকোনো সময় পাড় ছাপিয়ে প্লাবিত হতে পারে গোমতী পাড়ের জনপদ। এরই মধ্যে এসব এলাকার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।’
গোমতীর সদর উপজেলার অংশ পরিদর্শন করেছেন কেন্দ্রীয় বিএনপির ত্রাণ ও পুনর্বাসন বিষয়ক সম্পাদক আমিন-উর-রশিদ ইয়াছিন। দিনব্যাপী তিনি দুপুরের জন্য রান্না ও শুকনো খাবার বিতরণ করেছেন। এ ছাড়া বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির, ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশসহ বিভিন্ন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ও ব্যক্তিকে নিজেদের উদ্যোগে খাবার বিতরণ করতে দেখা গেছে।
এদিকে, চৌদ্দগ্রাম, নাঙ্গলকোট, লাকসাম ও মনোহরগঞ্জ, বরুড়ায় ১০ লাখের বেশি মানুষ পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছেন। দুই তৃতীয়াংশ বাড়িঘর ডুবে গেছে। বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তাদের কাছে পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছায়নি।
কুমিল্লার জেলা প্রশাসক খন্দকার মু. মুশফিকুর রহমান বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য শুকনো খাবার ও চিকিৎসা সামগ্রী পৌঁছানোর চেষ্টা চলছে। পাশাপাশি উদ্ধার তৎপরতার জন্য নৌবাহিনীকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।’









