রাখাইনের মংডু শহর বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মির (এএ) দখলের পর ফের সেখান থেকে বিকট শব্দ এসেছে সীমান্তবর্তী কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ ও সেন্টমার্টিনে।
বুধবার (১৮ ডিসেম্বর) সকাল থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত থেমে থেমে গুলির শব্দ পেয়েছেন স্থানীয়রা। এই সময়ের পরও কয়েকবার শব্দ এসেছে। শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তে নাফ নদের ওপারে মিয়ানমারের মংডু টাউনশিপের আশপাশে ৩/৪ কিলোমিটার এলাকায় গোলাগুলি হচ্ছে বেশি।
টেকনাফ সাবরাং ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য রেজাউল করিম এ তথ্য নিশ্চিত জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এসব এলাকা থেকে মিয়ানমার সীমান্ত অনেক দূরে হওয়ায় এপারের মানুষের জন্য তেমন ঝুঁকি নেই।
সেন্টমার্টিন দ্বীপের বাসিন্দা ইউপি সদস্য খোরশেদ আলম জানান, বুধবার সকাল থেকে থেমে থেমে মিয়ানমার সীমান্তে গোলাগুলির শব্দ শোনা গেছে। সেন্টমার্টিনের দক্ষিণে জান্তা সরকারের জাহাজ থেকে আরকান আর্মির উদ্দেশে গুলিবর্ষণ করা হচ্ছে। এতে চরম উদ্বেগে রয়েছে সীমান্তবর্তী এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শেখ এহসান উদ্দীন বলেন, ‘সেন্টমার্টিন দ্বীপকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। তাদের বিষয়ে নিয়মিত খোঁজ নেওয়া হচ্ছে। তবে পর্যটক ও সেন্টমার্টিনবাসীদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। মিয়ানমারে গোলাগুলি পরিস্থিতির কারণে আমাদের বিজিবির পাশাপাশি কোস্টগার্ড নাফ নদ-বঙ্গোপসাগরে টহল অব্যাহত রেখেছে।’
শাহপরীর দ্বীপ সীমান্তের বাসিন্দা খোরশেদ আলম বলেন, ‘বেশ কয়েক দিন পর আবার আজ সকালে ওপার থেকে গুলির শব্দ পাওয়া গেছে। তবে সেটি আগের তুলনায় কম ছিল। জেলেদের কাছ থেকে শুনেছি আগুনের কুণ্ডলীও দেখা গেছে। ফলে রোহিঙ্গাদের এপারে প্রবেশের শঙ্কাও রয়েছে। তবে আমাদের সীমান্তে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে আছেন।
টেকনাফ-২ বিজিবির ভারপ্রাপ্ত অধিনায়ক মেজর সৈয়দ ইশতিয়াক মুর্শেদ বলেন, ‘সীমান্তে বিজিবি সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। অনুপ্রবেশ রোধসহ যেকোনও পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রয়েছে বিজিবি।’









