চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডে এন এস করপোরেশন নামের শিপ ইয়ার্ডে দুর্ঘটনার কারণ তদন্তে দুটি কমিটি করবে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন। এর মধ্যে একটির নেতৃত্বে সীতাকুণ্ড উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও অপরটির নেতৃত্বে থাকবেন ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক। পাশাপাশি চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন চার জনকে ১৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। শনিবার (৭ সেপ্টেম্বর) চট্টগ্রামের ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক রাকিব হাসান বাংলা ট্রিবিউনকে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
তিনি বলেন, ‘সীতাকুণ্ড শিপ ইয়ার্ডে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করা হবে। এতে কোনও অবহেলা কিংবা ত্রুটি ছিল কি না তা যাচাই খতিয়ে দেখবে তদন্ত কমিটি। রবিবারের মধ্যে এ কমিটি গঠন করা হবে। ভবিষ্যতে যাতে কোনও কারখানায় এমন দুর্ঘটনা না ঘটে এ বিষয়েও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক বলেন, ‘শিপ ইয়ার্ডে ১২ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। বাকি চার জন চট্টগ্রাম মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। এ চার জনকে ১৫ হাজার টাকা করে চিকিৎসা বাবদ অর্থ সহায়তা করা হবে।’
এদিকে, বিকাল ৫টার দিকে চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটে আহতদের দেখতে যান চট্টগ্রামের অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (সার্বিক) ও জেলা পরিষদের প্রশাসক মুহাম্মদ আনোয়ার পাশা। তিনি দুর্ঘটনায় আহতদের চিকিৎসার খোঁজ নেন। তাদের চিকিৎসায় যাতে কোনও ধরনের ত্রুটি না হয় এ বিষয়ে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার জন্য সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের নির্দেশনা প্রদান করেন।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানিয়েছে, শনিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সীতাকুণ্ডের কুমিরা এলাকার এস এম করপোরেশন ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিকট শব্দে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে শিপ ইয়ার্ডে আগুন ধরে যায়। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধার কাজ শুরু করে।
চট্টগ্রাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ তসলিম উদ্দিন বলেন, ‘সীতাকুণ্ডের একটি শিপ ইয়ার্ডে জাহাজ কাটার সময় বিস্ফোরণের ঘটনায় আহত ১২ জনকে হাসপাতালে আনা হয়েছে। তাদের ৩৬ নম্বর বার্ন ইউনিটে ভর্তি দেওয়া হয়। এর মধ্যে আট জনকে ঢাকায় হস্তান্তর করা হয়।’
চমেক হাসপাতালে ভর্তি হওয়া আহত ১২ জন হলেন- জাহাঙ্গীর (৪৮), আহমদুল্লাহ (৩৮), কাসেম (৩৯), সাগর (২০), আল আমিন (২৩), কারিমুল (২১), হাবিব (৩৬), বরকত উল্লাহ (২৩), আনোয়ার হোসেন (৫০), রফিফুল (৩০), রফিক (৩০) ও সাইফুল (৩০)।
আশংকাজনক অবস্থায় ঢাকায় পাঠানো আট জন হলেন- বরকত উল্লাহ (২৩), আনোয়ার হোসেন (৫০), আল আমিন (৩৬), জাহাঙ্গীর (৪৮), হাবিব (৩৬), কাসেম (৩৯), খায়রুল (২১) ও আহমেদ উল্লাহ (৩৮)।









