চট্টগ্রামের রাউজানের সাবেক সংসদ সদস্য এ বি এম ফজলে করিম চৌধুরীকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হত্যাসহ পাঁচ মামলায় গ্রেফতার দেখানো হয়েছে। একই সঙ্গে রাউজান থানার একটি মামলায় দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। আদালত প্রাঙ্গণে আগে থেকে উপস্থিত বিক্ষুব্ধ জনতা সাবেক সংসদ সদস্যের ফাঁসি দাবি করে স্লোগান দেন ও প্রিজন ভ্যানে ডিম নিক্ষেপ করেন।
মঙ্গলবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৭টা ৩৫ মিনিটে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে ফজলে করিমকে চট্টগ্রাম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে চট্টগ্রাম আদালতে হাজির করা হয়। পরে শুনানি শেষে আদালত রিমান্ড মঞ্জুরের আদেশ দেন। একই সঙ্গে ফজলে করিমের আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তার চিকিৎসা এবং কারাবিধি অনুযায়ী ডিভিশন দেওয়ার নির্দেশ দেন।
এদিকে নিয়মিত আদালত শুরু হওয়ার আগে ফজলে করিম চৌধুরীকে আদালতে হাজির করা হলে বিক্ষুব্ধ লোকজনও আদালত প্রাঙ্গণে জড়ো হন। এ সময় কয়েকজন ফজলে করিমকে বহনকারী প্রিজন ভ্যানে পুলিশি বাধা উপেক্ষা করে ডিম ছুড়ে মারেন।
চট্টগ্রাম জেলা কোর্ট পরিদর্শক জাকির হোসেন বলেন, ‘রাউজান থানায় সম্প্রতি হওয়া মুনিরিয়া যুব তাবলিগ কমিটির কার্যালয় ভাঙচুরের ঘটনায় ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর আবেদন করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ। একই সঙ্গে আরেক মামলায় সাত দিনের রিমান্ডের আবেদন করা হয়। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল হারুন শুনানি শেষে ফজলে করিমকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘আদালত রাউজান নোয়াজিশপুরে মুনিরিয়া যুব তাবলিগ কমিটির কার্যালয় ভাঙচুরের মামলায় ফজলে করিমের দুই দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পাশাপাশি আসামির আইনজীবীর আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাবিধি অনুযায়ী চিকিৎসা এবং ডিভিশন দিতে জেল সুপারকে নির্দেশ দেন। এ ছাড়া নগরের আরও তিন মামলায় ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন।’
নগর পুলিশের উপকমিশনার প্রসিকিউশন এ এ এম হুমায়ুন কবির বলেন, ‘নগরের পাঁচলাইশ ও চকবাজার থানার দুই মামলায় পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রামের অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সরকার হাসান শাহরিয়ার ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখান। পাঁচলাইশের মামলাটি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহতের এবং চকবাজার থানার মামলাটি কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাবেক সহসম্পাদক নুরুল আলম হত্যা মামলা।’
একই এজলাসে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আবু বকর চান্দগাঁও থানার বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে নিহত সাইমন হত্যা মামলায় ফজলে করিম চৌধুরীকে গ্রেফতার দেখানোর নির্দেশ দেন। তিনটি মামলায় জামিনের আবেদন করা হলে আদালত শুনানির জন্য পরবর্তী সময়ে দিন ধার্য করেন।
শুনানিতে ফজলে করিম চৌধুরীর পক্ষে আইনজীবী ছিলেন রেজাউল করিম চৌধুরী, এ এইচ এম জিয়াউদ্দিন, ফজলে করিমের স্ত্রী ব্যারিস্টার রিজওয়ানা ইউসুফ, রুবেল পাল প্রমুখ।









