বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, ‘বিভিন্ন ধরনের রাজনৈতিক খেলাধুলা চলছে দেশে। অনেকে আমাকে বলেন, আবার কী শুরু হয়েছে। শেখ হাসিনা পালিয়ে গেছে, আমাদের কী আবার এর মধ্য দিয়ে যেতে হবে? আমি বলেছি, চিন্তার কোনও কারণ নেই। যারা রাজনীতি নিয়ে খেলাধুলা করছে, তারা বিএনপির শক্তি অনুধাবন করতে পারছে না। বিএনপির শক্তি বুঝতে পারছে না। এই বিএনপি সেই বিএনপি নয়। এই বিএনপি অনেক শক্তিশালী, এর শেকড় অনেক গভীরে। টলানোর সাধ্য কারও নেই। বিএনপির কয়েকটা সিদ্ধান্ত ইতোমধ্যে সবাই দেখেছে। এরকম সিদ্ধান্ত দিলে এ অবস্থায় যেতে হবে।’
আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রসঙ্গে আমির খসরু বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে যদি নিষিদ্ধ করতে হয় তাহলে নির্বাচনের মাধ্যমে করা সবচেয়ে সহজ। সেটি হবে স্থায়ী নিষিদ্ধ। অন্যভাবে নিষিদ্ধ করলে কাজ হবে না। অন্য কোনও প্রক্রিয়ায় নিষিদ্ধ করতে গেলে সেটি সাময়িক কাজ করবে, দীর্ঘমেয়াদে কাজ করবে না। জনগণ যখন বাতিল করে দেবে সেটাই হবে আসল বাতিল। আমাদের সেদিকে যেতে হবে। সবার অধিকার সমুন্নত রেখে দেশ গড়তে হবে। কারণ আমরা অধিকারের জন্য লড়াই করেছি, অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছি, অধিকারের জন্য জেলে গেছি। সেই অধিকার কেড়ে নেওয়ার অধিকার কারও নেই।’
সোমবার (১১ নভেম্বর) বিকালে চট্টগ্রাম নগরের ইনস্টিটিউশন অব ইঞ্জিনিয়ার্সে বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষে চট্টগ্রাম সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আলোচনা সভা ও নবনির্বাচিত মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, ‘বিএনপিকে জোর করে ক্ষমতার বাইরে রাখার তাদের যে ভাবনা ছিল, ওয়ান-ইলেভেনের বিরাজনীতিকরণ, আবার নতুন চিন্তা, নতুন ভাবনা, ক্ষমতার স্বাদ তো কেউ কেউ পেয়েছেন, মনে রাখছেন এই ক্ষমতা ধরে রাখলে মন্দ কী। কিন্তু এই স্বাদ পাওয়ার কোনও সুযোগ নেই।দেশের মানুষ তার মালিকানা ফিরে পাবার জন্য ১৬ বছর যুদ্ধ করেছে। বিএনপিকে ভাঙার সব ধরনের চেষ্টা হয়েছে। কিছু বাকি নেই, গুম, খুন, মিথ্যা মামলা সব হয়েছে। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে জেলে রেখে বিনা চিকিৎসায় মেরে ফেলার চেষ্টার মধ্যেও টলেনি বিএনপি। কারণ আমাদের অবস্থান অনেক শক্ত।’
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিস্ট সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে আজ যে আরেকটা বাংলাদেশের কথা চিন্তা করছি, একটি গণতান্ত্রিক বাংলাদেশের চিন্তা করছি, ৭ নভেম্বরও ভিন্ন প্রেক্ষাপটে একই বিষয় ছিল। স্বাধীনতার পর যে বাকশাল এবং একদলীয় স্বৈরাচার সৃষ্টি হয়েছিল, সৈনিক-জনতা সেদিন শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে মুক্ত করার মধ্য দিয়ে আরেকটি নতুন বাংলাদেশের সূচনা করেছিল।’
আমির খসরু বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সংস্কার হচ্ছে নির্বাচনি সংস্কার। সব কথা শুনছি, নির্বাচনি সংস্কারের কথা শুনছি না। একটা কমিশন গঠন করেছে, আমরা খুশি হয়েছি। ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছে, আমরা অপেক্ষা করছি। আমরাও কিন্তু নির্বাচনি সংস্কারের জন্য সবকিছু তৈরি করে রেখেছি। আমাদের সংস্কার তো আজকের না, বাংলাদেশে আগামী দিনে কী হবে, সেটা নিয়ে আমরা বহুদিন ধরে কাজ করছি। যেদিন বিএনপি ক্ষমতায় বসবে, সেদিন থেকে সংস্কারকাজ শুরু হবে। কাজেই যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটি নির্বাচিত সরকার দরকার।’
সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের আহ্বায়ক সাংবাদিক জাহিদুল করিম কচির সভাপতিত্বে এবং সদস্যসচিব ডা. খুরশীদ জামিল চৌধুরীর পরিচালনায় এতে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন।









