সারা দেশের মতো রাঙামাটিতেও চলছে শারদীয় দুর্গোৎসব। জেলা শহরের প্রতিটি মণ্ডপে চলছে দেবীর আরাধনা। তবে সব কিছুকে পাশ কাটিয়ে সবার দৃষ্টি কেড়েছে শহরের কলেজ গেট এলাকার দুর্গামাতৃ মন্দিরের দেবী দুর্গার প্রতিমা। এই মণ্ডপে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সেজেছেন দেবী দুর্গা।
শহরের প্রবেশমুখে কলেজ গেট এলাকার দুর্গামাতৃ মন্দির। এই মন্দিরে প্রবেশ করেই অবাক হচ্ছেন দর্শনার্থী ও ভক্তরা। কারণ দুর্গা দেবীর গায়ে শাড়ির পরিবর্তে শোভা পাচ্ছে চাকমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী লাল, কালো পিনন-হাদি। বাদ যায়নি লক্ষ্মী ও সরস্বতী। নীল ও লাল রঙের পিনন-হাদিতে লক্ষ্মী, আর ফিরোজা ও সাদা রঙের পোশাকে বীণা হাতে সরস্বতীকে মানিয়েছে বেশ। পাহাড়ি সংস্কৃতিকে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে দেবীর পোশাকে।
মন্দির সূত্র থেকে জানা যায়, রাঙামাটিতে প্রথমবারের মতো এই পাহাড়ি পোশাকে সাজানো হয়েছে দেবী দুর্গাকে। ব্যতিক্রম এই আয়োজন দেখতে দর্শনার্থী ও ভক্তরা ভিড় জমাচ্ছেন মন্দিরে। পূজায় সম্প্রীতির এমন নিদর্শনকে স্বাগত জানিয়েছেন সাবাই।
দুর্গামাতৃ মন্দিরে পূজা দিতে আসা দর্শনার্থী টুম্পা দে জানান, পাহাড়ে বেশ কিছুদিন আগে সহিংসতার মতো ঘটনা ঘটেছিল। আমরা পাহাড়ে সবাই মিলে শান্তিতে বসবাস করতে চাই। সব সম্প্রদায়ের মানুষে যাতে মিলেমিশে বসবাস করতে পারে মায়ের কাছে সেটাই প্রার্থনা করেছি।
সোমা দেবনাথ জানান, রাঙামাটিতে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের মানুষ বসবাস করে। ভেদাভেদ না করে সবাই যেন একসাথে চলতে পারি সেটাই প্রতীমাতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। এটি দেখতে শহরের বিভিন্ন জায়গা থেকে চাকমাসহ বিভিন্ন সম্প্রদায়েরর মানুষ ভিড় করেন।
দুর্গামাতৃ মন্দিরের পুরোহিত আশিষ ভট্টচার্য্য বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, সম্প্রতি পাহাড়ে পাহাড়ি-বাঙালি সহিংসতার ঘটনা ঘটে। আমরা চাই মায়ের মাঝে ভাতৃত্ববোধ-মাতৃত্ববোধ ও সহঅবস্থান ফুটিয়ে উঠে সবার মাঝে যেন শান্তি বিরাজ করে। সেই কারণে দেবী দুর্গার এই ভিন্ন সাজ। সকল সম্প্রদায়ের মানুষ বিষয়টি দাদরে গ্রহণ করেছে। এজন্য আমরা আনন্দিত।
শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদষ্টো সুপ্রদীপ চাকমা, জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মোশারফ হোসেন খান, পুলিশ সুপার ড. এস এম ফরহাদ হোসেনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। পরিদর্শন শেষে উপদেষ্টা জানান, ভবিষ্যতে যেন পূজামণ্ডপ পাহারা দিতে না হয় এবং সবাই যেন শান্তিপূর্ণভাবে বসবাস করতে পারে সেটাই প্রত্যাশা করছি।
জেলা প্রশাসনের তথ্যমতে, রাঙামাটি জেলায় এ বছর ৪৪টি মন্দিরে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।









