জমি কিনে পাহাড়ের ওপর কোটি টাকার রিসোর্ট গড়েছেন বান্দরবানের লামা উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মো. মোস্তফা জামালের গাড়িচালক জিয়াউর রহমান। সেই রিসোর্টে প্রতিদিন রাতে মদ-জুয়ার আসর বসে। তবে উপজেলা প্রশাসন বলছে, মদ-জুয়ার আসর বসানোর বিষয়টি জানা নেই তাদের।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সাবেক চেয়ারম্যান মোস্তফা জামালের গাড়িচালক হওয়ার সুবাদে ভাগ্য বদলে গেছে জিয়াউর রহমানের। নানা অনিয়ম-দুর্নীতি করে হাতিয়ে নিয়েছেন কোটি কোটি টাকা। লামায় গড়েছেন কয়েক কোটি টাকার সম্পদ। গড়ে তুলেছেন মিরিঞ্জা ভ্যালি রিসোর্ট অ্যান্ড রেস্টুরেন্ট নামে রিসোর্ট। প্রশাসনের অনুমোদন ছাড়াই এটি গড়েছেন। গত দুই বছর অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে উপজেলা পরিষদের গাড়ি না চালিয়েও বেতন নিচ্ছেন প্রতি মাসে। নিজেই পাজেরো জিপ গাড়ি কিনে জেলাজুড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আর রিসোর্ট ব্যবসা দেখাশোনা করছেন।
মিরিঞ্জা ভ্যালি রিসোর্টের দুজন কর্মী জানিয়েছেন, পাহাড়ের বুকে গড়ে ওঠা মিরিঞ্জা ভ্যালি রিসোর্ট দিনে দেখতে আকর্ষণীয় হলেও রাতের পরিবেশ ভিন্ন। রাত নামতেই পর্যটকরা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন। মালিক জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে সারারাত চলে মদপান, ইয়াবা সেবন ও জুয়া খেলার আসর। অনেক অপরাধী ও মামলার আসামিকে এই আসরে দেখা যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, লামা শহরের প্রবেশপথে এই পাহাড়ের বুকে রিসোর্টের অবস্থান। আশপাশে নেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনও নিরাপত্তা চৌকি। পুলিশ ও প্রশাসনের নজরদারিও নেই।
লামার বাসিন্দা নুরুল হক বলেন, ‘মিরিঞ্জা ভ্যালি রিসোর্ট ও আশপাশের এলাকায় পর্যটকদের কোনও নিরাপত্তা নেই। ওখানে রিসোর্টের প্রশাসনিক অনুমোদনও নেই। তারপরও কীভাবে চলছে, জানা নেই।’
লামা পৌরসভার সাবেক মেয়র মো. জহিরুল ইসলাম বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, ‘জিয়াউর রহমান বেশিরভাগ সময় মদ্যপ অবস্থায় থাকে। প্রায় দিন রাতে মাতাল হলে সবাইকে গালিগালাজ করে। তাই কেউ তার সম্পর্কে মুখ খুলতে চায় না। নানাভাবে হুমকি দেয়। তবে তার রিসোর্টে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি প্রশাসনের নজরে রাখা উচিত।’
এ ব্যাপারে জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমার রিসোর্টে পর্যটকদের জন্য পুরোপুরি নিরাপত্তা রয়েছে। এখানে রাতে মদ, ইয়াবা সেবন কিংবা জুয়ার আসর বসে না। কারা এসব বলেছে, আমি জানি না।’
পাহাড়ের বুকে গড়ে ওঠা ওই রিসোর্টের প্রশাসনিক অনুমোদন নেই বলে জানালেন লামা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ কামরুল হোসেন চৌধুরী। বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য ওই রিসোর্টের আশপাশে কোনও পুলিশ ফাঁড়ি নেই। মদ-জুয়ার আসর বসানোর বিষয়টি জানা নেই। তবে তার একটু দূরে বিজিবির একটি পর্যটনকেন্দ্র রয়েছে। সেখানে পর্যটকদের নিরাপত্তার জন্য পুলিশ ফাঁড়ি দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের।’









