এক অত্যাচারীর বদলে আরেক অত্যাচারীকে বিকল্প হিসেবে দেখছি না: দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম
০৫ অক্টোবর ২০২৪, ২১:৫৭আপডেট : ০৮ অক্টোবর ২০২৪, ০১:৩৬

অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ও সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন, ‘পুরোনো সিন্ডিকেটের বদলে আমরা নতুন সিন্ডিকেট চাই না। রাজনীতির বদল করলাম না, শুধু রাজার বদল করে ফেললাম—এটা হতে পারে না। তাহলে কিন্তু সুফল মিলবে না। এক অত্যাচারীর বদলে আরেক অত্যাচারীকে আমরা বিকল্প হিসেবে দেখছি না।’

শনিবার (৫ অক্টোম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম নগরের একটি রেস্টুরেন্টে বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির জনশুনানিতে এসব কথা বলেন তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি এ জনশুনানির আয়োজন করে। এতে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সম্প্রতি সিলেটে অনুষ্ঠিত এক সংলাপ অনুষ্ঠানের প্রসঙ্গ টেনে বলেন, ওই আলোচনায় উঠে এসেছিল যে এত পরিবর্তনের পরও এখনও কোথায় যেন একটা ভীতি ও আস্থাহীনতা কাজ করে।

জনশুনানিতে সমাজসেবী, মানবাধিকারকর্মী, শিক্ষক, উদ্যোক্তা, ব্যবসায়ী, বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার (এনজিও) কর্মী, শ্রমজীবী সংগঠন ও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠীর প্রতিনিধি, সাংবাদিকসহ বিভিন্ন শ্রেণিপেশার মানুষ অংশ নেন। এতে নাগরিক সেবা, প্রকল্পের সুবিধা পাওয়া না পাওয়া, পার্বত্য চট্টগ্রামের জনগোষ্ঠীদের আত্মপরিচয়, পর্যটনের অভিঘাত, শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থান ও দক্ষতা বৃদ্ধি, জলাবদ্ধতা, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতিসহ বিভিন্ন বিষয়ে উঠে আসে। এসব বিষয়ে অতিথিরা নিজেদের মতামত তুলে ধরেন এবং পরামর্শ দেন।

বক্তাদের আলোচনার প্রেক্ষিতে দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘আজকের সভায় উঠে এসেছে যে রাষ্ট্রের প্রতিটি অঙ্গই দুর্নীতির সঙ্গে যুক্ত হয়ে গেছে। যাদের আইন প্রণয়ন করার কথা, তারাও যুক্ত হয়েছেন। যাদের আইনি সুরক্ষা দেওয়ার কথা, তারাও যুক্ত হয়ে গেছেন। আবার যাদের আইন প্রয়োগ করার কথা, তারাও যুক্ত হয়ে গেছেন। এমনকি যারা উর্দি পরেন, তারাও যুক্ত হয়ে গেছেন। এতে বোঝা যায়, সামগ্রিকভাবে আমরা যে সমস্যার মোকাবিলা করছি, তার আয়তন ও ব্যাপ্তি কত ব্যাপক এবং গভীর। এটাই সুযোগ পরিবর্তনের। এ সুযোগ যদি আমরা হারাই, আবার কোনও দিন খুঁজে পাবো কিনা, জানি না।’

বাংলাদেশের বিদ্যমান অর্থনৈতিক অবস্থার শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির জনশুনানিতে বক্তব্য রেখেছেন দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য আরও বলেন, ‘বাংলাদেশে গত ১০-১৫ বছরের অন্যতম একটি বিষয় হলো, কেমন করে আমলারা ব্যবসায়ী হয়ে গেলেন। আর ব্যবসায়ীরা কেমন করে রাজনীতিবিদ হয়ে গেলেন। অনেকে আবার মনে করিয়ে দিয়েছেন, ব্যবসায়ীরাই শুধু রাজনীতিবিদ হননি, রাজনীতিবিদরাও ব্যবসায়ী হয়ে গেছেন। এখন কোনটা বেশি, কোনটা কম; সেটি দেখার বিষয়। তবে একটা বড় কারণ হলো, যে যার দায়িত্ব থেকে বেরিয়ে অন্যান্য সুবিধা নিয়েছেন।’

সভায় শিক্ষাবিদ মু. সেকান্দার খান বলেন, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির জন্য মানুষ দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। দাম বাড়ার মূল কারণগুলো চিহ্নিত করতে হবে। স্থানীয় পর্যায়ে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনা করে এসব কারণ খুঁজে বের করতে হবে।

গবেষক অধ্যাপক ইদ্রিস আলী বলেন, চট্টগ্রামে জলাবদ্ধতার বেশ কিছু কারণ রয়েছে। নদীদূষণ, পাহাড় ও জঙ্গল কাটা, খাল-নালা ভরাট। এ ধরনের অনেক কিছুই জলাবদ্ধতার জন্য দায়ী। এ জন্য যেসব প্রকল্প নেওয়া হয়েছিল, সেগুলোর ব্যয় বেড়েছে দফায় দফায়।

ইস্পাত উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান বিএসআরএমের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) আমের আলী হুসাইন বলেন, দেশে আমলাতান্ত্রিক জটিলতা প্রকট। লাইসেন্স পাওয়া থেকে শুরু করে সিটি করপোরেশনের কোনও সেবা নিতে গেলেও অনেক সময় চলে যায়। এ ছাড়া কোনও প্রকল্প নেওয়ার জন্য সমন্বিত পরিকল্পনা দরকার।

সভায় অন্য বক্তারা বলেন, সিটি করপোরেশন, সিডিএ ও ওয়াসাসহ প্রায় সব প্রতিষ্ঠান দুর্নীতির ক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। রাজনৈতিক সম্পৃক্ততা, বিচারহীনতা ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নির্লিপ্ততার কারণে এসব ঘটেছে। সে জন্য দুর্নীতিবাজদের যথাযথ শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান।

জনশুনানিতে উপস্থিত ছিলেন- শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির সদস্য ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির অর্থনীতি ও ব্যবসায় শিক্ষা অনুষদের ডিন অধ্যাপক এ কে এনামুল হক, বিজনেস ইনিশিয়েটিভ লিডিং ডেভেলপমেন্ডের (বিল্ড) প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) ফেরদৌস আরা বেগম, ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্নেন্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের নির্বাহী পরিচালক ড. ইমরান মতিন, বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের গবেষণা পরিচালক ড. কাজী ইকবাল, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আবু ইউসুফ, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. সেলিম রায়হান ও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের অধ্যাপক শরমিন্দ নীলোর্মি প্রমুখ।

/এএম/
সম্পর্কিত
‘ক্রিয়েটিভ ইকোনমি’ কী, কেন এত গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার 
বাজেটের আগেই নতুন ধাক্কাবিদ্যুৎ-জ্বালানির দাম বাড়ায় মানুষের পকেটে বাড়তি চাপ 
মে মাসে রফতানি আয় ৪৪০ কোটি ডলার
সর্বশেষ খবর
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
একদিনে হামে আর ৪ মৃত্যু
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
ইরানের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্নে মার্কিন চাপ মানছে না ওমান
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
বিশ্ববিদ্যালয়ে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে ইউজিসি-ইউএন উইমেন উদ্যোগ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
শুরু হচ্ছে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীদের ড্রেস ও জুতা বিতরণ
সর্বাধিক পঠিত
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
চট্টগ্রামে ৬০ কোটি টাকায় আনা জাহাজে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা, বেকায়দায় আমদানিকারক
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
হতাশা থেকে আত্মহত্যা বাংলাদেশ ব্যাংকের অতিরিক্ত পরিচালকের, ধারণা পুলিশের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী