রাঙামাটিতে ছয় দিন ধরে চলমান বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা ঢলে এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছে ১৫ হাজার মানুষ। পানিতে তলিয়ে গেছে দুই হাজার ১০০ হেক্টর জমির ফসল। এর মধ্যে বাঘাইছড়ি, লংগদু ও নানিয়ারচরে ব্যাপকভাবে ফসলের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যার আর্থিক ক্ষতি প্রায় ৪৪ কোটি টাকা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, টানা বৃষ্টি ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে কাপ্তাই হ্রদের পানি বেড়ে যাওয়ায় কাপ্তাই বাঁধের ১৬টি জলকপাট গত রবিবার সকালে খুলে দেওয়া হয়েছিল। ছয় ঘণ্টা পর ওই দিন দুপুর ২টার দিকে জলকপাটগুলো পুনরায় বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। জলকাপাট দিয়ে এক ফুট করে প্রতি সেকেন্ডে ১৮ হাজার পানি নিষ্কাশন হয়েছে। ইতোমধ্যে ভাটি অঞ্চলে পানি কমতে শুরু করলেও এখনও ডুবে আছে লংগদু, নানিয়ারচর, বরকল, জুরাছড়ি, বিলাইছড়ির কয়েকটি গ্রাম। ডুবে আছে বাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রাঙামাটির অতিরিক্ত পরিচালক তপন কুমার পাল বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘বন্যায় জেলায় প্রায় দুই হাজার ১০০ হেক্টর জমির ফসল নষ্ট হয়েছে। এতে প্রায় ১১ হাজার কৃষিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন। আউশ, আমন ও গ্রীষ্মকালীন শাকসবজি পচে অন্তত ৪৪ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।’
কোন উপজেলায় কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা উল্লেখ করে এই কৃষি কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘বাঘাইছড়ি উপজেলায় এক হাজার ৩৪১, লংগদুতে ৩০৫, নানিয়ারচরে ১২৬ দশমিক ৬, সদরে ৯৭ দশমিক ৭৯, বরকলে ৪৮, কাউখালীতে ৪৭, জুরাছড়িতে ৪৭ দশমিক ২, বিলাইছড়িতে ৪৪, কাপ্তাইয়ে ৪৩ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পানি কিছুটা কমলেও এসব জমিতে থাকা ফসল পচে গেছে। তবে পানি পুরোপুরি নেমে গেলে এসব জমিতে বোরো ধান, ভুট্টা, সরিষা, সূর্যমুখী, ফুলকপি, বাঁধাকপি, বেগুন ও টমেটোসহ শাকসবজি চাষাবাদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য চাষিদের সহায়তা করা হবে।’
রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের দেওয়া তথ্যমতে, পানি কমতে শুরু করলেও এখনও পানিবন্দি অবস্থায় আছে ১৫ হাজার মানুষ। ১০ উপজেলায় ৯২ মেট্রিক টন ত্রাণসামগ্রী বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৪৭ মেট্রিক টন বিতরণ করা হয়েছে। বাকিগুলো পানি কমলে বিতরণ করা হবে।







