বিএনপির চট্টগ্রাম উত্তর জেলার আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত

নিজস্ব প্রতিবেদক, চট্টগ্রাম 
৩০ জুলাই ২০২৫, ০২:১১আপডেট : ৩০ জুলাই ২০২৫, ০২:১১

চট্টগ্রামের রাউজান উপজেলায় বিএনপির দুই নেতার দলাদলিতে উত্তর জেলার আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত করা হয়েছে। মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর সই করা একটি চিঠিতে উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়।

বিএনপির চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য ও চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলাম আকবর খোন্দকার এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরী। এই দুই নেতার গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামের রাউজানে। আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে এ দুই নেতাই মনোনয়ন প্রত্যাশী।

জানা যায়, রাউজানে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের পর বিলুপ্ত করা হয় এই কমিটি। সেই সঙ্গে বিএনপির কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পদও স্থগিত করা হয়েছে। 

এছাড়াও আরেকটি চিঠিতে কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পদও স্থগিত করার বিষয়টি জানানো হয়।

মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) বিকালে রাউজান উপজেলার গহিরা ইউনিয়নের সত্তারঘাট এলাকায় এ দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ উভয় পক্ষের অন্তত ৩০ জন আহত হন। এ ঘটনায় গোলাম আকবর খোন্দকার নিজেই আহত হয়েছেন। সংঘর্ষে গোলাম আকবর খোন্দকারের ব্যবহৃত গাড়ি এবং রাউজান থানার ওসির গাড়ি ভাঙচুর করা হয়। আগুন দেওয়া হয় তিনটি মোটরসাইকেলে। খবর পেয়ে পুলিশের পাশাপাশি র‌্যাব এবং সেনাবাহিনীর টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

এ প্রসঙ্গে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ইঞ্জিনিয়ার বেলায়েত হোসেন বলেন, ‘রাউজানে দুই নেতার অনুসারীদের মধ্যে সংঘর্ষের জের ধরে চট্টগ্রাম উত্তর জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করেছে কেন্দ্র। পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর পদ স্থগিত করা হয়েছে।’

গত বছরের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকে বিএনপি নেতা গোলাম আকবর খোন্দকার এবং আলহাজ গিয়াস উদ্দিন কাদের চৌধুরীর অনুসারীদের মধ্যে একাধিক বার সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত ও নিহতের ঘটনা ঘটেছে। এর আগে এসব সংঘাত-সংঘর্ষের ঘটনায় এ দুই নেতাকে কারণ দর্শানো নোটিশ দিয়েছে কেন্দ্র। এতেও তারা দমেনি।

স্থানীয় লোকজন জানান, গত বছরের ৫ আগস্টের পর এ দুই নেতার অনুসারীদের বিরোধ প্রকাশ্যে আসে। বিশেষ করে এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, চাঁদাবাজি, দখল-বেদখল, ঠিকাদারি ব্যবসার নিয়ন্ত্রণসহ নানা কারণে এ দুই নেতার অনুসারীরা দ্বন্দ্ব ও সংঘাতে লিপ্ত হয়। এ দুই নেতার অনুসারীদের হাতে ৫ আগস্টের পর রাউজান উপজেলায় ১৪ জন খুনের ঘটনা ঘটেছে। এরমধ্যে ব্যবসায়ী, যুবলীগ-ছাত্রলীগ এবং বিএনপি ও অঙ্গ সংগঠনের দলীয় নেতাকর্মী রয়েছে।

/এমকেএইচ/
সম্পর্কিত
‘মুক্তিযুদ্ধের সঙ্গে অন্য কোনও ঘটনার তুলনা হয় না’
যুবদলের ১৫১ সদস্যের কেন্দ্রীয় কমিটির অনুমোদন
থানার ভেতরে আটকে বিএনপি নেতাকে মারলো কারা?
সর্বশেষ খবর
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
কৃষিকে আধুনিক ও জলবায়ু-সহিষ্ণু করতে সমন্বিত কর্মপরিকল্পনা জরুরি: প্রধানমন্ত্রী
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
শিক্ষা ক্যাডারে বড় পদায়ন, ৩১ শিক্ষককে বদলি
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
খলিলুর রহমানকে মন্ত্রিসভার অভিনন্দন
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
দিনের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক খবর
সর্বাধিক পঠিত
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
দায়িত্ব ছাড়ার প্রসঙ্গে হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর উদাহরণ টানলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
যুদ্ধবিরোধী প্রস্তাব পাসের পর এবার কী ঘটবে ইরানে
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
শিশু রামিসা হত্যাকাণ্ড: নিজেকে নির্দোষ দাবি ডলারের
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী
মমতার বিরুদ্ধে বিদ্রোহে সফল ঋতব্রত, নেপথ্যে কী